breaking news New

শিক্ষকদের কর্মসূচীতে পুলিশের বাধা অবশেষে পন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রোববার অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট অফিস ঘেরাও করতে গেলে রাজধানীর পলাশীর মোড়ে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন শিক্ষকরা।
বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট অফিস ঘেরাও কর্মসূচি পুলিশের বাধায় পন্ড হয়েছে। রোববার সকালে দেশের বিভিন্ন জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আগত শিক্ষকরা ঢাকার পলাশীতে ব্যানবেইজ অফিস ঘেরাও করতে গেলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী রোববার অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট অফিস ঘেরাও করতে কয়েক হাজার শিক্ষক মিছিল নিয়ে পলাশীর মোড় দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়া হয়। প্রথমে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সারাদেশ থেকে আগত শিক্ষকরা জড়ো হন। সেখান থেকে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্ট অফিসের দিকে অগ্রসর হওয়ার পরপরই পলাশীর মোড়ে আগে থেকে ব্যারিকেড দিয়ে অবস্থান নেয়া পুলিশ শিক্ষকদের বাধা দেয়। ঘণ্টাখানেক অবস্থান করে তারা ঈদের পরে আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়ার ঘোষণা দিয়ে ঘেরাও কর্মসূচি শেষ করেন।
শিক্ষক-কর্মচারীরা জানান, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ ফান্ডে ১০ শতাংশ চাঁদা কর্তন আদেশ বাতিল ও পূর্ণাঙ্গ ঈদ বোনাস এবং কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পেতে বাড়তি কাগজে বাড়তি ভোগান্তির অবসান দাবিতে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ) ব্যানারে এ ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ কাওছার আলী শেখ জানান পুলিশ তাদের বাধা দিয়েছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সরকারি শিক্ষকদের মতো অবসর ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পান না। এর বদলে তাদের এককালীন কিছু আর্থিক সুবিধা দেয়া হয়। এর বিনিময়ে চাকরিজীবনের পুরো সময়েই তাদের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ থেকে মোট ১০ শতাংশ টাকা চাঁদা হিসেবে কেটে রাখা হয়। অবসর ও কল্যাণে এই চাঁদার হার যথাক্রমে ৪ ও ২ শতাংশ ছিল। কিন্তু সম্প্রতি তা বাড়িয়ে মোট ১০ শতাংশ করেছে সরকার। কিন্তু এর জন্য বাড়তি কোনো সুবিধা দেয়া হবে না শিক্ষকদের। আর এখানেই আপত্তি তাদের। এ জন্যই আন্দোলন। এমনটাই সাংবাদিকদের জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।
জানা যায়, সারাদেশ থেকে দলে দলে শিক্ষকরা অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্ট অফিস ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যানার নিয়ে হাজির হন শিক্ষক-কর্মচারীরা। এ সময় তারা বিভিন্ন ধরনের স্স্নোগান দেন। ‘দুর্ভোগের অপর নাম অবসর-কল্যাণ, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কাছ থেকে কেন দুইবার কাগজ চাওয়া হয়’ ইত্যাদি স্স্নোগান দেন শিক্ষকরা।
এর আগে গত ২৪ জুলাই প্রতিটি জেলা শহরে এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘প্রতীকী অনশন’ পালন করেন তারা। প্রতীকী অনশনে মাধ্যমিক শিক্ষা সরকারিকরণ, ঈদের আগেই সরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায় বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের পূর্ণাঙ্গ বোনাস দেয়া, অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ১০ শতাংশ চাঁদা কর্তনের প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি জানান শিক্ষক নেতারা।
অতিরিক্ত চাঁদা কর্তনের জন্য দশ বছর ধরে কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য-সচিব পদে থাকা অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজুকে দায়ী করেন শিক্ষকরা। নতুন সংগঠন স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদকেও দায়ী করা হয়। এছাড়াও কল্যাণের সদস্য-সচিব অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজুর পদত্যাগ দাবি করেন কর্মসূচিতে অংশ নেয়া শিক্ষকরা।
শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, সদস্য-সচিবরা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ভোগান্তি কমাতে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছেন না। নতুন স্কেলে কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পাওয়ার জন্য দুইবার কাগজ দিতে বাধ্য করা হয় অসহায় শিক্ষকদের।

মতামত দিন

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register