breaking news New

স্পিরিটের সঙ্গে কোকাকোলা হয়ে যায় বিদেশি মদ, ৩ জনের মৃত্যু

রাজিব শর্মা, চট্টগ্রাম অফিসঃ চট্টগ্রামে তৈরি হয় বিভিন্ন ‘বিদেশি ব্র্যান্ডের’ মদ। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্পিরিট হলো এই মদের প্রধান উপাদান। সঙ্গে মেশানো হয় ঘুমের ওষুধ, বেভারেজ ও বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ। গত ১৩ আগস্ট আকবর শাহ বিশ্বকলোনিতে তিনজন মদ খেয়ে মৃত্যুর পর পুলিশ গ্রেপ্তার পাঁচজনের কাছ থেকে এই তথ্য বের করেছে।

গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন- নাছিম উদ্দিন, ইকরামুল হক, স্বপন পাল, ইমরান ফয়সাল ও জাহেদুর রহমান আরজু। তাদের কাছ থেকে স্পিরিট, নকল লেভেল, ভেজাল মদ তৈরির বিভিন্ন উপকরণ ও বোতলের কর্ক জব্দ করা হয়েছে।

আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, নাছিম নামে এক ব্যক্তি মদ বিক্রির বিষয়টি জানার পর খোঁজখবর নিই। খবর নিয়ে দেখি, ঘটনার পর থেকে সে এলাকায় নেই। পাঁচ দিন পর এলাকায় ফিরে সে আবারও মোটরসাইকেলে করে মদ সরবরাহ শুরু করে।

আমরা তাকে বিদেশি ব্র্যান্ডের লেভেল লাগানো একটি মদের বোতলসহ আটক করি। তার কাছ থেকে তথ্য নিয়ে বাকি চারজনকে আটক করেছি। তিনি বলেন, এই চক্রের অন্তত ছয় সদস্য স্পিরিট, তিন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ, কোকাকোলা, রঙ, মদের ফ্লেভার আর ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মদ তৈরি করে। এই মদ শরীরে মারাত্মক বিষক্রিয়া তৈরি করে।

গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কর্মকর্তারা এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ব্যাপারে বলেন, অনুমোদিত বিভিন্ন বার ও ক্লাব থেকে বিদেশি মদের খালি বোতল সংগ্রহ করে ভেজাল মদ ঢুকিয়ে নতুন লেভেল লাগিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে। মাত্র ২০০-৩০০ টাকায় প্রতি বোতল ভেজাল মদ তৈরি করে বিক্রি করা হচ্ছে দেড় হাজার থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত দামে।

এসব ভেজাল মদ শরীরে বিষক্রিয়া তৈরি করছে। নগর পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) ফারুকুল ইসলাম ব্রিফিংয়ে বলেন, চারজন একসঙ্গে বসে মদপান করেছিল। তিনজন প্রায় কাছাকাছি সময়ে মারা যায়। অসুস্থ উজ্জ্বলের দেওয়া তথ্যমতে তারা যেখান থেকে মদ সংগ্রহ করেছিল, সেটার অনুসন্ধানে নামে পুলিশ। প্রথমে বিদেশি মদের একজন খুচরা বিক্রেতাকে গ্রেপ্তারের পর এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়।

মতামত দিন

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register