স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছিলেন করোনায় মৃত্যু ৪, ফ্লোরা বলল ৩

0
251

নভেল করোনাভাইরাসে দেশে প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। সেইসঙ্গে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। এর মধ্যেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা একই দিনে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেওয়ায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

আজ সোমবার দুপুর ২টায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে অনলাইন ব্রিফিংয়ে আইইডিসিআর পরিচালক সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন সংক্রমণের সংখ্যা ৩৫, সর্বমোট সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা ১২৩। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে দেশে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে মোট ১২ জন।’

এর আগে বেলা ১১টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছিলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমিত কোভিড-১৯ রোগে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। দেশে নতুন করে আরও ২৯ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। মহাখালীতে বিসিপিএ’র সম্মেলন কক্ষে সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে করোনা বিষয়ে আয়োজিত জরুরি সভায় এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

ব্রিফিংয়ে সেব্রিনা ফ্লোরা আরও বলেন, ৩৫ জন নতুন রোগীর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৩০ ও পাঁচজন নারী রয়েছেন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কেউ রিকভার করেনি অর্থাৎ রিকভার সংখ্যা ৩৩ জন বলে জানান তিনি।

এলাকাভিত্তিক বিশ্লেষণে ঢাকা শহরে করোনা রোগী ৬৪ জন জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক বলেন, ‘ঢাকার পরই রয়েছে নারায়ণগঞ্জ। নারায়ণগঞ্জকে আমরা ক্লাস্টার হিসেবে চিহ্নিত করেছি। সেখানে বেশ কিছু কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে যাতে সেখানে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে। এখন সেখানে সংখ্যা ২৩। গত ২৪ ঘণ্টায় যাদের সংক্রমণ আমরা নিশ্চিত করতে পেরেছি, তার মধ্যে ১২ জনই হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের। এর পরবর্তীতে রয়েছে মাদারীপুর।’

আইইডিসিআর পরিচালক আরও বলেন, ‘ঢাকা জেলায় চারজন সংক্রমিত। ঢাকার অদূরে যে উপজেলাগুলো রয়েছে-কেরাণীগঞ্জ, দোহার, ধামরাই, সাভার ও নবাবগঞ্জে এই চারজন সংক্রমিত হয়েছে।’

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। এরপর দিন দিন সংক্রমণ বেড়েছে। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে এ ছুটি ক্রমান্বয়ে ১১ এপ্রিলের পর ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস দেশ ও অঞ্চল মিলিয়ে বিশ্বের ২০৮টিতে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে ১২ লাখ ৭৪ হাজার ৯০৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মারা গেছেন ৬৯ হাজার ৪৯৬ জন। সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ২ লাখ ৬৫ হাজার ৮৬৩ জন।