অবন্টিত লভ্যাংশ স্থিতিশীল তহবিলে স্থানান্তরের শেষ সময় ৩০ আগস্ট – Corporate Sangbad

72


নিজস্ব প্রতিবেদক : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত যেসব প্রতিষ্ঠানের কাছে বিতরণ না হওয়া লভ্যাংশ রয়েছে তাদেরকে আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে ‘পুঁজিবাজার স্থিতিশীল তহবিল বা ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’এ এই অর্থ জমা দিতে হবে। এ জন্য আর সময় বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বুধবার (২৫ আগস্ট) বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) সভাপতি আজম জে চৌধুরীর কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। গত ১১ আগস্ট বিএপিএলসি’র পক্ষ পাঠানো একটি চিঠির জবাবে এমনটি জানিয়েছে বিএসইসি।

এ বিষয়টি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অবহিত করেছে বিএসইসি।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে পুঁজিবাজার স্থিতিশীল তহবিলে বিতরণ না হওয়া লভ্যাংশর অর্থ ও শেয়ার জমা দিতে হবে। এরপর বিএসইসি’র আর সময় বাড়ানোর সুযোগ নেই। তাই বিভিন্ন কোম্পানির সকল অবণ্টিত লভ্যাংশ এবং ব্রোকারেজ হাউস-মার্চেন্ট ব্যাংকে পড়ে থাকা অর্থ ও শেয়ার পুঁজিবাজার স্থিতিশীল তহবিলে স্থানান্তর করতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে নগদ লভ্যাংশ বা অর্থ ব্যাংক হিসাবে জমা থাকা অবস্থায় কোনো সুদ অর্জিত হলে তাও এ তহবিলে জমা দিতে হবে।

পুঁজিবাজার স্থিতিশীল তহবিলে বিতরণ না হওয়া লভ্যাংশ স্থানান্তরের প্রক্রিয়া দেখভালোর জন্য ডিএসই, সিএসই, সিডিবিএল ও আইসিবিকে দায়িত্ব দিয়েছে বিএসইসি। একইসঙ্গে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদনও বিএসইসিতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ৭ জুলাই পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিলে অবন্টিত লভ্যাংশ স্থানান্তরের জন্য সময় চেয়েছে বিএসইসির কাছে আবেদন জানায় বিএপিএলসি। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত অবন্টিত লভ্যাংশ স্থানান্তরের সময় দেয় বিএসইসি।

যেসব প্রতিষ্ঠানের কাছে রক্ষিত অবন্টিত লভ্যাংশ আছে তা কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের গুলশান করপোরেট শাখায় ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’ এর হিসাবে আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে তিন বছরের অধিক সময় পড়ে থাকা অর্থ-শেয়ার, নন রিফান্ডেড পাবলিক সাবস্ক্রিপশনের অর্থ এ তহবিলে স্থানান্তর করা হবে। লভ্যাংশ ঘোষণা বা অনুমোদনের দিন বা রেকর্ড ডেট থেকে তিন বছর হিসাবে পড়ে থাকা অর্থ তহবিলে জমা দিতে হবে।

তহবিলটির আকার ২০ হাজার কোটি টাকার মতো। এর মধ্যে নগদ লভ্যাংশের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। আর বোনাস স্টক লভ্যাংশের বাজার মূল্য প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। এ তহবিলটি পরিচালনা করবে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ। তহবিলে শেয়ার বা টাকা হস্তান্তরের পরও তা দাবি করতে পারবেন সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী। নিজের দাবির পক্ষে প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বা সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানি বা ব্রোকারেজ হাউস বা মার্চেন্ট ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদনের এক মাসের মধ্যে ওই বিনিয়োগকারীর শেয়ার বা টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

গত ২২ আগস্ট পুঁজিবাজার স্থিতিশীল তহবিল ব্যবস্থাপনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানকে প্রধান করে ১১ সদস্যের বোর্ড অব গভর্নস অনুমোদন দিয়েছে বিএসইসি। বোর্ড অব গভর্নসের অন্যান্য সদস্যরা হলেন- বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শেখ তানজিলা দ্বীপ্তি, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জর (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তারিক আমিন ভুঁইয়া, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) স্বতন্ত্র পরিচালক এ কে এম নুরুল ফজলে বাবুল, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিসিবিএল) পরিচালক ড. মোহাম্মদ তারেক, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) সভাপতি আজম জে চৌধুরী, দি ইন্সটিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) সদস্য এ কে এম দেলোয়ার হোসেন। এছাড়া এ ফান্ড ব্যবস্থাপনার জন্য একজন চিফ অব অপারেশন (সিওও) পদে একজনকে মনোনয় দেবে বিএসইসি।



Source link