আঞ্চলিক অফিসে দৈনিক ৫শ ই-পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ

0
1722

নানা সীমাবদ্ধতা ডিঙিয়ে অবশেষে আজ মঙ্গলবার থেকে দেশে শুরু হচ্ছে ই-পাসপোর্ট আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ই-পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এর জন্য অভিবাসন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের (ডিপিআই) পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বপ্রথম ই-পাসপোর্ট পাবেন।

এর জন্য গত রবিবারই ডিপিআই কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে তার ফটোগ্রাফ সংগ্রহ করে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ই-পাসপোর্টের জন্য ডিজিটাল স্বাক্ষরও দেন।

আন্তর্জাতিক পরিসরে যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে হাতে লেখা পাসপোর্র্টের বদলে প্রবর্তিত হয়েছিল মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি)। কিন্তু এমআরপিতেও বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতি হচ্ছে, বিধায় ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনাকে আরও নির্ভুল, সহজতর, সময় সাশ্রয়ী ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে ই-পাসপোর্ট চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার।

২০১৮ সালের ২১ জুন ৪৬০০ কোটি টাকার প্রকল্পটি একনেকের সায় পায়। ওই বছরের জুলাইয়ে জার্মান কোম্পানি ভেরিডোসের সঙ্গে চুক্তি করে পাসপোর্ট ও বহির্গমন অধিদপ্তর। সোয়া তিন হাজার কোটি টাকায় বাংলাদেশকে ই-পাসপোর্ট ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করছে তারা। বর্তমানে ই-পাসপোর্ট প্রবর্তন করা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ১১৯তম।

ডিপিআই সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে ঢাকার তিনটি আঞ্চলিক অফিস থেকে ই-পাসপোর্টের সুবিধা পাওয়া যাবে। এর পর পর্যাক্রমে দেশের সব আঞ্চলিক অফিস এবং বিদেশস্থ মিশনগুলো থেকে এই সুবিধা দেওয়া হবে। এর জন্য ডিপিআইর পক্ষ থেকে একাধিক বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে আগামী ছয় মাসের মধ্যে পুরোদমে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম শুরু হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ বলেন, শুরুতে ই-পাসপোর্টের জন্য প্রতিটি আঞ্চলিক অফিসে ৩০০ থেকে ৫০০ আবেদন গ্রহণ করা যাবে। এর পর ক্যাপাসিটি বাড়ার সঙ্গে আরও বেশি আবেদনকারীর আবেদন গ্রহণ করা হবে। ই-পাসপোর্টের জন্য সত্যায়নের প্রয়োজন পড়বে না। থাকছে না হাতে লেখা ফরম ফিলাপের ঝামেলাও। শুধু অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আর পাসপোর্ট পাওয়া যাবে ১০ বছর মেয়াদি।

তিনি আরও বলেন, ই-পাসপোর্ট দিয়ে মিনিটের মধ্যে বিমানবন্দর বা স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সুযোগ আসছে বাংলাদেশেও। এর জন্য দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও দুটি স্থলবন্দরে স্থাপন করা হচ্ছে স্বয়ংক্রিয় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি বা ই-গেট। এসব বন্দরে ৫০টি ই-গেট স্থাপন হবে, যাতে ই-পাসপোর্টধারীরা সহজেই ইমিগ্রেশন পার হতে পারবেন। ইতোমধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৯টি ই-গেট স্থাপন করা হয়েছে।

যেভাবে কাজ করবে ই-গেট

যখন একজন ব্যক্তি ই-গেটের কাছে যাবেন, তখন একটি নির্দিষ্ট স্থানে তার ই-পাসপোর্টটি রাখলে সঙ্গে সঙ্গে গেট খুলে যাবে। নির্দিষ্ট নিয়মে গেটের নিচে দাঁড়ানোর পর ক্যামেরায় তার ছবি উঠবে। এর পর সব ঠিকঠাক থাকলে এক মিনিটের কম সময়ের মধ্যেই যাত্রীরা ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। তবে কেউ যদি ভুল করেন তা হলে লাল বাতি জ্বলে উঠবে। তখন সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সঠিকভাবে ই-পাসপোর্ট ব্যবহারে সহযোগিতা করবেন।

ডিপিআই সূত্র জানায়, শুরুর দিকে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার ই-পাসপোর্ট প্রিন্ট করার চিন্তা নিয়ে এগোনো হচ্ছে। বিষয়টি নতুন হওয়ায় ধীরে ধীরে এ সংখ্যা বাড়ানো হবে। বর্তমানে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ হাজার পাসপোর্টের চাহিদা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে ই-পাসপোর্ট দেওয়া হবে। বর্তমানে বই আকারে যে এমআরপি আছে, ই-পাসপোর্টেও একই ধরনের বই থাকবে।

তবে এমআরপি বইয়ের শুরুতে ব্যক্তির তথ্যসংবলিত যে দুটি পাতা আছে, ই-পাসপোর্টে তা থাকবে না। সেখানে থাকবে পলিমারের তৈরি একটি কার্ড। এই কার্ডের মধ্যে থাকবে একটি চিপ। তাতেই পাসপোর্টের বাহকের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। ই-পাসপোর্টের এই চিপে বাহকের সব তথ্য, স্বাক্ষর, ছবি, চোখের কর্নিয়া এবং ফিঙ্গার প্রিন্ট সিল্ড অবস্থায় সুরক্ষিত থাকে, বিধায় তা কোনোভাবেই পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

ই-পাসপোর্টের ফি

বাংলাদেশে আবেদনকারীদের জন্য ৪৮ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের সাধারণ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫০০ টাকা। একই সময়কালের জরুরি পাসপোর্টের ফি ৫৫০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি ৭৫০০ টাকা। দশ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৫০০০ টাকা, জরুরি ফি ৭০০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি ৯০০০ টাকা। এ ছাড়া ৬৪ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের সাধারণ ফি ধরা হয়েছে ৫৫০০ টাকা, জরুরি ফি ৭৫০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি ১০৫০০ টাকা। ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের সাধারণ ফি ৭০০০ টাকা, জরুরি ফি ৯০০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি ১২০০০ টাকা।

নতুন পাসপোর্টের ক্ষেত্রে অতীব জরুরিতে ৩ দিনে, জরুরিতে ৭ দিনে ও সাধারণ পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে ২১ দিনের পাসপোর্ট পাওয়া যাবে। তবে পুরনো অথবা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট রি-ইস্যু করার ক্ষেত্রে অতীব জরুরি পাসপোর্ট দুই দিনে, জরুরি পাসপোর্ট ৩ দিনে ও সাধারণ পাসপোর্ট ৭ দিনের মধ্যে দেওয়া হবে।

বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারী, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা আলাদা ই-পাসপোর্ট ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য ৪৮ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১০০ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ১৫০ ডলার এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১২৫ ডলার ও জরুরি ফি ১৭৫ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য ৬৪ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১৫০ ডলার ও জরুরি ফি ২০০ ডলার এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১৭৫ ডলার ও জরুরি ফি ২২৫ ডলার ধার্য করা হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে