breaking news New

শিবরাত্রী ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা বেশি পালন করে কেন?

রাজিব শর্মা(চট্টগ্রাম অফিস): প্রচলিত কারণ, শিবের মতো যেন স্বামী হয়, এই কামনায় বেশি করে মেয়েরা। একেবারে ৬-৬০ সব বয়সী নারী, নারী মনে শিবের জন্য ছোট্ট রুম নয়, একেবারে গোটা আবাসনটাই। কিন্তু কে এই শিব? কেনই বা তাকে নিয়ে মেয়েদের এতো প্রেম এতো ভক্তি!

যে কৃষ্ণ লীলায় প্রেমের মনে জোয়ার আসে তাহলে হঠাত্‍ প্রেমিক থেকে স্বামীর বেলায় কেন কৃষ্ণ থেকে সটান শিবে! প্রশ্ন জাগেই মনে এক জন পুরুষ হিসেবে? আর তাই লেখা, আমি কিন্তু নারী নই, পুরুষ আমি। প্রেমিক মনেও কৃষ্ণে বিশ্বাসী নই, তবে ভক্তি মনে কৃষ্ণে বিশ্বাসী।
তবে এ পুরুষ মনেও শিবের জন্য আমার মনমন্দিরের দরজা খোলা। কেননা, প্রলয় ও জ্ঞানের রুপ শিব, অসাধারণ ফিগার ও তার ব্যক্তিত্ব আমাকে টানে, তাই আমি শিবের উপাসক বা শিবকে অনুসরণ করি।
এবার মেয়েদের উদ্দেশ্যে: যার মতো স্বামী চাই, সে কিসের প্রতীক জানেন? আসলে শিব জ্ঞাণের প্রতীক। সরস্বতী পুজা করলে বিদ্যা-বুদ্ধি পাবেন। কিন্তু জ্ঞাণী হতে গেলে আপনাকে শিবের উপাসক হতে হবে। শিবের মতো স্বামীর প্রার্থনা করলেন মানে আপনি আসলে নিজের জন্য জ্ঞাণী স্বামী চাইছেন। এটা বুঝে অথবা না বুঝে।

বিধর্মীরা কটাক্ষ করে সেই বিষয়ে আলোচনা করি: শিবলিঙ্গে জল ঢাললেন, মানে জলটা আসলে ঢাললেন কোথায়? – সবাই তো পরম ভক্তিভরে শিবলিঙ্গে জল ঢেলে এলেন। বিধর্মীরা কটাক্ষ করে, জলটা ঠিক ঢাললেন কোথায়? মানে শিবলিঙ্গ বলতে আপনি এক্ষেত্রে ঠিক কী বোঝেন? আপনি কি সত্যিই ভগবান শিবের ‘লিঙ্গে’ জল ঢেলে এলেন? নাকি শিবের মাথায় (বাবার মাথায়) জল ঢেলে এলেন?

এই প্রশ্ন করলে সাধারণত এই দুটো উত্তরই পাওয়া যায়। এক, লিঙ্গে জল ঢেলে এসেছেন অথবা দুই, মাথায় জল ঢেলে এসেছেন। আসলে এর কোনটিই নয়। ‘লিঙ্গ’ শব্দের অর্থ হল ‘বাস’ মানে, বাসস্থান। অর্থাত্‍ শিবঠাকুর যেখানে বাস করেন বা বিরাজ করেন, সেটাই আসলে এই ‘শিবলিঙ্গ’! আপনি জলটা আসলে সেখানেই ঢেলে এলেন, যেখানে ভগবান শিব বিরাজমান!

আরো বলি, জল ঢালার পর যে গোল চাকতির উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়, ওটাকে কী বলে বা ওটা কী জানেন? ওটা পার্বতীর পিঠ। পুরাণ অনুযায়ী, জ্ঞাণের বিকাশ হয় শক্তির পিঠের উপর। আর শক্তির উত্‍স আসলে পার্বতী-দুর্গা বা নারীরুপ। নারী শক্তির উপর ভিত্তি করেই জ্ঞান বিকশিত হয়। সত্যি এটাই।
এই পুরুষশাসিত সমাজ যদি এই ছোট্ট সারসত্যটা একটু বুঝতো, সমাজটার উন্নতি হতো। আসলে শক্তির উত্‍স নারী। আর জ্ঞাণের উত্‍স পুরুষ। পুরুষ এটা বুঝলে ৫২ ইঞ্চির বুকের ছাতির পিছনে না ছুটে মগজের বিকাশের জন্য জিমে না ঢুকে জ্ঞান আহরণে সময় দিতো। দেশে নারী নির্যাতন একটু কমতো।
শিবের এককিত্বের কারণ কী!- সত্যিই আপনার পছন্দের স্বামী কেনই বা সারা গায়ে ছাই মেখে বুঁদ হয়ে বসে থাকবে! সে কেন আজকের ডেটের স্মার্ট-ঝকঝকে পুরুষ হয়ে উঠবে না! আসলে জ্ঞাণীর যে বড় জ্বালা। বিশ্ব-জ্ঞাণ যার মধ্য সে তো খুব স্বাভাবিকভাবেই একা হয়ে পড়বে। একা মানুষের জীবনেও তো পার্বতী থাকে। তাহলে? কিন্তু পার্বতীদের যে সংসার সামলাতে হয়।

তাই জ্ঞাণী ও প্রলয়কারী শিব আরও একা হয়ে পড়েন। একা আরও একা। একটু শান্তি আর নিজের ক্রোধ এবং কামকে সামান্য সংযমী করতে হলে অবশ্য নারীদের পাশাপাশি আমাদের মত পুরুষদেরও শিবের উপাসক হতে হবে।

মানুষ, দেবতা কিংবা শয়তান। সবারই সবথেকে বড় সমস্যা হলো ওই ক্রোধ। রাগই শেষ করে দেয় মানুষ, দেবতা থেকে শয়তানকে। রাগ মানই ধ্বংস। গোটা পৃথিবীর সব পড়ে ফেলুন।

দুনিয়ার সব মানুষ, দেবতা অথবা শয়তানকে ব্যাখ্যা করে আসুন। আর একটা শিব পাবেন না। তিনিই যে পথ দেখিয়েছেন। তিনি রাগলে তাণ্ডব করেন। নাচেন! মানে কলা প্রদর্শন করেন!

একজনের রাগের বহিঃপ্রকাশ এতটাই সুন্দর যে, তাকে ‘নটরাজ’ বলা হয়। কী বলবেন এই গুণকে? মেয়েরা তার প্রেমে না পড়ে উপায় আছে!

এরপর আর সেই বেড়ে ওঠা প্রথম জীবনের ভগবান কৃষ্ণ প্রেমিকের জন্য রাখা যায়গায় কে যেন জায়গা করে নিয়েছে? মন জুড়ে যে শুধু শিব! এতটাই থাকেন যে, আর আপনার কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। শ্রীকৃষ্ণ বড়জোড় আপনার আশ্রয় হতে পারে। কিন্তু আপনিই পারেন ওই ‘অগোছালো’ শিবের বড় ‘আশ্রয়’ হতে। নারী শুধুই শক্তির প্রতীক নয় সে ভালোবাসতেও জানে।

দিনে দিনে তার প্রতি ভালোবাসা বাড়বে। আর বন্ধন হবে অটুট। কৃষ্ণের প্রতি হয়ত কোনো দিন আপনার বড় মোহ ছিল বা প্রেম ছিল কিন্তু শিব চিরকাল আপনার। শুধুই আপনার। কেন তার ব্যাখ্যা আমি দিতে পারবো না, সেটা যে শুধুই জানেন ‘জ্ঞাণী শিব’, ‘পূজনীয় শিব’।

আর ছেলেদের জন্য বলছি, এসব কিছু দেখা দরকার নয়, শুধু ভাগবান শিবকে অনুসরণ করো, রাগ নিয়ন্ত্রণ করো। সহ্যের সীমা অতিক্রম করলে তার নাম করে অথ্যাৎ হর হর মহাদেব (বাংলার্থ : আমরা সবাই মহাদেব) বলে ঝাঁপিয়ে পড়ো। জয় তোমার হবে।
বি:দ্র : এই লেখার সাথে শুধু শিবলিঙ্গের বিরারণ ও শিব কিসের প্রতীক এছাড়া আর কোন জায়গায় ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই বা এটা কোন ধর্মীয় লেখা নয়। এই লেখাটা পড়ে ধর্মীয় বিশ্বাস স্থাপন বা ধর্মীয় আঘাত পাওয়া কোন কারণ যদি থাকে তা হলে সে আঘাত পাওয়ার কোন কারণ নেই।

মতামত দিন

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register