সাহসী ইসি চান বিশিষ্টজনরা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

একটি রাজনৈতিক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন করার দক্ষতাসম্পন্ন সাহসী ব্যক্তিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন দেশের ৪ বিশিষ্ট নাগরিক।

বুধবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে সার্চ কমিটির বৈঠক শেষে তারা এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এই চার বিশিষ্টজন হলেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু হেনা, বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম ও সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার।

বৈঠক শেষে প্রাক্তন সিইসি আবু হেনা বলেন, ‘কেমন ধরনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনার নিয়োগ দেওয়া দরকার সেই পরামর্শ আমরা দিয়েছি। আমরা এ ব্যাপারে সবাই একমত যে, নির্বাচন কমিশনে যারা নেতৃত্ব দেবেন তাদের দলনিরপেক্ষ হওয়া উচিত, বিবেকবান হওয়া উচিত, সাহসী হওয়া উচিত, প্রজ্ঞাবান ও পরিশ্রমী হওয়া দরকার।’

রাজনৈতিক সরকারের অধীনে নির্বাচন করাটাই নতুন ইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মন্তব্য করে ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘১৯৯৬-এ আবু হেনা সাহেব, ২০০১-এ আবু সাঈদ সাহেব ও ২০০৮-এ শামসুল হুদা সাহেব যে নির্বাচন করেছেন সেগুলো দৃষ্টান্তমূলক নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু আগামীতে যিনি হবেন তার সঙ্গে উনাদের একটা তফাৎ আছে। উনারা নির্বাচন করেছিলেন কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে, সেই গভর্নমেন্ট কোনো প্রকার ইন্টারফেয়ার করে নাই। তারা নির্বাচনে অংশীজনও ছিলেন না। সেটা তাদের সাফল্যের একটা কারণ। এবার যে নির্বাচন হবে সেখানে কিন্তু রাজনৈতিক সরকার থাকবে। তাদের যে একটা বাড়তি চ্যালেঞ্জ থাকবে সেটা আগের কমিশনগুলোতে ছিল না। সেখানে পলিটিক্যাল ইন্টারফেয়ারেন্স থাকতে পারে। সেটাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া বা গুরুত্ব না দেওয়া একটা বিরাট জিনিস। সেই চ্যালেঞ্জের মধ্যে তাদেরকে নির্বাচন করতে হবে।’

সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি এই সার্চ কমিটি নিরপেক্ষভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবে। যেটা বলা হয়েছে যুক্ত করেছি, অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সামান্যতম ভিন্ন থাকে তাদের যাতে নিয়োগ দেয়া না হয়। রাষ্ট্রপতি যে সার্চ কমিটি করেছেন, যোগ্য কমিটি করেছেন। আমরা এও মনে করি, তারা যে ১০টি নাম পাঠাবেন যোগ্য নাম পাঠাবেন এবং রাষ্ট্রপতি সেখান থেকে পাঁচটি নাম দেবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা হলো কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হবেন। তিনি হচ্ছেন প্রতীক। তিনি যদি একটু নরম হন তাহলে কমিশন জিরো হয়ে গেল। ভারতের নির্বাচন কমিশনের কথা বলেছি, তারা কারও কথা মানে না। মেরুদণ্ড শক্ত থাকতে হবে, কোনো হুমকি ও কোনোকিছু তারা পরোয়া করবে না। শক্ত ও বয়স অবশ্যই ৭০ এর ভিতরে থাকবে।’

নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়ন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি এই কথাটা বলেছি, আইন নয়, পৃথিবী এগিয়ে গেছে। এখন বলা হচ্ছে নির্বাচনের ব্যাপারগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। কানাডাসহ পৃথিবীর ২০টি দেশে এটা সংবিধানে আছে। বাংলাদেশেও আইন নয়, সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছি।’

মাহফুজ আনাম বলেন, ‘আমরা কতগুলো প্রফেশনাল ও কতগুলো হিউম্যান ক্রাইটেরিয়ার কথা বলেছি। সৎ, যোগ্য, নিষ্ঠাবান, সাহসী এবং চাপে মাথা নত করবেন না, এইসব ভিত্তিতেই উনারা সিলেক্ট করেন। আল্টিমেটলি পারফরমেন্সটা তো একটা ব্যক্তির ব্যাপার। এখন উনি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে তো সার্চ কমিটির কিছু করার নেই।’ একইসঙ্গে কমিটি নামের তালিকা দেওয়ার পর তা প্রকাশ করা হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মাহফুজ আনাম বলেন, ‘গতবার সার্চ কমিটির নাম দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেবিনেট সেক্রেটারি সেটা প্রকাশ করেছেন। এবারও আমরা আশা করব রিকমেন্ডেশন পাওয়ার পর গতবারের মতো এটাও পাবলিক করা হবে।’

বৈঠক শেষে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবদুল ওয়াদুদ ভূইয়া জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে আবার বসবে সার্চ কমিটি।

তিনি বলেন, ‘ওই বৈঠকে প্রাপ্ত নামগুলোর ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করবেন, তথ্য আহরণ ও পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। কমিটি আশা করছে আগামী ৮ তারিখের মধ্যে একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।’ কমিটি যে ২০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা করেছে সেই প্রাথমিক তালিকায় আরও সংযোজন বিয়োজন হতে পারে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘বিশিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সুপারিশকৃত ব্যক্তিরা যেন প্রায় একই যোগ্যতা, মেধা, দক্ষতাসম্পন্ন হন।’

 

 

Print Friendly, PDF & Email
 

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

%d bloggers like this: