রাঙামাটিতে আশানুরুপ পর্যটকের সারা মেলেনি

মোঃ সাইফুল উদ্দীন,রাঙামাটি: পর্যটন জেলা হিসাবে রাঙামাটি সারা দেশের মধ্যে পরিচিত। কাপ্তাই হ্রদ, বিভিন্ন ঝরনা আর পাহাড়ের আঁকাবাঁকা রাস্তা এসব দেখার জন্য প্রতিবছর ঈদের ছুটির সময় রাঙামাটিতে পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়াতে আছে অনেকে। কিন্তু এইবার তেমন আশানুরুপ পর্যটক বেড়াতে আসেনি বলে দাবী করেছে বেশির ভাগে পর্যটন ব্যবসা নিয়ে কাজ করা আবাসিক হোটেলগুলো কর্মকর্তাবৃন্দ।

হোটেল নাদিশার ম্যানেজার মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, অন্য বারের মত এই বার তেমন পর্যটকরা রাঙামাটিতে আসে নি। তার কারণ হিসাবে প্রাকৃতিক অবস্থা এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তার সাবির্ক অবস্থাকে দায় করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, রাঙামাটিকে পর্যটন এলাকা হিসাবে আরো উন্নত করা প্রয়োজন। এখানে পর্যটকরা আসে কিছু দিন বেড়ানোর জন্য, প্রকৃতিক বিভিন্ন সুন্দয্য উপভোগ করার জন্য কিন্তু রাঙামাটি পর্যটন স্থান গুলো পর্যাপ্ত না থাকা এবং যে স্থানগুলো আছে তাতে ভালো ব্যবস্থা যা পর্যটকরা চাই এসব না থাকার জন্য বর্তমানে পর্যটকরা রাঙামাটিতে আসতে চাই না।

পর্যটকরা বন্দরবান ও কক্সসবাজার মূখি দাবি করে তিনি আরো বলেন, পর্যটকরা রাঙামাটিতে পর্যাপ্ত সুবিধা ও ভালো ব্যবস্থা না পাওয়ার ফলে তারা এখন বান্দরবান ও কক্সসবাজার মূখি হয়ে গিয়েছে। রাঙামাটিতে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারলে মানুষ নিজের অর্থ দিয়ে এখানে পর্যটন এর জন্য কাজ করবে এমন মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, রাঙামাটিতে কোন কাজ করতে চাইলে একটি গোষ্ঠিকে চাঁদা দিতে হয় যার ফলে এখানে কোন প্রকার পর্যটনের জন্য কাজ করা যায় না। যদি এই চাঁদাবাজি বন্ধ করা যায় তবে বাহিরের মানুষরা এখানে নিজের অর্থ দিয়ে পর্যটনের স্থান তৈরি করবে। এছাড়া রাঙামাটির মূল সুন্দয্য ভিতরের স্থানগুলোও পর্যটকরা দেখার সুযোগ পাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

হোটেল গ্রীণহিল ম্যানেজার আসাদ বলেন, আমরা যে রকম পর্যটকের আসা করেছি তেমনটি পর্যটক আসে নি। এর কারণ হিসাবে বাংলাদেশের অবস্থা ও প্রাকৃতিক বিভিন্ন সমস্যাকে চিহ্নিত করা যায়।

হোটেল প্রিন্স’র স্বাথাধিকারী নেছার আহম্মেদ বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ অন্য রকম হওয়ার পরেও আমরা ভালো সারা পেয়েছি। আমরা আসা করছি পুরো মাস জুড়ে পর্যটকরা থাকবে। কাপ্তাই হ্রদে পানি পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে এছাড়া সুবলং ঝনায়ও পানি রয়েছে ফলে আসা করা যায় পর্যটকদের ভালো লাগবে রাঙামাটির এই স্থানগুলো।

তিনি আরো বলেন, দেশের সাবির্ক অবস্থার কারণে মানুষ যদিও আতংকিত, তবুও আমরা আসা করি পর্যটক থাকবে।

রাঙামাটি আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি দীপংকর দেওয়ান বলেন, আনন্দ মূখর পরিবেশ হওয়ার কথা থাকলেও দেশের সাবির্ক অবস্থার কারণে তেমনটি ছিলো না। তবে পর্যটকের সারা ছিলো ভালো। কিন্তু আশানুরুপ হয় নি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের রাঙামাটিতে পর্যটকদের সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন। তবে আমরা ভালো পর্যটক পাবো। বিদেশী পর্যটক না পেলেও সমস্যা নেই, আমাদের দেশের যে পর্যটকরা আছে তারাই আমাদের জন্য যতেষ্ঠ। আমরা আশা করি আগামীবার ভালো পর্যটকদের সারা পাবো।

Print Friendly, PDF & Email
 

0 Comments

Leave a Reply

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

%d bloggers like this: