“আজকের তারুণ্যের” ৫৪তম পর্বে একজন ইঞ্জিনিয়ার এর সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠার গল্প

128


গত ৮ই জুলাই ২০২১সালে YSSE দ্বারা আয়োজিত তরুণদের দিকনির্দেশনা এবং অনুপ্রেরণা মূলক অনুষ্ঠান “আজকের তারুণ্য” এর ৫৪তম পর্বের অতিথি হিসেবে আমাদের সাথে ছিলেন “নাজমুস সাদাত”

“নাজমুস সাদাত” বর্তমানে NITEX এর চিফ গ্রোথ অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। NITEX একটি ফ্যাশন-টেক স্টার্টআপ, যা মুলত সাসটেইনেবিলিটি ভিত্তিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড। এছাড়াও তিনি DearBUBU এর প্রতিষ্ঠাতা এবং RecyClean এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা। DearBUBU একটি ইমোশনাল সাপোর্ট এবং ওয়েলবিইয়িং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। RecyClean প্রতিষ্ঠানটি লোকাল এবইং গ্লোবাল পার্টনার এর সহায়তায় WEEE ম্যানেজমেন্ট এবং রিসাইকেল প্রসেস করে থাকে। তিনি বুয়েটের স্টুডেন্ট থাকা অবস্থায় HULT PRIZE at BUET, The Material Advantage Society (BUET Chapter), BUET Entrepreneurship Development Club (BEDC) এর সাথে যুক্ত ছিলেন। এছাড়াও তিনি Long Walk to Yeoman’s service (LWYs) এর প্রতিষ্ঠাতা এবং এর সাথে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন।

তার নিজের স্টুডেন্ট লাইফ এবং জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে কিছু বলতে বলায় তিনি বলেন, “আমি বুয়েট থেকে Materials and Metallurgical Engineering(MME) নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করেছি। আর আমার ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল একজন পাইলট হওয়ার। পরে চিন্তা করি যে পাইলট হতে পারি আর না পারি Aeronautics Engineering নিয়ে অবশ্যই পড়বো কারণ আমার আগে থেকেই NASA এর সাথে কাজ করার অনেক ইন্টারেস্ট ছিল। তারপর কলেজ এ উঠার পর প্লান আরেকটু চেঞ্জ করে তখন প্লান করি বুয়েটে Mechanical engineering নিয়ে পড়াশুনা করার যেন ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষার জন্য যেয়ে NASA এর সাথে কাজ করার সুযোগ তৈরী করে নিতে পারি। তারপর যখন বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা দেই মেরিট পজিশন এমন আসে যে, Mechanical বাদে যে কোনো সাবজেক্ট নিতে পারবো। তাই অনেক সাবজেক্ট নিয়ে ঘাটাঘাটি করার পর MME নেওয়ার চিন্তা করি। এটি এমন একটি সাবজেক্ট যার প্রেমে পড়ে যাই আমি কারণ এটি হচ্ছে Atomic Structure এর ফাউন্ডেশন রিলেটেড। যেহেতু আমার ইচ্ছা ছিল উচ্চশিক্ষার তাই চিন্তা ভাবনা করি যে, একাডেমিক পড়াশুনার পাশাপাশি রিসার্চ রিলেটেড কাজ করার। কিন্তু আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে কোনো কিছু নিয়ে গবেষণা করার মত তেমন সুযোগ সুবিধা না থাকায় সেটি ও করা হয়ে উঠেনি। তাই রিসার্চ নিয়ে সেই ডেসপারেট এনার্জিকে অন্যদিকে ডাইভার্ট করার চেষ্টা করি। বিভিন্ন এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিস এর সাথে যুক্ত হওয়া শুরু করি, চ্যারিটি নিয়ে কাজ করা শুরু করি। যদিও চ্যারিটি নিয়ে কাজ করার ইন্টারেস্ট আমার অনেক আগে থেকেই ছিল। এভাবে আস্তে আস্তে বিভিন্ন অর্গানাইজেশন এর সাথে কাজ শুরু হয়। আর তখন থেকেই একাডেমিক আর এক্সট্রা কারিকুলার দুটো কাজই সমান্তরালভাবে চলতে থাকে আমার জীবনে।”

