অদম্য রিনা

0
71


রিনা আক্তার এক সময় বাংলাদেশে যৌনকর্মী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। সে পরবর্তীতে নিজেকে একজন গর্বিত মানব অধিকারকর্মী রূপে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০২০ সালে COVID-19 মহামারী চলাকালীন সময়ে ঢাকার বেকার যৌনকর্মীদের জন্য  তিনি প্রতি সপ্তাহে ৪০০ টির ও বেশি খাবারের ব্যবস্থা করেছেন। তার এই অসাধারণ কাজের ফলস্বরূপ ২০২০ সালে বিবিসির সেরা ১০০ নারীর একজন হিসাবে তিনি স্বীকৃতি পান।

পরিচিতি কর্ম জীবন

রিনা আক্তার ১৯৮৮ সালের দিকে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেন। তার পরিবারের আর্থিক সমস্যা  থাকার  কারণে ঢাকায় তাকে কাজের মেয়ে হিসাবে কাজ করতে দেওয়া হয়।চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ঢাকায় আনা হলেও তার এক আত্মীয় তাকে আট বছর বয়সে পতিতালয়ে বিক্রি করে দেয়। পেটের দায়ে  রিনা আক্তার কে কাজ করতে হয় একজন যৌনকর্মী হিসেবে। তবুও সে সমাজের কাছে হার মানেনি। রিনা আক্তার নিজের এবং তার আশেপাশের অন্যান্য যৌনকর্মীদের অবস্থার উন্নতি করতে চেয়েছিলেন। তাই তিনি দুর্জয় নারী সংঘ সংস্থার সাথে জড়িত হন এবং কিছু দিন পর তিনি লাইটহাউস সংগঠনে যোগদান করেন। লাইটহাউস সংগঠনে একটি ড্রপ-ইন সেন্টার রয়েছে যেখানে নারী যৌনকর্মীরা স্বাস্থ্য এবং আইনী পরামর্শ সহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পেয়ে থাকেন। তাছাড়া, যৌনকর্মী দের বাচ্চা প্রসব এর জন্য পরিচ্ছন্ন এবং স্বাস্থসম্মত জায়গা  ঠিক করে দেওয়া সহ আরো অনেক ব্যাপারে সাহায্য সহযোগিতা করাই হলো রিনা এবং তার স্বেচ্ছাসেবী দলের কাজ। আমাদের সমাজে যৌনকর্মীদের মৃত্যুর পর সহজে জানাজার ব্যবস্থা করা যায় না। যৌনকর্মীদের মৃত্যুর পর যাতে জানাজা দেওয়া হয়, সেই বিষয়টির জন্যও রিনা আক্তার কাজ করে থাকেন।

রিনা আক্তার এর কৃতিত্ব এবং অর্জন সমূহ

কোভিড মহামারী চলাকালীন সময় যখন ঢাকার যৌনকর্মীরা অনাহারে ছিল তখন রিনা আক্তার তাদের মুখে খাবার তুলে দেন।  এই সঙ্কটের মধ্য দিয়ে সরকারের মাধ্যমে অনেক কে সহায়তা করা হলেও যৌনকর্মীদের পর্যাপ্ত সহায়তা দেওয়া হয়নি। করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা থাকার কারণে এইচআইভি এইডসের জন্য রুটিন স্বাস্থ্য পরীক্ষাগুলি বন্ধ হয়ে যায়। কোভিড মহামারীর জন্য জাতীয়ভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়। এর ফলে যৌনকর্মীরা পর্যাপ্ত পরিমাণে কাজ পাচ্ছিল না এবং নিজেদের ভরণপোষণ সহ খাদ্যের ব্যবস্থাও করতে পারছিলো না। এমনকি টাকার অভাবে অনেক যৌনকর্মীদের বাসা ছেড়ে দিতে হয়েছিল বাসা ভাড়া না দিতে পারার কারণে। কারো কারো অবস্থা এতই খারাপ ছিল যে তাদের রাস্তায় থাকতে হয়েছে। এই সংকটময় সময়ে বিভিন্ন এনজিওর সহায়তায় রিনা আক্তার এবং তার দলের সাথে নিযুক্ত সহায়ক কর্মীরা প্রতি সপ্তাহে ৪০০ জন যৌনকর্মীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন।  যাদের থাকার ও জায়গা ছিল না তাদের জন্য থাকার ব্যবস্থা ও করে দেন রিনা আক্তার। মহামারীর দুঃসময়ে এই সকল অসামান্য কৃতকর্মের ফলস্বরূপ রিনা আক্তার কে বিবিসির সেরা ১০০ নারীর একজন হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

রিনা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

রিনা জানান, তিনি বয়স্ক যৌনকর্মী এবং যৌনকর্মীদের বাচ্চাদের শিক্ষার জন্য বড় পরিসরে কাজ করতে চান।প্রবীণ যৌনকর্মীরা যখন কাজ করতে না পারে তখন ভিক্ষাবৃত্তিতে চলে যায়। ভিক্ষা করতে গেলেও তাদের কে যারা যৌনকর্মী হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে তারা তাদের কে কোনো রকম এর সাহায্য দিতে চায় না। রিনা আক্তার বয়স্ক যৌনকর্মীদের সেলাই এর কাজ শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছেন এবং সামনে এই রকম আরো উদ্যোগ নিতে চান যাতে তারা ভিক্ষার বিকল্প হিসাবে কাজ পেতে পারেন।  যৌনকর্মীদের বাচ্চাগুলো যাতে এই পেশার সাথে জড়িয়ে না যায়, তাই তাদের পড়া লেখার বন্দোবস্ত করতে চান রিনা আক্তার। রিনা তার ড্রপ-ইন সেন্টার কে আরো বড় করার স্বপ্ন দেখে  যেখানে যৌনকর্মীদের ছোট ছোট বাচ্চাগুলো একটি ভালো পরিবেশে  থাকতে পারবে যখন ওদের মা কাজ এ ব্যাস্ত থাকবে। সে সব সময় অসহায় যৌনকর্মীদের পাশে থাকতে চান তাদের অধিকার এবং ভালো একটি জীবন নিশ্চিত করার আশায়।

The post অদম্য রিনা appeared first on Youth School for Social Entrepreneurs.



Source link