হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি জোরপূবক দখলের চেষ্টা না পেরে প্রাণ নাশের চেষ্টা

এস চৌধুরি বাবু:  চট্রগ্রাম সাতকানিয়া থানা আমিলাইষ ইউনিয়নের আব্দুল মজিদ, পিতা- আব্দুল আলীম, সে নিজেকে ধরাকে সরা জ্ঞান করে, আইন কানুন এর প্রতি তার কোন শ্রদ্ধা নাই। তার সাথে অনেক সন্ত্রাসী ও গুন্ডা প্রকৃতির লোক সব সময় থাকে, যে কোন মুহুর্তে যে কোন অন্যায় কাজ করতে কুন্ঠবোধ করে না। অপর দিকে সুখময় চৌধুরী বাবু ও সুব্রত চৌধুরী আইন কানুন এর প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সুনাগরিক হই, আমিলাইষ গ্রামের এক সভ্রান্ত ঐতিহ্যবাহী এক হিন্দু পরিবারের সদস্য, তাদের পিতা ছিলেন একজন সৎ ও সজ্জন ব্যাক্তি, তিনি অতিরিক্ত কন্ট্রোলার জেনারেল অব ডিফেন্স ফাইন্যান্স ছিলেন।
গতকাল সে (আব্দুল মজিদ গং) আরো ০৮/১০ জন গুন্ডা ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন নিয়ে সম্প্রতি (গত ০৭/০৫/২০১৭ ইং তারিখ বিকাল ৫ ঘঠিকায়) আমিলাইষ নিজ বাড়ির উঠানে, চট্রগ্রাম দক্ষিন জেলা আওয়ামী-লীগয়ের একটিভ কর্মী তথা সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী-লীগের নির্বাহী সদস্য, দৈনিক ২১ প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক, এর সহোদর ছোটভাই সাবেক জাতীয় দলের ক্রিকেটার সুব্রত চৌধুরীকে তার বাড়ীর প্রাঙ্গনে চরম ভাবে মারধর কিল ঘুষি মারাত্মক ভাবে আহত করে প্রাণনাশের চেষ্টা করেছিল, ঘঠনা স্থলে পার্শ্ববর্তী লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। তার পর মহিলা মেম্বার হোসনে আরা বেগম এর বাড়ীতে আশ্রয় নেয়। উক্ত আবদুল মজিদ গং সুব্রত বাবুকে প্রাণে মেরে ফেলার পরিকল্পনা ছিল।
দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত কারণে উক্ত আব্দুল মজিদ গং বিভিন্ন সময়ে গত কয়েক বছর ধরে সুব্রত ও সুখময় বাবুর বাড়ীর পুকুরের মাছ লুট সহ প্রায় ১০০ টার মত গাছ (শিল করই, মেহগনি, সেগুন, রেন্ট্রি, আম, জাম, সুপারী, কাঠাল গাছ ইত্যাদি) জোর জুলুম পূর্বক তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে লুন্ঠন করে নিয়ে যায়। তার এ অন্যায় ও বেআইনি কর্মকান্ডের জন্য আদালতে কয়েকটি মামলা বিচারাধীন রহিয়াছে। গত কয়েক বছরে প্রায় ৫/৬ লক্ষ টাকার পরিমানে পুকুরের মাছ লুট গাছ কর্তনসহ এই অন্যায় কর্মকান্ড করিয়াছে। উল্লেখ্য, যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল আমাদের দুই ভাইয়ের সাথে তাতে উক্ত আবদুল মজিদের সাথে উক্ত জমি ৬ মাসের মধ্যে প্রদানকৃত মূল্যে ফেরত দেওয়ার চুক্তি নামা ছিল এবং সেই ৬ মাসের মধ্যে তাকে বার বার তাগাদা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে চুক্তিনামা ভঙ্গ করে জমির কাগজপত্র ফেরত না দিয়ে জোরপূর্বক সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাধ্যমে দখল করার জন্য অনেক ভাবে গত কয়েক বছর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। উক্ত আবদুল মজিদ গং এর অন্যায় ও অবৈধ জোরজুলুম কার্যকলাপের জন্য আমার সব সময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছি। কিন্তু বিধি বাম, উক্ত সন্ত্রাসী আবদুল মজিদ গং আইন আদালতের মাধ্যমে আমাদের সাথে কিছুতেই পেরে উঠছিল না। সম্প্রতি উক্ত বিরোধীয় জমির উপর মাননীয় হাইকোর্ট ষ্টে এবং এষ্টেটাচকো প্রদান করেন (হাই কোর্ট মামলা নং-৮১০/২০১৭)। আবদুল মজিদ গং ইহা জানতে পেরে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে সুব্রত চৌধুরীর উপর তার বাড়ীর প্রাঙ্গনে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা চালায় এবং মারাত্মকভাবে জখম করে। গতকাল সন্ধ্যা সাত ঘঠিকায় আমি উক্ত ঘঠনা জানতে পেরে সুব্রতকে মোবাইল করি পরবর্তীতে চট্রগ্রাম পুলিশ সুপার মহোদয়, সাতকানিয়া থানার ওসি রফিকুল হোসেন ও সাতকানিয়া থানার ওসি (তদন্ত) আবদুল জলিল মহোদয়কে জানানোর পর তাঁহারা শারীরিকভাবে মারাক্তক আহত সুব্রত বাবুকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাতকানিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সাতকানিয়া থানায় এসে আব্দুল মজিদ সহ আরো ৯/১০ জনকে আসামি করে রাত আনুমানিক ১২ টায় মামলা গ্রহন করেন। যাহার মামলা নং ০৫, তাং- ০৭-০৫-২০১৭। মারাক্তক ভাবে আহত সুব্রত বাবু এখন চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০ নং ওয়ার্ড এর ২৪ নং বেডে চিকিৎসাধীন আছেন। পুলিশ প্রশাসন মহোদয়কে এই ঘটনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ায় অশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি সাথে সাথে আসামিদের অবিলম্বে গ্রেফতার করার জন্য জোর আবেদন করছি।
এই কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু আব্দুল মজিদ এর ভাইরা ভাই হলো বর্তমান আমিলাইষ ইউপি চেয়ারম্যান হানিফ। এই ঘঠনার সহিত চেয়ারম্যানের যোগসাজস রহিয়াছে কারন গত কিছু দিন আগে চেয়ারম্যান হানিফ ও তার ভাইরাভাই আব্দুল মজিদ সাতকানিয়া থানায় গিয়ে দুই ভাই সুখময় বাবু ও সুব্রত বাবুর বিরুদ্ধে চেয়ারম্যানের ব্যাক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে মিথ্যা ও ভুয়া এক দরখাস্ত প্রদান করেন। সেই দরখাস্তখানি মাননীয় হাইকোর্ট এর আদেশের কারনে আইনগত গ্রহন যোগ্যতা ছিল না। এর কারনেই প্রমান হয় যে, চেয়ারম্যান হানিফ এই ঘঠনার সাথে জড়িত ছিল।
উল্লেখ্য, কোন বিষয় যদি আদালতে বিচারাধীন থাকে সেই ক্ষেত্রে ইউপি চেয়ারম্যানের কোনো এখতিয়ার থাকে না, ইউপি চেয়ারম্যান এই সব ক্ষেত্রে জড়িত হওয়ার অর্থই হলো সে আদালত/উচ্চ আদালতকে অবমাননা এবং অপমান করণ করা ছাড়া আর কিছু নয়। এই ব্যাপারে চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ও যথাযথ কর্তৃকপক্ষের নিকট আবেদন জানাচ্ছি।
উক্ত ঘটনা ও বিষয়বস্তুর পরিপ্রেক্ষিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের জমিজমা জোর, জুলুম, হুমকি-ধুমকি, সন্ত্রাসী হামলা ও লুটপাটের মাধ্যমে দখল করা থেকে রেহাই পাবার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল প্রশাসনিক, আইন শৃংখলা কর্তৃপক্ষ এবং বিচার বিভাগ এবং সকল বিবেকবান সমাজসচেতন মানুষের প্রতি প্রয়োজনীয় সুষ্ঠ ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

Print Friendly, PDF & Email
 

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

%d bloggers like this: