breaking news New

রেলওয়ের ৮৬৩ খালাসি নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতিঃ অনুসন্ধান মিশনে দুদক

রাজিব শর্মা, চট্টগ্রাম অফিস : বাংলাদেশ রেলওয়ে পুর্বাঞ্চলে ৮৬৩ খালাসী পদে নিয়োগের বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। ইতিমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের একটি টিম এ নিয়োগের তদন্ত শুরু করেছেন।

এছাড়াও নিয়োগ কমিটিতিতে থাকা সদস্যদের বিভিন্ন অভিযোগের অনুসন্ধান করছে বলে দি ক্রাইমকে জানিয়েছেন সংস্থাটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সংস্থাটি এ বিষয়ে রেলওয়ে পুর্বাঞ্চল কার্যালয়ে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত চেয়ে চিঠি ইস্যু করেছে।

তবে এখন পর্যন্ত রেলওয়ে থেকে কোন তথ্য উপাত্ত দিয়ে দুদক টিমকে সহযোগিতা করা হয়নি বলেও জানান দুদক। তবে দুদক কর্মকর্তারা নানাভাবে এ নিয়োগে অনিয়মের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছেন।

দুদক সুত্র দি ক্রাইমকে জানায়, মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীকে বাদ দিয়ে নিয়োগ কমিটির সদস্যরা অর্থের বিনিময়ে পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়েছেন।

এ ছাড়া একজন প্রার্থী দুই-তিন জেলা থেকেও নিয়োগ পেয়েছে এবং অর্থের বিনিময়ে বৃদ্ধাকেও এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এমন প্রমাণও মিলেছে বলে দি ক্রাইমকে জানান সুত্র।

এসব অভিযোগে দুদক কর্মকর্তারা দুইবার রেলওয়ে পুর্বাঞ্চলের জিএম’র কার্যালয় গিয়ে জিএমকে না পাওয়ায় খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৪ জুলাই ৮৬৩ জন খালাসী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করে রেলওয়ে পুর্বাঞ্চল।

এতে আবেদন যাচাই বাছাইয়ের নাম দিয়ে দুই বছর পর ২০১৫ সালে সে নিয়োগের পরীক্ষা নেওয়া হয়। এ নিয়োগ কমিটিতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়। কমিটির আহবায়ক করা হয় রেলওয়ে পুর্বাঞ্চলের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী মিজানুর রহমানকে।

সদস্য সচিব ছিলেন আরটিএ’র সিনিয়র ট্রেনিং অফিসার জোবেদা আক্তার। কমিটির বাকি তিন সদস্য হলেন রফিকুল ইসলাম, এম.এ জিন্নাহ ও শেখ খলিলুর রহমান। তবে এর মধ্যে কমিটির সদস্য এম.এ জিন্নাহ মারা যান এবং শেখ খলিলুর রহমান দুর্যোগ ও ত্রান মন্ত্রণালয়ে বদলি হয়।

এর মধ্যে ২০১৮ সালের ১১ মে শুক্রবার তড়িঘড়ি করে কমিটির বাকি তিন সদস্য পরীক্ষার ফলাফল ঘোষনা করেন। এর মধ্যে ফলাফল ঘোষনা করেই নিয়োগ কমিটির আহবায়ক ও প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান দেশের বাইরে চলে যান।

তবে পাঁচজনের কমিটির দুইজন ছাড়া কিভাবে নিয়োগের ফলাফল ঘোষনা করা হয় এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন বিরাজ করছে। যদিও রেলওয়ে পুর্বাঞ্চলের জিএম এ বিষয়ে গণমাধ্যমে স্বচ্চতার সাথে নিয়োগ হয়েছে বলে বক্তব্য দিয়েছেন।

ছয় বছর পর আলোচিত এই খালাসী নিয়োগ সম্পন্ন হলেও পদ বঞ্চিতদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। যার কারণে এ নিয়োগের ফলাফল ঘোষনার পর সংবাদ সম্মেলন থেকে শুরু করে বিভিন্নভাবে অস্বচ্ছ নিয়োগ হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনায় আসে এবং দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেন।

দুদক সুত্র জানায়, ২০১৮ সালে নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার পর এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক প্রধান কার্যালয়ে অভিযোগ আসার পর বিষয়টি আমলে নেয় দুদক।

এরপর প্রধান কার্যালয়ের সভায় এ নিয়োগের অনুসন্ধানের অনুমতি পাওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপ-পরিচালক বরাবরে নিয়োগের অনুসন্ধানপুর্বক প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকে অনুসন্ধানে নামে দুদক।

দুদকের একটি সুত্র জানায়, ৮৬৩ খালাসী নিয়োগের বিপুল অংকের অর্থ লেনদেনের মধ্যে পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

হিসেব অনুযায়ী প্রথ্যেক প্রার্থীর কাছ থেকে চার থেকে আট লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে এমন প্রমাণও মিলেছে দুদক তদন্তে। এসব টাকা কমিটির তিন সদস্যের মধ্যেই ভাগাভাগি হয়েছে এবং পুরো নিয়োগেই অস্বচ্চ ছিল বলে জানান সুত্রটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক কর্মকর্তা দি ক্রাইমকে বলেন, নিয়োগটি দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকায় কমিটির সদস্যরা বিভিন্নভাবে এ সময়কে কাজে লাগিয়ে নিজ নিজ পছন্দকৃত প্রার্থী থেকে টাকা নিয়ে চাকরী দিয়েছেন। পুরো নিয়োগেই নিয়োগ কমিটির স্বচ্ছতার অভাব ছিল বলে জানান কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, শুধু পছন্দকৃতই নয়, নিয়োগে কোন ধরনের কোটা মানা হয়নি। কোটা অমান্য করে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও এক ব্যক্তি তিন জেলা থেকে নিয়োগ পেয়েছে এমন প্রমানও পাওয়া গেছে।

শুধু তাই নয়, রেলওয়ে পুর্বাঞ্চলের জিএম’র ড্রাইভার টাকার বিনিময়ে ৫০ বছর বয়সী তার নিজ খালুকে ২৮ বছর দেখিয়ে নিয়োগ দিতে সহযোগিতা করেছেন। এক কথায় পুরো নিয়োগই ছিল অস্বচ্ছ।

এসব প্রসঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক সমম্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ এর উপ পরিচালক লুৎফুল কবির চন্দন দি ক্রাইমকে বলেন,’ অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা এ বিষয়ে অনুসন্ধান করছি।

এ নিয়োগের পুরোটাই অনিয়ম হয়েছে তার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। অর্থের বিনিময়েই পুরো নিয়োগ হয়েছে এমন তথ্যও আমাদের কাছে রয়েছে।

এসব বিষয়ে অনুসন্ধান শেষে শীঘ্রই কমিশনকে প্রতিবেদন জমা দেব। কমিশন যে ব্যবস্থা নিতে বলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও জানান তিনি।

মতামত দিন

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register