“আজকের তারুণ্যের” ৫৫তম পর্বে জাবের উবায়েদ ও তার স্টার্টআপ নিয়ে সফল হয়ে উঠার গল্প

300


গত ১৫ই জুলাই ২০২১সালে YSSE দ্বারা আয়োজিত তরুণদের দিকনির্দেশনা এবং অনুপ্রেরণা মূলক অনুষ্ঠান “আজকের তারুণ্য” এর ৫৫তম পর্বের অতিথি হিসেবে আমাদের সাথে ছিলেন “জাবের উবায়েদ”। YSSE এর কন্টেন্ট রাইটিং বিভাগের ইন্টার্ন সাদিয়া হুমায়রা এর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচারিত হয়েছিল YSSE এর ফেসবুক পেজ থেকে।

 

জাবের উবায়েদ” তরুণদের জন্য অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান Bangladesh Youth Initiative এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি। বর্তমানে তিনি কর্মরত রয়েছেন প্রোজেক্ট এ্যাসোসিয়েট হিসেবে Centre for Peace & Justice of Brac University -এর সাথে। এছাড়াও তিনি ফেলো হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন Teach for Bangladesh এর সাথে এবং Physically-challenged Development Foundation এর সাথে সংযুক্ত ছিলেন Youth Network Manager হিসেবে।

 

জাবের উবায়েদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক ও প্রশাসন বিভাগ থেকে গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করেছেন। ছোটবেলা থেকে তার স্বপ্ন ছিল একজন উকিল হওয়ার। ২০১৪ সাল থেকে তিনি বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম এর সাথে যুক্ত হয়েছেন এবং তখন থেকে স্বপ্ন দেখেছেন ডেভেলপমেন্ট সেক্টরে কাজ করার(বিশেষ করে এডুকেশন নিয়ে কাজ করার)।

 

Bangladesh Youth Initiative তৈরী করার আইডিয়া কোথা থেকে আসে এবং এটি কী কী কাজ করে থাকে জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, “২০১৭সালে হঠাৎ করেই এটি শুরু করা। কারণ ২০১৭সালে হাওড় অঞ্চলের প্রায় ৬৩টি হাওড় বন্যায় তলিয়ে যায়। পরপর ২বছরের অকাল বন্যায় তাদের সব ফসল নষ্ট হয়ে যায়। আর ঐ সময় লক্ষ্য করলাম যে বেসরকারি এবং সরকারি সংস্থাগুলো মানুষের খাদ্য ও অন্যান্য কাজে সহায়তা করছে কিন্তু শিক্ষা নিয়ে কারো কোনো আগ্রহ ছিলনা। যেহেতু শিক্ষার হার ঐ সব অঞ্চলে এমনিতেই কম তার উপর প্রাকৃতিক দূর্যোগ, সব মিলিয়ে শিক্ষা নিয়ে ডিমোটিভেটেড চিন্তা ভাবনা চলে আসে। আর সেই কারণেই আমরা আমাদের প্রথম প্রোজেক্ট শুরু করি মোট ১২০০জন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপক্রম বিতরণ করা, তাদের অভিভাবক এবং বিদ্যালয় এর শিক্ষকদের সাথে কথা বলা ইত্যাদি নানানভাবে তাদেরকে অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করি। আর এই নিয়েই Bangladesh Youth Initiative এর যাত্রা শুরু হয়।”

 

বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে সবথেকে বেশি কী সহায়তা করেছিল জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, “বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের হয়ে কাজ করা সত্ত্বেও আগে এটা ভাবিনি যে আমিও এমন কিছু নিয়ে কাজ করবো। আর তখন আমি একটি সংগঠনের youth manager হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঠিক ঐ সময়ে নতুন করে কিছু শুরু করা অনেক চ্যালেঞ্জিং এর বিষয় ছিল। তখন থেকেই আমার বন্ধু জাহিদুল ইসলাম সবসময় আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। তাছাড়া আমি আমার সিনিয়রদের কাছ থেকেও অনেক অনুপ্রেরণা পেয়েছি।”

 

তার জীবনের অনুপ্রেরণা কী বা কে ছিল জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, “আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হলো আমার বড় ভাই। কারণ আমি আমার জীবনে এডুকেশন সম্পর্কীয় বিষয়ে অনেক অসচেতন ছিলাম। তো সে জায়গা থেকে সব তথ্য দেয়া, মোটিভেট করা, গাইড করা ইত্যাদি এসব কিছুতে গুরুত্তপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।”

 

