আজ (৬ ডিসেম্বর) কলারোয়া মুক্ত দিবস 

85


20211206 084235

কামরুল হাসান,কলারোয়া(সাতক্ষীরা)প্রতিনিধি ::

আজ ৬ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক কলারোয়া মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর সাতক্ষীরার কলারোয়া থেকে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে বিতাড়িত করে মুক্তিকামী মানুষ স্বাধীন দেশের পতাকা উত্তোলন করে আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে প্রিয় কলারোয়া মুক্ত দিবস পালন করেন।

দীর্ঘ ৯ মাস কলারোয়ার দামাল ছেলেরা সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে হটিয়ে অবরুদ্ধ কলারোয়াকে এদিন মুক্ত করেন।

সূত্রমতে, মহান মুক্তিযুদ্ধে কলারোয়ায় ৩৪৩ জন বীর সন্তান যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। শহীদ হন ২৭ জন মুক্তিযোদ্ধা, এরমধ্যে কলারোয়ার বীর সন্তান ৯ জন। আর এ পর্যন্ত কলারোয়ার ৮টি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে।

এরমধ্যে কলারোয়া হাইস্কুল ফুটবল ময়দানের পার্শ্বে অবস্থিত গণকবরে শায়িত রয়েছেন গোপালগঞ্জ জেলার অধিবাসী শহীদ মুন্সী সাহেব আলী, মুন্সী মহসীন আলী, সুভাষ চন্দ্র, শিশির চন্দ্র, ও মনোরঞ্জনসহ নাম না জানা আরো অনেকে। দীর্ঘ ৯ মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধে কলারোয়ায় পাকিস্তান  বাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ যুদ্ধ হয় ৬টি।

প্রতিটি যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে পাকিবাহিনীকে পরাস্থ করে। কলারোয়া অঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধা পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে শতাধিক ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত প্রবাসী সংগ্রাম পরিষদ।

প্রবাসী সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে ছিলেন প্রাক্তন এমসিএ প্রয়াত মমতাজ আহম্মেদ, প্রয়াত ভাষা সৈনিক শেখ আমানুল্লাহ, সাবেক সংসদ সদস্য বি,এম নজরুল ইসলাম, প্রয়াত মোসলেম উদ্দীন, স্বর্গীয় শ্যামাপদ শেঠ, প্রয়াত ইনতাজ আহম্মেদ, প্রয়াত মোছলদ্দীন গাইন, প্রয়াত ডাঃ আহম্মদ আলী প্রমুখ।

কলারোয়া এলাকা ছিল মুক্তিযুদ্ধের ৮নং সেক্টরের অধীনে। পাকিবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম যুদ্ধ পরিচালনা করেন কলারোয়ার দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা মোসলেম উদ্দীন কমান্ডার ও আব্দুল গফ্ফার কমান্ডার। এই দুই যুদ্ধকালিন কমান্ডারের নেতৃত্বে পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন কলারোয়ার বীর সন্তান সৈয়দ আলী গাজী, গোলাম মোস্তফা, আবুল হোসেন, আ. রউফ মাস্টার, কার্ত্তীক চন্দ্র, আ. মালেকসহ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা।

সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে সংগঠিত রক্তক্ষয়ী ওই যুদ্ধে ৬ শতাধিক পাকিস্তানী সেনা নিহত হয়। কলারোয়ায় পাকি হানাদারদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকটি বড় ধরনের সম্মুখ যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধেই ২৯ জন পাকিস্তানী সেনা নিহত হয়। শহীদ হয় ১৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা।

এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর কলারোয়ার সীমান্ত এলাকা কাকডাঙ্গা যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচন্ড আক্রমনের মুখে হানাদাররা কাকডাঙ্গা ও দমদম ঘাঁটি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।

এভাবে দীর্ঘ ৯ মাস কলারোয়ার বিভিন্ন স্থানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচন্ড আক্রমনে অবশেষে ৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী সেনারা কলারোয়া ছেড়ে পালিয়ে গেলে বীর মুক্তিযোদ্ধারা কলারোয়া মুক্ত করে স্বাধীন দেশের লাল-সবুজের পতাকা (জাতীয়) উত্তোলন করেন।

এই খুশির দিনে কলারোয়ার বিভিন্ন এলাকার মুক্তিকামী মানুষ আনন্দ, উল্লাস প্রকাশের মধ্য দিয়ে মুক্ত জীবনের বিজয়ের প্রকৃত স্বাদ উপভোগ করেন।

উল্লেখ্য, পাকি হানাদার মুক্ত দিবস পালনের লক্ষ্যে কলারোয়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল নানা কর্মসূচি পালন করছে ।



Source link