‘অতীব জরুরী নোটিশ’ কলেজ অধ্যক্ষের সংখ্যালঘুদের ইসলামের দাওয়াত,তীব্র নিন্দা রাজিব শর্মার

চট্টগ্রাম অফিসঃ বাংলাদেশের রাবিয়া শামছ উদ্দিন টেকনিক্যাল স্কুল ও বি এম কলেজের অধ্যক্ষ(ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আমিনুল ইসলাম সোহাগ, উনি গত ২০/০৩/২০১৯ বুধবার শিক্ষা প্রতিষ্টানের সকল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে করে হাতে লিখিত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে উটেন। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানরা তীব্র নিন্দা জানায় ফেসবুকে। এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে মন্তব্য করছেন বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা।

উনি উনার বিজ্ঞপ্তিতে যা লিখেছেঃ

!-- Composite Start -->
Loading...

বিশেষ বিজ্ঞপ্তিঃ
আসালামু আলাইকুম,
এত দ্বারা অত্র প্রতিষ্টানের সকল ছাত্রছাত্রীদের জানানো যাচ্ছে যে, পাঁচওয়াক্ত নামাজ বাধ্যতামূলক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ইসলামের সুশীতলের ছায়াতলে আসার দাওয়াত দেওয়া হলো। ইয়াবা/গাঁজা/ফেন্সিডিল/মদ্যপানে ও ধুমপানের মতো ক্ষতিকর মাদক সেবন পরিহার করে পরিবার ও রাষ্ট্রকে এক সুখী সমৃদ্ধ ও আদর্শ জাতি হিসেবে গড়ে তুলি।(বিষয়টি অতীব জরুরী)।

উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায় অধ্যক্ষ মোঃ আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষর করেন ২০/০৩/২০১৯ এবং উনার এই বিজ্ঞপ্তিকে সমর্থন দিয়ে একইদিনে আর ৬ জন শিক্ষক বা ব্যক্তির স্বাক্ষর আছেন নোটিশটিতে।

