“আজকের তারুণ্যের” ৫১তম পর্বে সাজিদুল হাসান ও তার সফলতার গল্প

59


গত ১৭ই জুন, ২০২১সালে YSSE আয়োজিত তরুণদের দিকনির্দেশনা এবং অনুপ্রেরণা মূলক অনুষ্ঠান “আজকের তারুণ্য” এর ৫১ তম পর্বের অতিথি হিসেবে আমাদের সাথে ছিলেন “কাজী সাজিদুল হাসান”। YSSE এর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ইন্টার্ন মারিয়াম জাহান সাবিলা এর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি সরাসরি প্রচারিত হয়েছিল  YSSE এর ফেসবুক পেজ থেকে।

“কাজী সাজিদুল হাসান” বর্তমানে Happihub এর প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। Happihub একটি ডিজিটাল ক্যাশব্যাক প্ল্যাটফর্ম এবং এটি তার  একটি নিজস্ব স্টার্টআপ। ২০১৪ সালে North South university থেকে তিনি BBA কমপ্লিট করেন, তখন মেজর সাবজেক্ট ছিল ফাইন্যান্স অ্যান্ড মার্কেটিং। ছাত্রজীবন থেকেই তার শখ ছিল একজন উদ্যোক্তা হওয়ার। আর ভালোলাগার কথা বলতে তার জীবনে দুটো জিনিস ই আছে তা হলো: ১. মিউজিক ও ২. বই পড়া। ২০১৭সাল পর্যন্ত তিনি পরপর ২-৩টা জব করেছেন ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কীয়। তারপর ২০১৮ সালে তার জীবনের নতুন যাত্রা শুরু করেন একজন উদ্যোক্তা হিসেবে “happihub” নিয়ে।

Happihub শুরু করার পর তার কী কী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয় এবং সেগুলো কীভাবে প্রশমিত করেন জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, ” সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এর বিষয় হচ্ছে একটা স্ট্যাবল জায়গা থেকে আনস্ট্যাবল জায়গায় মুভ করা। বাংলাদেশে আরো একটি চ্যালেঞ্জিং এর বিষয় হলো কো ফাউন্ডার ম্যানেজ করা এবং এমন মানুষগুলোকে খুঁজে বের করা যারা এই কাজ করতে আগ্রহী। যেহেতু আমার আগে থেকেই শখ ছিল একজন উদ্যোক্তা হওয়ার, তো ২০১৭সালে জব ছেড়ে দেওয়ার পর জমানো টাকা ইনভেস্ট করি happihub এর উপর। এরপর কো ফাউন্ডারদের ম্যানেজ করে তাদের নিজের আইডিয়া শেয়ার করলাম। আর ঐখান থেকেই মূলত happihub এর যাত্রা শুরু হয়।”

Happihub এর শুরু করার পিছনে অনুপ্রেরণা কে বা কী ছিল জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, “অনুপ্রেরণা বলতে কারা ছিলেন বলতে গেলে ইন্টারন্যাশনাল (স্টেভ জবস, ওয়ারেন বাফেট, জ্যাক মা) এবং বাংলাদেশী (চালডাল এর ওয়াসিম ভাই, ইলিয়াস ভাই, সেবা এক্সপ্রেস এর আদনান ভাই) অনেকেই ছিলেন।
আর অনুপ্রেরণা কী ছিল বলতে গেলে ছোটবেলায় স্কুলের গল্প মনে পড়ে যায়। তখন আমি আর আমার বন্ধু মিলে ঈঁদ এর আগে কার্ড এর ব্যবসায় টাকা ইনভেস্ট করাতে দেখলাম সেখান থেকে দ্বিগুণ প্রফিট পাই। মূলত সেখান থেকেই বিজনেস করার চিন্তা মাথায় আসে। আর জীবনের সব কিছু থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করে যখন মনে হয়েছে যে এখন বিজনেস শুরু করার সময় তখনই শুরু করে দেই এই যাত্রা।”

"আজকের তারুণ্যের" ৫১তম পর্বে সাজিদুল হাসান ও তার সফলতার গল্প

“আজকের তারুণ্যের” ৫১তম পর্বে সাজিদুল হাসান ও তার সফলতার গল্প

Happihub কেন তার কম্পিটিটরদের থেকে আলাদা জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, “প্রথমে আমরা যখন শুরু করি তখন ছিল এটি ডিসকাউন্ট প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু এখন আমরা দিয়ে থাকি ক্যাশ ব্যাক রিওয়ার্ড প্ল্যাটফর্ম। আর বাংলাদেশে এমন কোনো প্ল্যাটফর্ম নেই যারা রিওয়ার্ড পয়েন্ট প্রোভাইড করে কাস্টমারদের বিল রিসিট এর উপর। তাছাড়াও মার্চেন্টদের জন্য অটোমেশন তৈরী করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।”

