breaking news New

শেষ তিন ধাপে নির্বাচনে তাহলে কি মোদী ও নির্বাচন কমিশন…!

প্রতিবেশী ডেস্কঃ শেষ ধাক্কায় আসল খেলাই খেলবে ভারতের শাসক দল বিজেপি। ভোটের দিনক্ষণেও ছিল সেই আভাস। প্রথম তিন ধাপে যেসব রাজ্যে বিজেপির দখল নেই সেখানেই নির্বাচন দিয়ে তফসিল ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন।

আর শেষ তিন পর্বেই রাখা হয় বিজেপি অধ্যুষিত রাজ্যগুলোর বেশি আসনের ভোট।
এ নিয়ে শুরুতেই কথা তোলেন বিশেষজ্ঞরা। সুর মেলান বিরোধীরাও। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি তো জোরালো কণ্ঠেই বলেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আঁতাত করেই তফসিল ঘোষণা করেছে মোদি সরকার। ধাপে ধাপে নির্বাচন দেয়ার অর্থই হল ফাঁকে ফাঁকে প্রচার। সেই সুবিধা নিতেই বিজেপির ঘাঁটিগুলোতে ভোট ফেলা হয়েছে শেষের দিকে।
ভোটের শেষদিকে শেষ দান মারবেন, সে কথা খোদ মোদিও এবার স্বীকার করলেন। মঙ্গলবার বিহারের মুজাফফরপুরে এক নির্বাচনী সভায় তিনি বলেন, শেষ তিন ধাপেই নিশ্চিত হবে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান।
১১ এপ্রিল শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত চার দফায় লোকসভার ৩৭৫টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ১৬৮ আসনের ভোট হবে আরও তিন পর্বে। পঞ্চম ধাপের ভোট আগামী ৬ মে। ১২ ও ১৯ মে ষষ্ঠ ও সপ্তম পর্বের ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্বের বৃহত্তম এ নির্বাচনী যজ্ঞ। ২৩ মে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করার কথা রয়েছে।
প্রথম তিন ধাপের ভোটের চিত্র দেখলে এটা স্পষ্ট যে, বিজেপি যেখানে ছুরি বসাতে পারবে না সেসব রাজ্যে ভোট হয়েছে আগে আগে। প্রথম ধাপে অন্ধ্রপ্রদেশের ২৫ ও তেলেঙ্গানার ১৭ আসনের সব কটিতে ভোট হয়েছিল। ২০১৪ সালের ভোটে এ দুই রাজ্যের ৪২ আসনের মধ্যে মাত্র ৫টিতে জিতেছিল বিজেপি। দ্বিতীয় ধাপেও একই চিত্র।

তামিলনাড়ুর ৩৯ আসনের সব কটিতে ভোট হয়েছিল এ পর্বে। ‘আম্মা’খ্যাত জয়ললিতার অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাভিদা মুনেত্রা কাজাঘাম (এআইএডিএমকে) দলের দাপট থাকা এ রাজ্যে বিজেপি মাত্র ১টি আসনে জয় পেয়েছিল। কিন্তু বিজেপির দুর্গখ্যাত রাজ্যগুলোতে কম কম আসনে ভোট হয়েছে। চতুর্থ পর্ব থেকে সে সংখ্যা বেড়েছে।
প্রথম তিন পর্বে যেখানে উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্রের ৭-৮টি আসনে ভোট হয়েছে, শেষদিকে এসে তা ১৩-১৪টি আসনে হবে। এ ছাড়া আগের তিন পর্বে রাজস্থান, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ডের কোনো আসনে ভোটই হয়নি। চতুর্থ দফা থেকেই লড়াইয়ের মূল পর্ব শুরু করেছেন মোদি-অমিত শাহরা।
শেষ ধাপগুলোতে ভোট হতে যাওয়া উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, বিহার, ঝাড়খণ্ড রাজ্য গোবলয় (কট্টরপন্থী হিন্দু) হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া রয়েছে রাজধানী দিল্লির ৭ আসনে ভোট। পঞ্চম পর্ব থেকে রাজস্থানের ১২, হরিয়ানার ১০, উত্তর প্রদেশের ৪১, বিহারের ২১, ঝাড়খণ্ডের ১৪ আসনে ভোট হবে। ওই ৫৭ আসনের মধ্যে ৫৫টিই বিজেপির কব্জায়।
বাকি দুটি উত্তর প্রদেশের রায়বেরলি ও আমেথি কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর পারিবারিক দুর্গ। এ ছাড়া ভোট হবে মধ্যপ্রদেশের ২৩ আসনে, এর মধ্যে বিজেপির দখলে ২১টি। পাঞ্জাবের ১৩ আসনের মধ্যে ৬টি ক্ষমতাসীনদের কব্জায়। এর বাইরে রয়েছে শুধু পশ্চিমবঙ্গের ২৪ আসনের ভোট। এখানের সব কটি তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে।
পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বরাবরই বলে আসছেন, এবার বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ পাবে তৃণমূল। মোদি-অমিতরাও জোরালো সুর চড়াচ্ছেন। বলছেন, বাংলায় স্পিডব্রেকার দিদির এবার ভরাডুবি হবে।
তর্কাতর্কি, কথার লড়াই যাই থাক না কেন, শেষ পর্বগুলো যে শাসক গোষ্ঠীর কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এটা নিশ্চিত। আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশ শাসনের চাবি দ্বিতীয়বারের মতো মোদি পাবেন কি না, তা এর ওপরই নির্ভর করছে। মঙ্গলবার মুজাফফরপুরের জনসভায় মোদি সহাস্যে বলেছেন, ‘শেষ তিন পর্বের ভোটে চূড়ান্ত হবে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান। নিশ্চিত হবে বিরোধীদের পরাজয়।’
মোদি নিজ দলের জয়ের ব্যাপারে সুনিশ্চিত ঘোষণা দিলেও বিশ্লেষক মহল ততটা সহজ দেখছে না। কারণ, গতবারের মতো বিরোধী কংগ্রেস অত দুর্বল নয়। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে দলটি শাসক গোষ্ঠীকে টেক্কা দিতে শিখেছে। গত বছরের ডিসেম্বরের পাঁচ বিধানসভা নির্বাচনে তার তিক্ত ঝাঁজ কিছুটা পেয়েছিল বিজেপি।

মতামত দিন

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register