আজ চৈত্র সংক্রান্তি, বিদায় ১৪২৭

0
90

ঢাকা, ১৩ এপ্রিল – বিদায় বাংলা বছর ১৪২৭। আজ বছর ও ঋতুরাজ বসন্তের শেষ দিন ৩০ চৈত্র। আজ চৈত্রসংক্রান্তি।

আবহমানকাল থেকেই বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হয়ে আসা চৈত্রসংক্রান্তির পার্বণ উদযাপন গত বছরের মতো এবারও হচ্ছেনা। অথচ ১৪২৭ তার শেষ গান গেয়ে বিদায় নেবে আজ। বসন্তকে বিদায় জানিয়ে আসবে নতুন বছর। নতুন দিনের বারতা নিয়ে আসবে বৈশাখ।

সব উৎসবের গলা চেপে ধরেছে ভয়ঙ্কর ভাইরাস করোনা। চৈত্র সংক্রান্তির কোনো উৎসব হবে না আজ। হবে না লোকমেলা, গান-বাজনা, কিংবা লোকজ সংস্কৃতির কোনো আনন্দঘন অনুষ্ঠান।

চৈত্রসংক্রান্তির দিন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শাস্ত্র মেনে স্নান, দান, ব্রত, উপবাস করে কাটান। নিজ নিজ বিশ্বাস অনুযায়ী অন্য ধর্মাবলম্বীরাও নানা আচার অনুষ্ঠান পালন করেন। হয়তো আজো ঘরোয়াভাবে কিছু পালন হবে তার।

আরও পড়ুন : লকডাউন বাস্তবায়নে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবে পুলিশ

জনশ্রুতি আছে- চৈত্র মাসে স্বামী, সংসার, কৃষি, ব্যবসার মঙ্গল কামনায় লোকাচারে বিশ্বাসী নারীরা ব্রত পালন করতেন। এ সময় আমিষ নিষিদ্ধ থাকত। জিয়ল মাছ (পানিতে জিইয়ে রাখা যায় এমন মাছ) যেমন কৈ শিং মাগুরের ঝোল করে খেতেন তারা। থাকত নিরামিষ, শাকসবজি আর সাত রকমের তিতো খাবারের ব্যবস্থা। বাড়ির আশপাশ বিল খাল থেকে শাক তুলে রান্না করতেন গৃহিণীরা। এই চাষ না করা, কুড়িয়ে পাওয়া শাক খেতে বাগানে বেশি বেশি পাওয়া গেলে বিশ্বাস করা হতো- সারা বছরের কৃষি কর্ম ঠিক ছিল। ফলে নতুন বছর নিয়ে দারুণ আশাবাদী হয়ে উঠতেন তারা।

গ্রামের নারীরা এ সময় সাজগোছ করেন ঘরদোর। মাটির ঘর লেপন করে ঝকঝকে করেন। গোয়ালঘর পরিষ্কার করে রাখাল। সকালে গরুর গা ধুয়ে দেওয়া হয়। ঘরে ঘরে চলে বিশেষ রান্না। উন্নতমানের খাবার ছাড়াও তৈরি করা হয় নকশি পিঠা, পায়েস, নারকেলের নাড়ু। দিনভর চলে আপ্যায়ন। গ্রামের গৃহস্থরা এ দিন নতুন জামা কাপড় পরে একে অন্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। একসময় এমনই ছিলো চৈত্রসংক্রান্তির ধরণ।

চৈত্রসংক্রান্তির আরেকটি বড় উৎসব ‘চড়ক’, এবার তাও হবেনা। গ্রামের জনপদে চৈত্রসংক্রান্তির মেলা না হওয়ায় বিক্রি হবেনা মাটি, বাঁশ, বেত, প্লাস্টিক ও ধাতুর তৈরি বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্র ও খেলনা। বিক্রি হবেনা বিভিন্ন প্রকার খাবার, মিষ্টি ও দই। হবেনা বায়স্কোপ, সার্কাস, পুতুল নাচ বা কোন হইচই। তবু আজ চৈত্র সংক্রান্তি।

এবারও দ্বিতীয়বারের মত করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পয়লা বৈশাখসহ সবধরনের সমাগমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। সারা দেশে আগামীকাল ১৪ এপ্রিল থেকে সাত দিনের জন্য লকডাউন ঘোষনা করা হয়েছে। এই অবস্থায় চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে কোন আনুষ্ঠানিকতা থাকছে না। থাকবে না উৎসবের আমেজ।

প্রথম ডেউয়ের চেয়েও এবার সংক্রমণ অনেক বেশি। সংগত কারণে একইভাবে গত বছরের মতো এবারও বর্ষবরণ উৎসবের উপর সরকার বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে লোক সমাগম এড়িয়ে ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। একাত্তরের পর গত বছর নববর্ষের প্রথম প্রহরে রমনার বটমুলে ছায়ানটের অনুষ্ঠান হয়নি। এবছরও থাকছেনা ছায়ানটের নতুন বছরের বন্দনা। অন্যদিকে রমনার বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান থেকে ছায়ানট সরে আসলেও জানা গেছে এ উপলক্ষে নতুন কিছু গান রেকর্ড করা হয়েছে । নববর্ষের দিন সকালে এগানগুলোসহ সভাপতি সনজীদা খাতুনের কথন বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হবে।

আগামী বছরটা যেন হয়ে উঠে করোনাভাইরাসমুক্ত। আগামি বছরের দিনটি হয়ে উঠুুক আনন্দের ও উৎসবের- এটাই প্রার্থণা।

সূত্র : রাইজিংবিডি
এন এইচ, ১৩ এপ্রিল

Source link