breaking news New

১৯৭১ এর পর বাংলাদেশ থেকে কেউ ভারতে যায়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘১৯৭১ সালের পরে কেউ বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে যায়নি। এ কারণেই আসামের নাগরিকপঞ্জি থেকে ১৯ লাখ মানুষের বাদ পড়ে যাওয়া নিয়ে বাংলাদেশ চিন্তিত নয়। কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারেও আমরা মন্তব্য করছি না এবং করতেও চাই না। ভারত যদি আমাদের কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করে তখন আমরা আমাদের প্রতিক্রিয়া জানাব।’

রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি আসামের নাগরিকপঞ্জি নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখে পড়েন।

আগের দিন এই নাগরিকপঞ্জি প্রকাশ করা হয়। এদের মধ্যে যারা বাদ পড়েছেন, তাদের মধ্যে ১৭ লাখেরও বেশি বাংলা ভাষাভাষী। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগে যারা ভারতে গেছেন, তারাই সে দেশের নাগরিক- এমন দাবি করে বলা হচ্ছে, এরা পরে গেছেন দেশটিতে। তাই এতদিন নাগরিকত্ব থাকলেও এখন তা থাকবে না। অবশ্য এদের ভবিষ্যত কী হবে, সে বিষয়ে সুষ্পষ্ট কোনো ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।

একটি আশঙ্কা তৈরি হয়েছে দেশে যে, ভারত যাদেরকে নাগরিক বলে স্বীকার করবে না, তাদেরকে তারা বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয় কি-না। যদিও বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট, সেটা হলো আমরা কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে মন্তব্য করছি না এবং করতে চাই না। ভারত যদি আমাদেরকে কোন কিছু জিজ্ঞাসা করে তখন আমরা আমাদের প্রতিক্রিয়া জানাব।’

‘সুস্পষ্টভাবে আমরা বলতে চাই একাত্তরের পরে আমাদের বাংলাদেশ থেকে কেউ ভারতে যায়নি, যারা গিয়েছেন তারা আগেই গিয়েছেন। ওদেশ থেকে যেমন এখানে এসেছে এখান থেকে ওখানে গিয়েছেন। কাজেই এইখানে আমাদের চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।’

আগের রাতে ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে হামলা স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামের ওপর ছিল না বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গতকাল ঢাকায় মন্ত্রীর গাড়িতে হামলা হয়নি, এটা একটি হঠাৎ করে দুর্ঘটনা ঘটেছে। যেটা নিয়ে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ বাহিনী তদন্ত করছে। তারপর আমরা জানাতে পারব কে করেছে, কেন করেছে।’

মন্ত্রী সেখানে যান ৫৬তম কারারক্ষী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হয়ে। আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘কারাগার ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শারীরিক উৎকর্ষ ও কর্ম দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের আন্তরিকতায় রাজশাহীতে কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কাজ চলমান রয়েছে। ঢাকার কেরানীগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

গরিব ও অসহায় বন্দিদের জন্য কারাগারে বিনা খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘এনজিওর মাধ্যমেও কারাগারে আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া বন্দিদের শ্রমের উৎপাদিত পণ্যের আয়ের অর্ধেক তাদেরকে প্রদান করার কাজ শুরু করা হয়েছে।’

কারাগারে জঙ্গি ও শীর্ষ সন্ত্রাসীরা যাতে কোনো ধরনের সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী অপতৎপরতা চালাতে না পারে সে বিষয়ে সর্তক থাকারও পরামর্শ দেন মন্ত্রী। বলেন, ‘শৃঙ্খলা ও মানবিকতাকে প্রাধান্য দিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতিকে প্রতিরোধ করবেন।’

মতামত দিন

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register