 

বর্তমানে আপনি যে দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, সে প্রতিষ্ঠানগুলো তৈরী করার পিছনের গল্প এবং DearBuBu নামটি দেওয়ার পিছনের গল্প জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, “সবকিছু নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা ভাবনা করার পর একসময় বুঝতে পারি যে, আমার ল্যাব এ কাজ করা থেকে মানুষের জন্য কাজ করা বেশ ইন্টারেস্ট ও শান্তির কাজ বলে মনে হয়। আর সেই সময়টাতে নিজে কোনো কারণে ডিপ্রেশন এ ভুগতে ভুগতে আস্তে আস্তে মানুষকে এবং তাদের পেইনগুলোকে অবজার্ভ করা শুরু করি। আর তখন বুঝতে পারলাম যে, এই জিনিসটাতে শুধু আমি না আরো শত শত মানুষ ভুক্তভুগী। আর তা থেকেই ভাবনা আসে এমন একটা অর্গানাইজেশন গড়ে তোলার যেখানে সাইকোলজিস্ট ও সেই ভুক্তভুগী মানুষ কমিউনিকেট করতে পারবে। মানুষের জন্য এমন সার্ভিস অ্যারেঞ্জ করা যাতে তারা সহজেই সাইকোলজিস্টদের সাথে তাদের প্রবলেমগুলো শেয়ার করতে পারে। আমি চিন্তা করছি এমন একটা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার যেখানে টেকনোলজির সাহায্যে অল্পসংখ্যক সাইকোলজিস্ট দিয়ে বেশি সংখ্যক মানুষকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এখানে মানুষ যেকোনো প্রান্তে বসে অ্যাপয়েনমেন্ট নিয়ে সিক্রেটলি সাইকোলজিস্টদের সাথে কনসাল্ট করতে পারবে।
আর নামের ব্যপারটা বলতে গেলে- এমন নাম খোঁজার চেষ্টা করি যা মানুষের পছন্দ হবে। DearBUBU এর অর্থ হচ্ছে Dear (প্রিয়) BuBu (বোন)। তার মানে মানুষ তার বড়বোনের কাছে যেমন কমফোর্ট ফিল করে কথা শেয়ার করতে পারে এখানেও যেন তেমন সাচ্ছন্দ্যবোধ করে তাদের সমস্যাগুলো শেয়ার করতে পারে।”

"আজকের তারুণ্যের" ৫৪তম পর্বে একজন ইঞ্জিনিয়ার এর সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠার গল্প

“আজকের তারুণ্যের” ৫৪তম পর্বে একজন ইঞ্জিনিয়ার এর সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠার গল্প

এখনকার তরুণ তরুণীরা খুব তাড়াতাড়ি কোনো বিষয় নিয়ে ডিপ্রেশন এ চলে যায়। এই জায়গা থেকে ওয়েলবিং এবং মেন্টাল হেলথ মেইনটেইন করে কীভাবে বের হয়ে আসা যায়। সেই সম্পর্কে কিছু বলতে বলায় তিনি বলেন, “আমি যদিও কোনো সাইকোলজিস্ট না তবে আমি আমার বাস্তব জীবন থেকে যা শিখছি বা শেখার চেষ্টা করছি সেই থেকে কিছু জিনিস অবশ্যই না বললে নয় যে –
১. যখনই কেউ কোনো ডিপ্রেশন বা ফ্রাস্ট্রেটেড বা ইমোশনাল ব্রেকডাউন ফিল করবেন, আমি সাজেস্ট করবো তখনই প্রফেশনাল সাইকোলজিস্ট এর শরণাপন্ন হওয়ার।
২.আপনি যে পরিস্থিতির ভুক্তভুগী সেই সম্পর্কীয় প্ল্যাটফর্ম খুঁজে অর গুগল করে সেই সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করুন।
৩.রেগুলার ওয়ার্কআউট করুন, নিজেকে একটা ডিসিপ্লিন এর মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করুন।
৪.নির্ভরযোগ্য মানুষের সাথে নিজের স্ট্রাগল এর কথাগুলো শেয়ার করুন।”

 

RecyClean নামে তার যে প্রতিষ্ঠানটি আছে সেটার মিশন এবং ভিশন নিয়ে জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, “ওয়েস্ট থেকে রিসোর্স এর আইডিয়াটি সবসময় আমাকে ভাবায়। তাছাড়া আমার Metallurgical সাবজেক্ট এর সাথে ওয়েস্ট রিসোর্স এর সম্পর্ক রয়েছে। ২০০৭সালের শেষ দিকে মূলত এই প্ল্যাটফর্ম নিয়ে কাজ করা শুরু হয়। ইলেকট্রিক এবং ইলেকট্রনিক্স যে জিনিসগুলো সেগুলোতে অনেক টক্সিক কেমিক্যাল থাকে। যা যেখানে সেখানে ফেলে দেওয়ার কারণে কেমিক্যালগুলো পরিবেশের পাশাপাশি আমাদের শরীর স্বাস্থ্য এর ও ক্ষতি করে থাকে। আর এসব কারণেই মূলত উদ্যোগটি নেয়া যেন সেগুলোকে প্রোপার ডাম্পিং করা যায় এবং তা থেকে রিসাইকেল এর কাজ ও করা যায়। এই সংস্থাটির দ্বারা আমি ন্যাশানাল, ইন্টারন্যাশানাল নেটওয়ার্ক এর সাথে ইনভলভ থেকে অনেক কাজ করেছি এবং করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের সংস্থার মূল লক্ষ্য হচ্ছে, আমরা সারা বাংলাদেশে এমন এক রিসাইকেল সংস্থা গড়ে তুলবো যার মাধ্যমে ওয়েস্টগুলো ১০০% ডাম্পিং করে সেটা থেকে যে ভেলুয়েবেল পার্ট পাওয়া যাবে সেটাকে রিসাইক্লিং এ ব্যবহার করা।”

 

বিভিন্ন রিসার্চ এর কারণে বিভিন্ন দেশে গিয়ে ইভেন্ট বা অনেক কিছু অ্যাটেন্ড করেছেন তিনি। তো একাডেমিক লাইফ এর পাশাপাশি টাইম কীভাবে ম্যানেজ করেছিলেন জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, “বুয়েটের বিভিন্ন একাডেমিক এক্সাম অর কাজের কারণে আমার অনেক বড় বড় ইভেন্ট অ্যাটেন্ড করা পসিবল হয়নি যদিও। টাইম ম্যানেজমেন্ট এর বিষয়ে যাওয়ার আগে দেখতে হবে একজনের জীবনে এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটি ঠিক কতটুকু গুরুত্তপূর্ণ। আগে টার্গেট সেট করতে হবে লাইফ এর যে সে কোন দিকে যেতে চায় আর সেই অনুযায়ী তার টাইমটা কে ম্যানেজ করে নিতে হবে। আর শুধুমাত্র এক্সট্রা কারিকুলার কাজ করতে হবে ভেবে করলে হবেনা। একটা কাজ যদি কেউ করে তাহলে সেটা অবশ্যই যেন ভালো কোয়ালিটির হয় সেই অনুযায়ী করা উচিত।”

 

এই লাইভ থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে, সবসময় যে কাজগুলো মানুষের জন্য আমরা করবো তা অবশ্যই মন থেকে করতে হবে শুধু করার জন্য করতে হবে এই মানসিকতা নিয়ে করা যাবেনা। আর আরেকটি গুরত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজেকে জানতে হবে এবং প্রতিদিন নিজেকে ডেভেলোপমেন্ট করা নিয়ে কাজ করতে হবে সেটা পড়াশুনা নিয়েই হোক আর এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিজ ই হোক না কেন।

অন্যান্য ব্লগ পড়তে এখানে ক্লিক করুনক্লিক করুন

Razia Rahman
Content writing department
Intern
YSSE



Source link