breaking news New

সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে ত্রিমুখী ষড়যন্ত্র

রাজনীতি ডেস্কঃ বাংলাদেশ এবং সরকারের বিরুদ্ধে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে একটি চক্র। দেশে নয়, দেশের বাইরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা, বর্তমান সংসদকে বাতিল করে নতুন সংসদের জন্য নির্বাচন দেওয়া, বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সমস্যা এবং সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নসহ নানা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের বিরু’দ্ধে একটি জনমত সৃষ্টির জন্য কাজ চলছে বলে একাধিক গোয়েন্দা সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এই অপতৎপরতার পেছনে বাংলাদেশের কয়েকজন ব্যক্তি জড়িত। এদের মধ্যে একজন শুধুমাত্র দেশে রয়েছে। বাকিরা সবাই বিদেশে রয়েছে। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে, লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিরোধী এই তৎপরতা চলছে। এই গোষ্ঠীর অপতৎপরতার অংশ হিসেবেই সাম্প্রতিক সময়ে ড. মঈন খানের বাসায় বিভিন্ন রাষ্ট্রদূতদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। যাদের কাছে বাংলাদেশ বিরোধী বিষেদাগার করা হয়েছে। যদিও সেই বৈঠকটি সফল হয়নি বলে কূটনৈতিক সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে।

লন্ডনে তারেক জিয়া, ঢাকায় ড. কামাল হোসেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এই অপতৎপরতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। সূত্রমতে তারেক জিয়ার অর্থায়নেই এই অপতৎপরতার ঘটনাগুলো ঘটানো হচ্ছে। তারেক জিয়ার মূল লক্ষ্য হলো সরকারকে আন্তর্জাতিক মহলে অজনপ্রিয় এবং বিতর্কিত করা। যাতে সরকার দ্রুত একটি মধ্যবর্তীকালীন নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। আন্তর্জাতিক মহল সরকার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরী করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে চারটি বিষয় নিয়ে এই অপতৎপরতা চলছে।

প্রথমত, রোহিঙ্গা ইস্যু; রোহিঙ্গা শরনার্থীদের বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছিল একটি মানবিক বিবেচনাবোধ থেকে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল মানবিক কারণে এই নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্র’য় দেওয়া। কিন্তু এই রোহিঙ্গাদের সংগঠিত করা। তারা যেন বাংলাদেশে থেকে না যায় সেই ব্যাপারে অবস্থান গ্রহণ করানো। তাঁদেরকে দিয়ে রাষ্ট্র এবং সরকারবিরোধী বিভিন্ন অপতৎপরতা চালা’নোর বিষয়টির কলকাঠি না’ড়ানোর এই ষড়যন্ত্রকারীরাই প্রধান উদ্যোক্তা বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, কয়েকটি আন্তর্জাতিক এনজিও এই বিষয়ে প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা করছেন এবং তারা যেন এই ব্যাপারে পৃষ্ঠপোষকতা করেন তাতে মদত দিচ্ছেন ষড়যন্ত্রকারীরা। একাধিক সূত্র বলছে, রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তারেক জিয়ার যোগাযোগ রয়েছে। তারা যেন বাংলাদেশ ত্যাগ না করে, তাঁদেরকে দেশে ফেরত পাঠাতে সরকার যেন সক্ষম না হয় সেজন্য তাঁদের মধ্যে সরকার বিরোধী মনোভাব তৈরি করার জন্য ভূমিকা রাখছে এই চক্র।

দ্বিতীয়ত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রিয়া সাহার ঘটনার পর, সেখানে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হচ্ছে, গুম, হত্যাকাণ্ড এই বিষয়টি নিয়েও তৎপরতা চলছে। একাধিক সূত্র বলছে যে, আসামে বাঙালি মুসলমানদের নাগরিকত্ব বা’তিলকে ঘিরে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার একটি ষড়যন্ত্র চলছে। সেই ষড়যন্ত্র উস্কে দেয়ার জন্য কাজ হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। গত বৃহস্পতিবার সুরেন্দ্র কুমার সিনহা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি তথাকথিত নাগরিক সমাবেশ করেছেন এবং সেখানে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা কিভাবে নির্যাতিত হচ্ছে তার এক বিবরণ উপস্থাপন করেছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের উপর যেন ভারত চাপ সৃষ্টি করে এবং আসামে বিতর্কিত নাগরিক তালিকা যেন দ্রুত বাস্তবায়ন হয় সে ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছে যার মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ সরকারকে চা’পে ফে’লা।

তৃতীয়ত, বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইস্যুকে কেন্দ্র করে এই চক্রটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে চিঠি দিচ্ছে, অভিযোগ দায়ের করছে। এটারও একমাত্র লক্ষ্য হলো সরকারকে বিপদগ্রস্থ করা।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে যে, বাংলাদেশ বিরোধী, সরকারবিরোধী এই তৎপরতাগুলো নতুন নয়। এর আগেও এই গোষ্ঠী এই ধরণের অপতৎপরতায় লিপ্ত ছিল। অন্যান্যবার যেমন করে বের হয়েছে এবারও একইভাবে ষড়যন্ত্রকারীরা ব্যর্থ হবে।

মতামত দিন

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register