আগরতলার কারাগারে বসে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করতো মামুন

0
138

ঢাকা, ০৮ ফেব্রুয়ারি – ভারতের আগরতলার কারাগারে বসে রাজধানীর বৃহত্তর মিরপুর এলাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করতো মামুন। অর্থের বিনিময়ে কারাগারে বিশেষ সুবিধা পেতো মামুন। চালাতো মোবাইল ফোন। মোবাইলে যোগাযোগ করেই মিরপুর এলাকায় চাঁদাবাজি করতো সে। তার হয়ে কাজ করতো আরেক পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী কাফরুলের ইব্রাহীম। মামুনের ভাই জামিলও ভারতে পলাতক থেকে মিরপুর এলাকায় আধিপত্য ধরে রেখেছে। সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে পল্লবীর বাইতুন নূর জামে মসজিদ এলাকা থেকে মামুনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ। ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালত থেকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, মামুনের বিরুদ্ধে তারা এখন পর্যন্ত ২৭টি মামলার সন্ধান পেয়েছেন। এর মধ্যে ১৫টি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। দুটি মামলায় যাবজ্জীবন সাজা হওয়ার পরোয়ানা রয়েছে। ২৭টি মামলার মধ্যে চাঁদাবাজি ছাড়াও ছয়টি খুনের মামলা রয়েছে।

যেভাবে উত্থান মামুনের
ছাত্রদল করা মামুন ২০০১ সালের চারদলীয় জোট সরকারের আমলে মূলত বেপরোয়া হয়ে ওঠে। পল্লবীর ধ ব্লকের ৫০ নম্বর প্লটে তাদের বাসা। তার বাবার নাম মৃত নাসির উদ্দিন। ২০০১ সালেই প্রথম পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় মামুন। কয়েকদিন পর জামিনে বের হয়ে আসে আগের চেয়ে বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠে। মিরপুর এলাকায় চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে সে। চারদলীয় সরকারের আমলেই অপারেশন ক্লিন হার্ট শুরু হওয়ার আগে বিএনপির প্রয়াত নেতা নাসির উদ্দিন পিন্টুর পরামর্শে ভারতে চলে যান মামুন। এরপর থেকেই ফেরারি জীবন শুরু হয় তার।

জিজ্ঞাসাবাদে মামুন জানিয়েছ, ২০০৮ সালে সে ভারতীয় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় সে। আগরতলার জেলে দশ বছর কারাবন্দি ছিল সে। কিন্তু কারাবন্দী থাকা অবস্থাতেই মিরপুরের আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করতো সে। মামুন জানিয়েছে, মিরপুরে তার কয়েক ডজন ক্যাডার রয়েছে। চাঁদার টাকা তুলে তারাই মামুনের কাছে পাঠাতো।

পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, ২০১৮ সালে মামুন কারাগার থেকে বের হয়। এরপর সে ভারতীয় পরিচয় নিয়ে একটি পাসপোর্টও তৈরি করে। ওই পাসপোর্ট দিয়ে সে নিয়মিত ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও নেপাল ভ্রমণ করেছে।

শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ
জিজ্ঞাসাবাদে মামুন জানিয়েছে, মিরপুর এলাকার আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাতের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। অনেক স্থান থেকে তারা মিলেমিশেই চাঁদাবাজি করতো বলেও স্বীকার করেছে। মামুন জানিয়েছে, শাহাদাতের লোকজন যেখানে চাঁদাবাজি করতো সেখানে সে কখনও হানা দিতো না। আবার তার জায়গাতেও শাহাদাত হানা দিত না। দুজনই পলাতক জীবন-যাপন করায় মিলেমিশেও মাঝে মধ্যে টাকা-পয়সা ভাগ করে নিত।

পুলিশ জানায়, মামুনদের তিন ভাইয়ের নামেই হত্যা-চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। তার ভাই জামিলও দীর্ঘ দিন ধরে ভারতে পলাতক থেকে ঢাকায় চাঁদাবাজি করছে। জামিলের সঙ্গেও শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাতের সখ্যতা রয়েছে। পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, মামুন তাদের জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারাও নিয়মিত তাদের মাসোহারা বা চাঁদা দিয়ে আসছিল।

ঢাকায় পরিবহন ব্যবসা, স্ত্রী-সন্তান অস্ট্রেলিয়ায়
পলাতক থেকেও ঢাকায় পরিবহন ব্যবসা চালিয়ে আসছিল শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন। একাধিক বাড়িও রয়েছে। ব্যবসা ও চাঁদাবাজি থেকে মামুনের মাসে অর্ধ কোটি টাকা আয় ছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে। এমনকি সে অর্থ দিয়ে মিরপুর এলাকার প্রয়াত বিএনপি নেতা আহমাদ হাসানের মাধ্যমে ৯১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির পদও বাগিয়ে নিয়েছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন চাঁদাবাজির টাকায় দুই সন্তানকে অস্ট্রেলিয়ায় পড়িয়েছে। তার মেয়ে তাসনিম রহমান ও ছেলে রেদোয়ান আহমেদ দুজনই অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। স্ত্রীও মাঝে মধ্যেই ঢাকা অস্ট্রেলিয়া যাতায়াত করে। তবে মামুন এখনো অস্ট্রেলিয়া যেতে পারেনি। ঢাকায় এসে সে নতুন করে আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। সম্প্রতি পল্লবী থানায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় বোমা সরবরাহকারী হিসেবে মামুনের ভাই জামিলের নাম এসেছে।

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন
এন এ/ ০৮ ফেব্রুয়ারি

Source link