Tech for Bangladesh এর কাজগুলো কীভাবে হয়ে থাকে জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, “Tech for Bangladesh খুবই ফাসিনেটিং একটি মডেল যা গ্লোবালি কাজ করে থাকে। তারা বিশ্বাস করে যে, প্রতিটি শিশুরই সমান অধিকার আছে শিক্ষা পাওয়ার। এখানে সব গরীব, এতিম, প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা প্রদান করা নিয়ে মূলত কাজ করা হয়। আর এদের যারা ইয়াং অ্যাম্বাসেডর তারা হচ্ছে বিভিন্ন বিশ্বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীগণ এবং যারা বিভিন্ন অর্গানাইজেশন এর সাথে কাজ করছে। তাদেরকে বিভিন্ন ধাপ পাড় করেই এই ফেলোশিপ প্রদান করা হয়। তাদেরকে প্রাইমারি স্কুলে অ্যাসাইন করা হয় অ্যাসিস্ট্যান্ট টিচার হিসেবে ২বছরের জন্য। তাছাড়া তাদেরকে ৬-৭ সপ্তাহের জন্য ইন্টারন্যাশনাল ট্রেনিং ও দেয়া হয়ে থাকে। ফেলোশিপ এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এখানে তারা কাজ করে টাকা উপার্জনও করতে পারে এবং সাথে পেয়ে থাকে মাস্টার্স ডিগ্রি পড়াশোনা করার সুযোগ।”

“আজকের তারুণ্যের” ৫৫তম পর্বে জাবের উবায়েদ ও তার স্টার্টআপ নিয়ে সফল হয়ে উঠার গল্প

বর্তমানে তিনি Brac university তে Center for peace and justice এর প্রোজেক্ট অ্যাসোসিয়েট হিসেবে আছেন। তাদের কাজ নিয়ে কিছু বলতে বলায় তিনি বলেন, “আমি যেহেতু এডুকেশন সেক্টরেই দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। সেক্ষেত্রে Center for peace and justice শিক্ষার্থীদের এডুকেশন, লার্নিং, সিভিক এনগেজমেন্ট নিয়ে কাজ করছে। এখানে বিশেষত ওমেন এম্পাওয়ারপেন্ট, নেটওয়ার্কিং, ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করা হয়। তারা কীভাবে কমিউনিটি সোসাইটির ওয়েলফেয়ার নিয়ে কাজ করতে পারেন তা শেখানো হয়। এছাড়া ২টি ইউনিভার্সিটিতে women peace ambassador নামে ইনিশিয়েটিভ শুরু করেছি। তারা কোভিড এর অ্যাওয়ার্নেস, মিস-ইনফরমেশন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তাছাড়াও আমরা Social Women Entrepreneurship ও দিয়ে থাকি যার মাধ্যেমে তারা ব্যাবসায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছেন(সাথে মানুষকে ইকোনমিকালি, ফিনান্সিয়ালি সাহায্য ও করে যাচ্ছেন)।”

 

Bangladesh Youth Initiative এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কিছু বলতে বলায় তিনি বলেন, “আমরা মূলত ৩টি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছিলাম। তা হলো, তরুণদের মধ্যে অ্যাক্টিভ সিটিজেনশিপ এর মূল্যবোধ তুলে ধরা, পলিটাইন ইনক্লোজ এজিপশন নিয়ে কাজ করা, ইনক্লুসিভ সাসটেইনেবল রুরাল ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করা। তাছাড়া আমরা একটি ইনস্টিটিউশন শুরু করেছি যেখানে তারা বিভিন্ন সফ্ট স্কিল শিখতে পারবে। শিক্ষা নিয়ে ‘ অদম্য ‘ এর পাশাপাশি আরও একটি প্রোজেক্ট রয়েছে যার নাম ‘ রিমোট স্কুলিং’ । সামনে আরো ইচ্ছা আছে ৩০-৪০ হাজার শিশুদের শিক্ষা ব্যবস্থা যেন করে দিতে পারি। করোনাকালিন সময়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় যে গ্যাপটা তৈরী হয়েছে সেটা যেন মিনিমাইজ করতে পারি সেই উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি বর্তমানে। এছাড়াও একটি অর্গানাইজেশন কীভাবে সেল্ফ রেলিয়েন্ট হতে পারে এবং সোসাইটিতে কী বা কেমন ইমপ্যাক্ট ফেলতে পারে এমন প্রোজেক্ট নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে ভবিষ্যতে।”

 

Bangladesh Youth Initiative এর মত যারা নতুন স্টার্টআপ শুরু করতে চান তাদের উদ্দেশ্যে কিছু দিকনির্দেশনা দিতে বলায় তিনি বলেন, “আমি মনে করি –
-আপনি যখন কোনো কাজ করবেন শুরুতে সেটা দীর্ঘস্থায়ী করার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। -আপনি কেন , কী নিয়ে কাজটি করছেন সেটা যেন নিজের কাছে ক্লিয়ার থাকে(স্ট্রংলি কমিটেড থাকতে হবে)।
– স্ট্রং টিম তৈরী করতে হবে।
– যত বাঁধা বিপত্তি আসুক হাল ছেড়ে দেওয়া যাবেনা।
– একটি স্টার্টআপ এ কী কী রিস্ক থাকতে পারে সেগুলো ধারণা করে আগে থেকে প্লানিং রেডি করে রাখা।”

 

এই লাইভ থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে, কোনো কাজ শুরু করতে হলে সেটাকে দীর্ঘস্থায়ী মনোভাব নিয়ে করতে হবে এবং এমন কাজ করতে হবে যেন তা আমাদের সোসাইটিতে পজিটিভ ইমপ্যাক্ট ফেলতে পারে।

অন্যান্য ব্লগ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

Razia Rahman
Content writing department
Intern
YSSE



Source link