এই বিজ্ঞপ্তি নিয়ে দেশের বাইরে পড়াশোনা করা মেধাবী ছাত্র, তরুণ প্রথাবিরোধী ও বিজ্ঞানমনস্ক লেখক রাজিব শর্মা বলেন, ” ধর্ম যে কোন ব্যক্তির ৫টি মৌলিক চাহিদা মধ্যে নেই। তবু একজন ব্যক্তির নৈতিক চরিত্র গঠণ ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখার জন্য পৃথিবীতে শত শত ধর্ম আছে। কলেজে পড়েন এমন ছাত্র বোকা নই যে তার নিজস্ব ধর্ম পালন করবে না! এই লাইনটা সম্পূর্ণ হাস্যকর। কিন্তু পৃথিবীতে একটি মাত্র ধর্ম নই শুধু। প্রত্যেক ধর্ম ভালো পথ শেখায়, মন্দ পথ দূর করার জন্য পরামর্শ দেন। কিন্তু আমি জানি না ফেসবুকে লেখাটা কি আসলে ওনার(অধ্যক্ষের) লেখা কি’না! যদি ওনার লেখা হয়ে থাকেন, ওনার কোন অধিকার নেই যে ‘অতীব জরুরী’ লিখে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কে ইসলামের ছায়াতলে আনার নোটিশ দেওয়া। হ্যাঁ, উনি পারেন ইসলাম ধর্মের মুসলিম জাতি বা সম্প্রদায়কে নামাজ পড়তে, ধর্ম পালন করতে পরামর্শ দেওয়া।শিক্ষক হিসেবে উনার অধিকার অবশ্যই আছে। কিন্তু সংখ্যালঘুদের ইসলামের দাওয়াত দেওয়া, উনি একজন জাতি গঠণের কারখানার চেয়ারে বসে কোন শিক্ষার্থীকে এসব প্রেরণার নামে নোংরামি করতে পারেন না। উনি নোটিশ দিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঠে নামিয়ে দিচ্ছেন যা শিক্ষা জীবনের উদ্দেশ্য নই। উনার পড়া উচিত ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য, ডিজিটাল বাংলাদেশ, স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু রচনাগুলো। এই রচনা থেকে নিজেকে প্রস্তুত রাখা উচিত। শিক্ষা প্রতিষ্টানের ক্ষেত্রে এই অধিকার উনার নাই। আমাদের জন্য একজন শিক্ষক অনেক মূল্যবান। সারা পৃথিবীতে শিক্ষকের স্থান প্রথমে। একজন কলেজ অধ্যক্ষ অনেক মহান, সবার জন্য প্রিয়। কিন্তু কোন সংখ্যালঘুকে কোন ধর্মের দাওয়াত দিতে পারেন না কারণ সংখ্যালঘুদেরও নিজস্ব ধর্ম আছেন। আমি অনেক গির্জা, মন্দির, সিনেহক নিয়ে পড়েছি এবং তাদের অনুষ্টানে যোগদান ও করেছি। কিন্তু অনুষ্টান সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমরা বাংলাদেশী। একজন আরেকজনের অনুষ্টানে যাই, আনন্দ করি, সহভাগিতা লাভ করি। কিন্তু আমি মনে করি সত্যিই রাবিয়া শামছ উদ্দিন টেকনিক্যাল কলেজে’র মতো শিক্ষা প্রতিষ্টান প্রধান বা অধ্যক্ষ কতৃক্ষ এই ধরনের নোটিশ দিয়ে থাকেন তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবেন তরুণ-যুবসমাজ, কারণ কোন সংখ্যালঘু এই দাওয়াত মানবেন না এবং এর যের ধরে কলেজে একটি নৈতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি হবেন। এমনকি রক্তারক্তির মত পরিবেশও সৃষ্টি হবেন। কারণ কোন অবিভাবক তার ছেলে-মেয়েকে ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য কলেজে পাটাইনি। শিক্ষাগ্রহণ করে বাংলাদেশকে সুন্দর ভবিষৎ উপহার দেওয়ার জন্য পাটিয়েছে। আর কলেজে পাঠ্যপুস্তক হিসেবে কোন ধর্ম বিষয় নেই। তাহলে ওনি কিভাবে নিজের মনগড়া নোটিশ দিয়ে সংখ্যালঘুদের আঘাত করতে পারেন? তা কি যতেষ্ট সংখ্যালঘুদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত করা হয়নি? জাতি, ধর্ম বিশেষে প্রাইমারী থেকে নিম্ন মাধ্যমিক পর্যন্ত যার যার ধর্মমতে ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বিদ্যমান। স্কুলে থাকলেও বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের ডিজিটাল শিক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সব ধর্মকে সম্মান করে প্রতিবছর জানুয়ারির ১ তারিখ বই দেন। যার যার নিজস্ব ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার জন্য আলাদা শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপ নেন।

আমি অবশ্যই উল্লেখিত ওনার নিয়ম কানুনে নামাজ ইসলামদের জন্য বাধ্যতামূলক এবং মাদকমুক্ত পরিবেশ চেয়েছেন এর জন্য অধ্যক্ষকে ধন্যবাদ কিন্তু ভিন্ন ধর্মালম্বীদের ইসলামের ছায়াতলের দাওয়াত সম্পূর্ণরুপে নিন্দা জানায়। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান, গারো, মারমা, চাকমাসহ অনান্য উপজাতিদের নিজস্ব ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি আছে। কাজেই বিজ্ঞপ্তিতে ওনার এই উস্কানিমূলক মন্তব্যের বিরুদ্ধে নিন্দা জানাচ্ছি এবং বাংলাদেশ শিক্ষা প্রশাসনের সংখ্যালঘুদের জন্য বিবেচনা করে এসব নোংরা মন্তব্যের বিরুদ্ধে বিহীত ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে মনে করি। “

মতামত দিন

Post Author: newsdesk

A thousand enemies is not enough; a single enemy is. There is nothing as a ‘harmless’ enemy.