বাংলাদেশের মার্কেটে বিটুবি লিড জেনারেশনের কার্যকর কৌশলগুলো সম্পর্কে জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, “বিটুবি এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে – “to convince the owner’s to work with you and pay you”। তাছাড়া লিড জেনারেশন কীভাবে করবেন সেটার জন্য আপনাকে দুটি জিনিস মাথায় রেখে কাজ করতে হবে: ১. How will you impactfully increase their product and ২. Reduce their existing cost. তাছাড়া বাংলাদেশের মার্কেটগুলো এখনও ডেভেলপ করার চেষ্টা করছে ডিজিটাল লিটারেসিতে। ডাটাগুলো কীভাবে কাজ করে, CRM কীভাবে কাজ করে  একজন উদ্যোক্তা হিসেবে তা অনেকেই জানেনা। আর এসব জিনিস নিয়ে যদি লেগে থাকা যায় তাহলে অবশ্যই সাফল্য সম্ভব হবে এই ফিল্ডে।”

ভবিষ্যতে happihub কে তিনি কোন পজিশনে দেখতে চান জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, “যেহেতু এটি একটি রিওয়ার্ড পয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম তাই লাইফস্টাইল ওয়ালেট এর অনেক সুযোগ সুবিধা রয়েছে। আর আমাদের টার্গেট হচ্ছে ২০২৪সালের মধ্যে বাংলাদেশের বেস্ট লাইফস্টাইল ওয়ালেট এপ্লিকেশন হওয়ার। বিকাশ, নগদ এর মত এমন কিছু প্ল্যাটফর্ম থাকা সত্ত্বেও আমরা তাদের থেকে কিছু ভিন্ন করার চিন্তা করছি যেখানে সবাই অনেক ভিন্নরকম সুযোগ সুবিধা পাবে। বিশেষকরে আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য এমন কিছু সুযোগ সুবিধা নিয়ে আসবো যারা কী না ক্রেডিট কার্ড, লোন এসব এফোর্ট করতে পারেননা।”

যারা উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখে তাদের উদ্দেশ্যে কোনো পরামর্শ আছে কী না জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, “যদিও আমার জীবনে কিছু অভিজ্ঞতা আছে তারপরও আমি এখনও শিখে যাচ্ছি। তাই যদি আমার মত এমন কেউ উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করতে চান তাহলে আপনার লার্নিং ফেস এর মাইন্ড নিয়ে নামতে হবে। কারণ, একজন ফাউন্ডার এবং বিজনেসম্যান হিসেবে আপনাকে প্রথমে অনেক রোল প্লে করতে হয়। কখনো আপনাকে অ্যাকাউন্ট্যান্ট, সেলসম্যান, প্রোজেক্ট/প্রোডাক্ট ম্যানেজার, অপারেশন ম্যানেজার এর কাজ ও করতে হতে পারে। যখন আপনি একজন ইম্প্যাক্টফুল ফাউন্ডার হতে চান যা দিয়ে আপনি মানুষের উপকার করতে পারবেন তাহলে শুরুটা অবশ্যই আপনার লার্নিং ফেস এর মাধ্যমেই  হবে। তাহলে আপনি ধারণা পাবেন আপনার প্রতিটা ডিপার্টমেন্ট এর প্রয়োজনীয়তাগুলো সম্পর্কে যা একজন সফল বিজনেসম্যান হয়ে উঠার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আরেকটা কথা সবসময় মনে রাখতে হবে যে – Be humble, Be wise, Be kind, Be honest when you are talking with anyone.”

এই লাইভ থেকে আমরা জানতে পারি যে, একজন উদ্যোক্তা হিসেবে বিজনেস করতে হলে আপনি যদি একজন ফাউন্ডার হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে অবশ্যই একজন ভালো লিডার ও সেলসম্যান এই দুটি স্কিল ফিলআপ করতে হবে। তাছাড়াও একজন ভালো লিসেনার ও হতে হবে  যেন আপনি বুঝতে পারেন আপনার সামনের মানুষটি কী বলতে চাচ্ছে এবং আপনি কী চান এই দুটি জিনিসের মিশ্রণে যেন কাজ এগোতে পারলে সফলতা অর্জন করা সম্ভব হয়ে উঠবে।

রাজিয়া রহমান
কন্টেন্ট রাইটিং ডিপার্টমেন্ট
ইন্টার্ন
ওয়াইএসএসই



Source link