“আজকের তারুণ্যের” ৫৬তম পর্বে অরা ও রিতুর ‘আয়ুশি’ নিয়ে সফল হয়ে উঠার গল্প

211


গত ২৩ই জুলাই ২০২১সালে YSSE দ্বারা আয়োজিত তরুণদের দিকনির্দেশনা এবং অনুপ্রেরণা মূলক অনুষ্ঠান “আজকের তারুণ্য” এর ৫৬তম পর্বের অতিথি হিসেবে আমাদের সাথে ছিলেন নভেরা তাসনুভা এবং আসমাঊল হুসনা রিতু। YSSE Academy এর হেড অব অপারেশন্স মুসফিরাত তাবাসসুম এবং YSSE এর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ইন্টার্ন ফাইরুয নাহার মেলা এর যৌথ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচারিত হয়েছিল YSSE এর ফেসবুক পেজ থেকে।

তারা দুজনই হ্যান্ডপেইন্টেড পোষাকের অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান “আয়ুশি” এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা। নভেরা তাসনুবা অরা কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করেছেন ইসলামিক ইউনির্ভারসিটি অফ টেকনোলজি থেকে। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন Shop-Up-এর জুনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে।

আসমাউল হুসনা রিতু বর্তমানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের “পাব্লিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিকস” বিভাগের শেষ বর্ষের একজন ছাত্রী। তিনি Center for Qualitative Research-এ রিসার্চ এসিস্ট্যান্ট হিসেবেও কর্মরত রয়েছেন।

“আয়ুশি” তৈরির আইডিয়া কোথা থেকে আসে তার পেছনের গল্প জানতে চাওয়ায় তারা বলেন, আঁকাআঁকির ঝোঁক ছিল ছোটবেলা থেকেই, তাই গতবছর লকডাউনের সময়টা বেছে নিয়েছিলাম বিভিন্ন জিনিসের উপর পেইন্ট করে। আমরা যেহেতু হ্যান্ড পেইন্ট এর কাজ করেছি তাই দুইজনই ভাবলাম এমন কিছু করা যায় নাকি। অনেকটা শখের বশে শুরু করেছিলাম যা এখন আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্ট হয়ে গিয়েছে। ১৯ জুলাই আমরা প্রথম পেজটা ওপেন করি, এখন প্রায় ৩৬০০+ ফলোয়ার আছে পেজের। প্রথমে এক মাসের মতো সময় নিয়ে আমরা স্যাম্পল রেডি করি। কলেজের বন্ধুবান্ধব সহ আমরাও কিছু নাম সাজেস্ট করি। আয়ুশি নামটাই শেষ পর্যন্ত সিলেক্ট করার কারণ হচ্ছে এর অর্থ দীর্ঘজীবী, আমাদের উদ্যোগটাও যেন অনেক বছর যায়, বড় কিছু যেন করতে পারি সেই চিন্তা থেকেই নামটা রাখা। এরপর পেজের লোগো ডিজাইন থেকে শুরু করে পেজটাকে সবার থেকে আলাদা করার জন্য কি করা যায় তা করার চেষ্টা করতে থাকি। সেই জন্য আমরা আমাদের পেজের একটা লক্ষ্য ঠিক করলাম “We give visions to your imaginations”। একটা ফটোশুট ও ভিডিও তৈরি করে একদিনের মধ্যে পেজের কাজ শুরু করি। 


হ্যান্ড পেইন্ট এর জন্য অন্য কোন মাধ্যম বেছে না নিয়ে পোশাক কেন বেছে নিলেন এবং কিভাবে আয়ত্ত করলেন এটি?
কাগজ, কানভাসে আঁকাআঁকি করতাম কিন্তু লকডাউনে অবসর সময়ে ভাবলাম বাসার পুরানো কাপড়কে কিভাবে কাজে লাগানো যায় সেই থেকেই আইডিয়াটা মাথায় আসে।

“আজকের তারুণ্যের” ৫৬তম পর্বে অরা ও রিতুর 'আয়ুশি' নিয়ে সফল হয়ে উঠার গল্প

“আজকের তারুণ্যের” ৫৬তম পর্বে অরা ও রিতুর ‘আয়ুশি’ নিয়ে সফল হয়ে উঠার গল্প


পরিবার এবং অন্যদের সাপোর্ট কেমন ছিল?
আমাদের পরিবার ও ফ্রেন্ডদের সাপোর্ট ছিল অনেক বেশি। বিশেষ করে আমাদের দুইজনের মা সবসময় ছোট- বড় সব বিষয়ে আমাদের অনেক উৎসাহ যেমন দিয়েছে তেমনই বিভিন্ন সাজেশন-মতামত দিয়েছে কাজের ব্যাপারে। পরিবারের সাপোর্ট ছাড়া এতদূর আসা সম্ভব ছিল না। আমাদের ফ্রেন্ডরাও প্রোডাক্ট নিয়ে সাজেশন মতামত দেয় যা আমাদের আরও ইম্প্রুভ করতে সাহায্য করেছে। আমাদের প্রথম থেকেই ভালো রেসপন্স আসা শুরু করে, আমাদের কলেজ ফ্রেন্ডরা আমাদের অনেক উৎসাহ দেয়।


নিজেদের অন্য কাজের পাশাপাশি আয়ুশির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, এক্ষেত্রে টাইম ম্যানেজমেন্ট কিভাবে করেন?
স্টুডেন্ট থাকা অবস্থায় একটা বিজনেস করা কিছু ক্ষেত্রে কষ্টকর যখন পরীক্ষা থাকে। এছাড়া যেকোনো অবসর সময় কিংবা ছুটির দিনগুলোতে আয়ুশির জন্যই সময় বরাদ্দ থাকতো। একজনের প্রেসার থাকলে আমরা কাজ ভাগাভাগি করে নেই। দিন দিন আমরা অনেক অর্ডার পাচ্ছি, প্রি-অর্ডার ভিত্তিক কাজ হলেও ১৫-২০ দিনের যে ডেডলাইন সেটা মেইন্টেইন করতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে যেহেতু দুইজনই ওনার ও পেইন্টার। তাই আয়ুশির এক বছর উপলক্ষে আমরা একটা এক্সিবিশন রেখেছি। তারা তাদের আর্ট সাবমিট করবে সেখান থেকে আমরা সিলেক্ট করবো আর যদি আমাদের সাথে কাজ করতে চায় ভবিষ্যতে তাহলে সেটারও সুযোগ আছে।


প্রায় এক বছর হতে চললো আয়ুশির, এক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ গুলো কি ছিল?
যেহেতু হাতের কাজ তাই অনেক সময় বেশি অর্ডার দুইজন কাজ করেও শেষ করতে পারতাম না, অনেক সময় কান্সেল করতে হতো। এ বিষয়টা আমাদের জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে আমাদের এ উদ্যোগের অনেক গর্বের বিষয় যে এখন আমরা আরও মানুষ নিতে পারছি, উদ্যোগটা বড় হচ্ছে।


অনেক সময় এমন হয় যে আপনি যে দামে প্রোডাক্ট সেল করছেন সেম প্রোডাক্ট অন্য কেও কম দামে সেল করে, এ ক্ষেত্রে কোন স্ট্র্যাটেজি নিয়ে সামনে আগানো যায়?
প্রোডাক্ট এর দাম একেক জায়গায় একেক রকম হতে পারে প্রোডাক্ট এর কোয়ালিটি, মেটারিয়াল , সার্ভিস কেমন দিচ্ছি, কত খরচ হচ্ছে এইসব ফ্যাক্টর গুলো ভেবেই দাম নির্ধারণ করা হয়। অনেকের দাম কমের কারণ হচ্ছে তার উৎপাদন খরচ কম তাই। আর আমরা কাস্টমারের বাজেট হিসেবে প্রোডাক্ট কাস্টোমাইজ করে দেওয়ার সুযোগ দেই।


