অনায়াস জয়ে সিরিজ নিউ জিল্যান্ডের

0
111

ওয়েলিংটন, ০৭ মার্চ – শেষ বলে প্রয়োজন ২। তুমুল আগ্রহ নিয়ে দর্শকরা অপেক্ষায়। পারলেন না ডেভন কনওয়ে। মাত্র ১ রানের জন্য সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে ফিরলেন তিনি। নিউ জিল্যান্ড ইনিংসের শেষ দিকে যে উত্তেজনা এর ছিটেফোঁটাও ছিল না অস্ট্রেলিয়া ইনিংসের শেষ দিকে। দারুণ বোলিংয়ে অনেক আগেই যে ম্যাচ মুঠোয় পুরে ফেলেছে স্বাগতিকরা।

ক্রাইস্টচার্চে সোমবার প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৫৩ রানে জিতেছে নিউ জিল্যান্ড। ১৮৪ রান তাড়ায় অস্ট্রেলিয়া থেমেছে ১৩১ রানে।

দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিলেও কনওয়ে ফিরেন ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে। ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অপরাজিত ৬৫ ছিল তার আগের সেরা।

সফরকারীদের জয়ে বড় অবদান আছে লেগ স্পিনার ইশ সোধিরও। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ২৮ রানে নেন ৪ উইকেট। ১৮ রানে ৩ উইকেট ছিল তার আগের সেরা।

হ্যাগলি ওভালে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা নিউ জিল্যান্ডের শুরুটা ভালো হয়নি। ১৯ রানেই তারা হারিয়ে বসে টপ অর্ডার তিন ব্যাটসম্যানকে।

ড্যানিয়েল স্যামস পরপর দুই ওভারে ফিরিয়ে দেন মার্টিন গাপটিল ও কেন উইলিয়ামসনকে। দুর্দান্ত ইয়র্কারে টিম সাইফার্টকে বোল্ড করেন দলে ফেরা জাই রিচার্ডসন।

শুরুর ধাক্কা স্বাগতিকরা সামাল দেয় কনওয়ে ও গ্লেন ফিলিপসের জুটিতে। চতুর্থ উইকেটে তাদের ব্যাট থেকে আসে ৫১ বলে ৭৪ রান। এই দুইজনের প্রতিরোধ ভাঙেন মার্কাস স্টয়নিস। স্লোয়ার বলে ২০ বলে ৩ ছক্কায় ৩০ রান করা ফিলিপস ক্যাচ দেন কাভারে।

আরও পড়ুন : একদিনের মধ্যে করোনা নেগেটিভ আয়ারল্যান্ডের সেই ক্রিকেটার

দলকে পথ হারাতে দেননি কনওয়ে ও জেমস নিশাম। ১৫ বলে ৩ চারে ২৬ করে নিশাম ফিরলে ভাঙে দুইজনের ৪৭ রানের জুটি।

৩৬ বলে ফিফটি করা কনওয়ে দলের রান বাড়াতে থাকেন মিচেল স্যান্টনারকে নিয়ে। দারুণ ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন কনওয়ে। তিন অঙ্ক ছুঁতে ইনিংসের শেষ তিন বলে ১২ রান দরকার ছিল তার। কেন রিচার্ডসনকে পরপর ছক্কা-চার মেরে ছিলেন পথেই। কিন্তু শেষ বলে নিতে পারেননি ১ রানের বেশি। ১০ চার ও ৩ ছক্কার ইনিংসটি থামে ৯৯ রানে।

রান তাড়ায় অস্ট্রেলিয়ার শুরু ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ১৯ রান তুলতেই চার ব্যাটসম্যানকে হারায় সফরকারীরা। দারুণ সুইং বোলিংয়ে দুটি করে উইকেট নেন টিম সাউদি ও ট্রেন্ট বোল্ট।

প্রথম ওভারে অ্যারন ফিঞ্চকে ফিরিয়ে দেওয়া সাউদি নিজের তৃতীয় ওভারে ফেরান গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকেও। ম্যাথু ওয়েডকে টিকতে দেননি বোল্ট, অভিষিক্ত জশ ফিলিপিও তার শিকার।

নিজের প্রথম ওভারে বোলিংয়ে এসেই স্টয়নিসকে ফিরিয়ে দেন সোধি। সতীর্থদের আসা যাওয়ার মাঝে এক প্রান্ত আগলে ধরেন মার্শ। কিন্তু ফিফটির আগেই তাকে থামিয়ে দেন কাইল জেমিসন। ৩৩ বলে ৪৫ করে তিনি ক্যাচ দেন ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে।

নেমেই আক্রমণ শুরু করা অ্যাসটন অ্যাগারকে থিতু হতে দেননি সোধি। ২ চার, এক ছক্কায় ১৩ বলে ২৩ করা এই অলরাউন্ডারের দুর্দান্ত ক্যাচ নেন জেমিসন।

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়া জয়ের সম্ভাবনা জাগাতে পারেননি এক মুহূর্তের জন্যও। দলের হয়ে ত্রিশ পার করতে পেরেছেন কেবল মার্শ।

শেষ দিকের ব্যাটসম্যানের দ্রুত ফিরিয়ে ১৫ বল আগেই সফরকারীদের ইনিংসের সমাপ্তি টেনে দেন সোধি ও স্যান্টনার।

আগামী বৃহস্পতিবার ডানেডিনে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে দুই দল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নিউ জিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৮৪/৫ (গাপটিল ০, সেইফার্ট ১, উইলিয়ামসন ১২, কনওয়ে ৯৯*, ফিলিপস ৩০, নিশাম ২৬, স্যান্টনার ৭*; স্যামস ৪-০-৪০-২, জ্যাম্পা ৩-০-২০-০, জাই রিচার্ডসন ৪-০-৩১-২, কেন রিচার্ডসন ৪-০-৪২-০, অ্যাগার ২-০-২০-০, স্টয়নিস ২—০-১৭-১, ম্যাক্সওয়েল ১-০-৯-০)।

অস্ট্রেলিয়া: ১৭.৩ ওভারে ১৩১ (ওয়েড ১২, ফিঞ্চ ১, ফিলিপি ২, মার্শ ৪৫, ম্যাক্সওয়েল ১, স্টয়নিস ৮, অ্যাগার ২৩, স্যামস ১, জাই রিচার্ডসন ১১, কেন রিচার্ডসন ৫, জ্যাম্পা ১৩*; সাউদি ৩-০-১০-২, ট্রেন্ট ৩-০-২২-২, জেমিসন ৩-০-৩২-১, নিশাম ১-০-৯-০, সোধি ৪-০-২৮-৪, স্যান্টনার ৩.৩-০-২৯-১)।

ফল: নিউ জিল্যান্ড ৫৩ রানে জয়ী।

সিরিজ: পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে নিউ জিল্যান্ড।

ম্যান অব দা ম্যাচ: ডেভন কনওয়ে

সূত্র : বিডিনিউজ
এন এইচ, ০৭ মার্চ

Source link