আজকের তারুণ্য: পর্ব ২৯

0
95


তরুণরাই জাতির কর্ণধার,নতুনের বার্তাবাহক।তাই তরুণ দের ঘিরে YSSE  আয়োজন করে থাকে ‘ আজকের তারুণ্য ‘ যেখানে উঠে আসে তরুণদের সাফল্যের গল্প,তাদের স্বপ্ন, ও সমাজের জন্য রাখা অবদানের কথা।

১৪ জনুয়ারি,২০২১ তারিখে আয়োজিত হয়ে গেলো ‘ আজকের তারুণ্য ‘ এর ২৯ তম পর্ব। এ পর্বে অতিথি হিসেবে ছিলেন দীপ্ত সাহা এবং মাহমুদুল হাসান লিখন।পর্ব টি উপস্থাপনা ও পরিচালনা করেছেন YSSE এর ইন্টার্ন রিশতা তাবাসসুম হক এবং ইমরান মুজিব।

মাহমুদুল হাসান লিখন Hello Task এর প্রতিষ্টাতা এবং সিইও। এছাড়াও তিনি ডেভেলপমেন্ট সেক্টরে ৪ বছর নিযুক্ত ছিলেন যেখানে তিনি সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী বিশেষ করে দরিদ্র মহিলাদের উন্নয়নে কাজ করেছেন। এবং আমাদের দ্বিতীয় অতিথি দিপ্ত সাহা Khamar-e এর বিজনেস লিড হিসেবে কর্মরত আছেন।

মাহমুদুল হাসান লিখন বেড়ে উঠেছেন জন্ম শহর পাবনায় এবং পড়াশোনা করেছেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। উদ্যোক্তা হওয়ার যাত্রা শুরু আকস্মিকভাবেই। কৃষি বিষয়ে পড়ালেখা করলেও মাহমুদুল হাসান লিখন ব্যাবসা শুরু করেছেন প্রযুক্তি বিষয়ক স্টার্টআপ এর মাধ্যমে। 

তার ২০১৭ সালে যাত্রা শুরুর প্রাথমিক প্রনদক  ছিল এমন একটি ডেলিভারি সার্ভিস এর প্রবর্তন করা যেখানে যেকোনো পন্যই ঘরে বসে অর্ডার করেই পাওয়া সম্ভব। সেই স্বপ্ন থেকে তারা নিজেদের অ্যাপ উদ্বোধন করলেন।কিন্তু শীঘ্রই তারা এটা উপলব্ধি করেন, ক্রেতাকে সুবিধা দেয়ার থেকে যা বেশি জরুরি তা হচ্ছে ক্রেতার চাহিদা অনুধাবন করা। সেই ভাবনা থেকেই মোড় ঘুরে যায় তাদের ব্যবসার এবং তারা শুরু করেন গৃহকর্মী নিয়োগ এর একটা ব্যাবস্থা। সঠিক সময়ে সঠিক উদ্যোগ নিতে পারাই ‘hello task’ গ্রহণযোগ্যতা পৌঁছে দেয় তুঙ্গে।

দীপ্ত সাহা বেড়ে উঠেছে নেত্রকোনায়।পড়ালেখা করেছেন বুয়েটে। পড়ালেখার পাশাপাশি তিনি সক্রিয় ছিলেন বিতর্ক,বিজনেস কম্পিটিশন, ছাত্র রাজনীতি সহ নানান কার্যকলাপ এর সাথে।তিনি বিশ্বাস করেন এই এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটি থেকে যে আত্তবিশ্বাস তার মাঝে গড়ে উঠেছিল, সেই আত্মবিশ্বাস ছাড়া তিনি আজ সফল উদ্যোক্তা হতে পারতেন না।

দীপ্ত সাহা স্বপ্ন দেখেছিলেন একজন সফল উদ্যোক্তা হবার। তার চোখে ব্যাবসার সবচেয়ে সম্ভাবাময় বিভাগ মনে কৃষি। ব্যাবসা দাড় করানোর প্রধান প্রতিকূলতা তাদের ছিল অর্থায়ন ও কৃষকের হাতে প্রযুক্তি তুলে দেয়া। সেই প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায় তিনি  তার সহযোগীরা বোঝার  চেষ্টা করেছেন কৃষকের চাহিদা।তাদের উপলব্ধি দেশের কৃষির টেকসই উন্নয়ন তখন এ হবে যখন ব্যাবসায়ী ও কৃষক উভয় এ লাভবান হবার পরিবেশ পায়। এই ভাবনা থেকেই এগিয়ে চলছে khamar-e এর পথচলা।

উঠতি উদ্যোক্তা ও স্বাপ্নিক উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে একটি উপদেশ রেখেছেন মাহমুদুল হাসান লিখন ওর দীপ্ত সাহা। তাদের উপদেশটি ছিল যোগাযোগ দক্ষতা কে শাণিত করা। নেটওয়ার্কিং বাড়ানো,ও বাংলা ও ইংরজিতে সাবলীল কথন একটি ব্যাবসা উদ্যোগকে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে,মনে করেন তারা উভয়েই।

মাহমুদুল হাসান লিখন ও দীপ্ত সাহা উভয়েই সফল তরুণ উদ্যোক্তার অসাধারণ দৃষ্টান্ত। একটি স্বপ্ন, মানুষের চাহিদা বোঝা ও সমাজের কল্যাণের উদ্দেশ্যে কিছু করা – এই তাদের সাফল্যের সূত্র। তাদের এই পথচলা প্রতিটি তরুণ এর জন্য একটি চমৎকার অনুপ্রেরণার উৎস।

 

আনিকা তাসনিম হক। 

ইন্টার্ন, YSSE



Source link