অন্যান্য পেজের থেকে আয়ুশি কেন আলাদা হিসেবে মনে করেন?
আমাদের যে লক্ষ্য আছে তাই যথেষ্ট আমাদের আলাদা পরিচিতি দেওয়ার জন্য। আশেপাশে অনেক ধরণের পেজ দেখবেন তবে খুব কমই আছে যেখানে মনের মতো করে কাস্টোমাইজ করে দেওয়ার সুযোগ আছে। আমরা আমাদের কাস্টমারের কল্পনাকে পোশাকে তুলে ধরি নিজেদের ডিজাইন এর মাধ্যমে। সব উৎসবকে কেন্দ্র করেই আয়ুশি প্রোডাক্ট নিয়ে আসে, সেইসব প্রোডাক্টেও রঙ, কাপড়, ডিজাইন কাস্টোমাইজ করে দেওয়ার সুযোগ আছে।


লকডাউনেও কিভাবে প্রোডাক্ট মেটারিয়াল,ডেলিভারি এবং অন্যান্য বিষয়গুলো ম্যানেজ করেন?
আমাদের আয়ুশির পথচলাই শুরু হয়েছে আসলে লকডাউনে। আমাদের প্রোডাক্ট মেটারিয়াল গুলো নির্দিষ্ট কিছু ডিলারদের থেকেই আসে। প্রথম থেকেই প্ল্যানিং করে কাজ শুরু করেছি যেহেতু লকডাউনে সশরীরে আমরা কোথাও যেতে পারবো না তাই কোথায় কার থেকে ভালো কোয়ালিটির জিনিস পাবো তা এনালাইসিস করতে হয়েছে। হোম ডেলিভারি থাকায় সব স্বাস্থ্যবিধি মেনেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।


আয়ুশি নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
আমাদের বর্তমান যে ইভেন্টটা চলছে ‘চিত্রকথন’ সেটাকে সাক্সেস্ফুল করা যেন আমরা আরও কিছু আর্টিস্ট পাই আমাদের সাথে কাজ করার জন্য। এছাড়া ইচ্ছা আছে আমাদের একটি শপ দেওয়া। তবে এটা শুধু পণ্য কেনাবেচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে এমনটা নয়, আমাদের কল্পনার ভবিষ্যৎ আয়ুশি হবে এমন একটি শৈল্পিক জায়গা যেখানে মানুষ এসে এই শিল্পটাকে অনুভব করবে, সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে পারে আর বুঝতে পারবে একটি হ্যান্ড পেইন্ট করা কতোটা কষ্টকর। আমরা দেশের বাইরেও সম্প্রতি প্রোডাক্ট ডেলিভারি দিয়েছি তাই চাই দেশের বাইরেও যেন নিজেদের দেশীয় প্রোডাক্ট পৌঁছে দিতে পারি। আমরা শুধু হ্যান্ডপেইন্টেড পোষাকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবো তা নয়, আমাদের ইচ্ছা আছে হ্যান্ডপেইন্টেড হোম ডেকোর প্রোডাক্টসহ আরও অনেক ধরণের প্রোডাক্ট নিয়েই কাজ করতে চাই।


যারা নতুন উদ্যোক্তা তাদের উদ্দেশ্যে যদি কোনো উপদেশ থেকে থাকে?
কোন কাজের উপর ভালোলাগা থাকলে পর্যাপ্ত প্ল্যানিং করতে হবে আস্তে আস্তে এগিয়ে যাওয়ার জন্য। প্ল্যানিং করে বসে থাকলে চলবে না কেননা এখন ঘরে ঘরে উদ্যোক্তা তাই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার আগেই অন্য কেও করে ফেলতে পারে। যেকোনো উদ্যোগ শুরুর পর ধৈর্য ধরতে হবে, লেগে থাকতে হবে হতাশ হওয়া যাবে না। কাজের প্রতি ইচ্ছা, ভালোবাসা ও রিসার্চ করতে হবে। 

এই লাইভ থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে, কোনো উদ্যোগ শুরু করতে হলে পর্যাপ্ত পরিকল্পনা ও পরিশ্রমী হতে হবে। কাজের প্রতি ভালোবাসা থাকতে হবে। 

আমাদের আরও ব্লগ পড়তে ক্লিক করুন এখানে

সৈয়দা মুমতাহিনা বিনতে নবী তিশা 

ইন্টার্ন, কন্টেন্ট রাইটিং ডিপার্টমেন্ট 

YSSE



Source link