‌ঘুম থেকে উঠলেই হাত–‌পায়ের গাঁটে যন্ত্রণা?‌ হেলা করবেন না

ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে আপনার হাত ও পায়ের গাঁট কি শক্ত হয়ে যায়?‌
বা ধরুন গাঁটে দপদপ করা?‌
অসহ্য যন্ত্রণা?‌
অথবা গাঁট ফুলে নীল আর গরম হয়ে উঠে?‌
ছয় সপ্তাহ ধরে চলতে থাকা এই উপসর্গ যদি আপনার বা আপনার প্রিয়জনের শরীরে লক্ষিত হয় তা হলে অবহেলা করবেন না। হতেই পারে এটা রিউমাটয়েড আর্থরাইটিসের লক্ষণ।
সময়মত চিকিৎসা না করালে পঙ্গু হয়ে যাওয়া ছাড়া আপনার গত্যন্তর নেই।
অসহনীয় যন্ত্রণা আর গাঁট ফুলে ওঠা এর প্রধান লক্ষণ। বলে রাখা দরকার, অস্থি সন্ধিকেই মূলত গাঁট বলা হয়। রিউমাটয়েড আর্থারাইটিস বা আরএ (‌RA‌)‌ মূলত হাত–পা, কবজি, কনুই, কাঁধ ও গোড়ালির ছোট ছোট গাঁটগুলিকেই প্রভাবিত করে।
প্রথম ২ বছরের মধ্যে যদি চিকিৎসা না করা হয় তা হলে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার আর কোনো উপায় থাকে না। পঙ্গুত্ব তো বটেই, বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে অকাল মৃত্যুও অনিবার্য। কারণ এই রোগ ক্রমশ ফুসফুস, চোখ আর ত্বককেও ভয়ঙ্করভাবে আক্রমণ করতে পারে।
যেকোনো বয়সের পুরুষ–নারী নির্বিশেষে রিউমাটয়েড আর্থারাইটিস–এ আক্রান্ত হতে পারেন। তবে এই রোগ পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের ক্ষেত্রে তিনগুণ বেশি দেখা যায়। ৩০ ঊর্দ্ধ মহিলারাই সচরাচর আক্রান্ত হয়ে থাকেন। সংখ্যায় কম হলেও শিশুরাও এর থেকে মুক্তি পায় না।
এই রোগের সঠিক কারণ ও চিকিৎসা নিয়ে পৃথিবীজুড়ে বিস্তর গবেষণা চলছে।
রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রাথমিক স্তরে ডাক্তারবাবু রক্ত পরীক্ষা ও এক্স–রে করাতে বলেন। এরপর যদি দরকার হয় তবে জয়েন্ট বা অস্থি–সন্ধির আল্ট্রা সাউন্ড করা প্রয়োজন। ডায়াগনসিসের জন্য আধুনিকতম ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি হল এম আর আই। খরচাসাপেক্ষ বলে অনেকেই তা চট করে করাতে রাজি হন না। তাই ওপরের পরীক্ষার রিপোর্ট যদি সন্তোষজনক না হয় তখনই এম আর আই করার প্রয়োজন পড়ে। রোগ ধরা পড়লে মূলত ওষুধের সাহায্যেই চিকিৎসা করা হয়। পৃথিবী জুড়ে গবেষণার ফলে এখন এই রোগের আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ ভারতবর্ষে মায় কলকাতাতেও আর দুর্লভ নয়। পাশাপাশি প্রয়োজনমত ফিজিওথেরাপি, যোগব্যায়াম, অকুপেশন থেরাপি এবং বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে সার্জারিও অসম্ভব ভাল কাজ করে।
মনে রাখতে হবে প্রতিদিনের সহজ কাজকর্মগুলির সঙ্গে শরীরের সমস্ত অস্থিসন্ধি জড়িত। ভুলভাবে করা প্রাত্যহিক কাজকর্ম আমাদের সেইসব সন্ধিগুলির ওপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি করে। ফলে, অজান্তেই সেগুলির মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যায়।
তাই রিউমাটয়েড আর্থারাইটিস রোগে আক্রান্ত হলে শুরুতেই খোঁজখবর নিয়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যান। চিকিৎসার পাশাপাশি তার পরামর্শ মতো খাওয়া–দাওয়া আর জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন করুন। নিশ্চই ভাল থাকবেন। আরও বলি, প্রতিকারের থেকে প্রতিরোধ সবসময়েই বুদ্ধিমানের কাজ। তাই জন্মানোর পর থেকেই যদি শিশুটিকে তার হাঁটাচলা–বসা সব কিছু সম্পর্কে যথাযথ অভ্যস্ত করে তোলা যায় তা হলেই হাড়ের যেকোনো রোগের প্রকোপ নিশ্চিত ৫০ শতাংশ কমিয়ে ফেলা যাবে।

Print Friendly, PDF & Email
 

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

%d bloggers like this: