অদৃশ্য শক্তি দেশ চালাচ্ছে: মির্জা ফখরুল

82


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: এক ‘অদৃশ্য শক্তি’ দেশ চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রয়াত রাজনীতিক অলি আহাদের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রতি মুহূর্তে আমাদের উপরে খবরদারি করা হচ্ছে। আজকে আওয়ামী ঘরানার সাংবাদিকদের নির্বাচন হচ্ছে। অদ্ভুত কাণ্ড, তারা সবাই তো আওয়ামী ঘরানার। অথচ তাদের কাছে অদৃশ্য জায়গা থেকে মেসেজ আসতে শুরু করেছে- অমুককে ভোট দিতে হবে, অমুককে ভোট দিতে হবে।’

‘অর্থাৎ সারভিলেন্সটা এবং এই অদৃশ্য শক্তিটা এদেশের মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করছে, এদেশের সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করছে। আর এরকম একটা অবস্থার মধ্যেই আমরা গণতন্ত্রের লড়াইটা করছি’- বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এখানে আছেন, আমি তাদের কাছে অনুরোধ করব যে, আমরা আমাদের ছোট-খাটো সমস্যাগুলো ভুলে যাই এই মুহূর্তে। আসুন না ঐক্যবদ্ধ হয়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মতো এক হয়ে লড়াই করি, সংগ্রাম করি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা (বিএনপি) তো লড়ছি। আমরা আপনাদের কাছে এইটুকু আশা করব এই লড়াইয়ে আমরা একসঙ্গে আসি। লেট আস ফাইট টুগেদার। আমরা একসঙ্গে লড়াইটা করি এবং দেশকে এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে বের করে নিয়ে আসি। এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে পতন ঘটিয়ে আমরা একটা গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করি। তারপরে যার সেটা বোঝা-পড়া তারা সেটা করে নেবেন। অন্তত একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আমরা ফিরে আসি।’

কুমিল্লার ঘটনার ইকবাল হোসেনের গ্রেফতারের প্রসঙ্গ টেনে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন ওরা (সরকার) যা বলে তাই ইতিহাস হয়। ওই যে, বছর আড়াই আগে কুর্মিটোলা হাসপাতালে ওখানে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী, মোটামুটি দেখতে ভালো, স্বাস্থ্য-টাস্থ ভালো শক্তিশালী তাকে ধর্ষণ করা হলো। এতো বড় কথা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নারী এভাবে ধর্ষিত হবে। সবাই মিলে প্রতিবাদে তখন সরকার সেই ধর্ষককে গ্রেফতার করল। তার নাম কী মজনু। ছবিটা কেমন? ওর চেহারা কেমন? দেখলে কী মনে হয় গায়ে কতখানি শক্তি। তারপরে যে হাসবে সামনে ৩/৪টা দাঁতই নাই। সেই লোককে ধর্ষণকারী বলে চালানো হলো।’

‘ঠিক এরকম ইকবাল (ইকবাল হোসেন) দেখছেন না এখন। তারপরে এতো বড় ঘটনা। আবার একটা লোক হাজির করে দিলেন। সেই লোক নাকি ভবঘুরে। তার মা বলেছেন, ও নেশাভান করে তো ১০/১২ বছর ধরে, ওর মাথা ঠিক নাই। পুলিশ বলছে, ওকে জিজ্ঞাসা করলে জবাব দেবে কী? বিশ্বাসই করা যাবে না। কারণ তার কথা-বার্তা উল্টা-পাল্টা। অর্থাৎ এমন একটা লোক হাজির করেছেন। সত্যি সত্যি পুলিশ বলছে- এই কিন্তু এই কাজ করেছে’— বলেন মাহমুদুর রহমান মান্না।

প্রয়াত রাজনীতিক অলি আহাদের মেয়ে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সভাপতিত্বে ও ড. জাহিদ-উর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, রাষ্ট্র বিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান জুনায়েদ সাকি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক প্রমুখ।

এর আগে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের প্রতিবাদে সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপি আয়োজিত এক মানববন্ধনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এই সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তারা ১০ টাকা দরে চাল খাওয়ানো কথা বলেছিল। এখন চালের কেজি ৭০ টাকা। তেলের দাম বেড়েছে, চিনির দাম বেড়েছে, ডালের দাম বেড়েছে। তাদের সেদিকে কোনো খেয়াল নেই। তারা নিজেরা লুটপাট করছে, পয়সা বানাচ্ছে, দুর্নীতি করছে। আমাদের স্পষ্ট দাবি চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমাতে হবে।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুর পরিচালনায় মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, মহানগর উত্তরের সভাপতি আমান উল্লাহ আমান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, মীর সরফত আলী সপু, যুব দলের সাইফুল আলম নিরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, ঢাকা দক্ষিন সিটি করপোরেশনের গত নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন, মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক প্রমুখ।

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট





Source link