রাউজানের মহামুনিতে দুই দিন ব্যাপী ধর্মপ্রিয় জাতীয় হীরক জয়ন্তী উদযাপনে বক্তারা প্রজ্ঞার আশ্রিত হলেই মঙ্গলের আবির্ভব ঘটে

 

রাউজান প্রতিনিধি
শিক্ষা, সংস্কৃতি বিকাশের পীঠস্থান মহামুনি মহানন্দ সংঘরাজ বিহারের অন্যতম রূপকার অধ্যক্ষ, উপ-সংঘরাজ ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথেরের ৮৪ তম বর্ষে পদার্পনে ২ দিন ব্যাপী জাতীয় হীরক জয়ন্তী উদযাপন সম্পন্ন হয়েছে। গত ১৬ ও ১৭ ফেব্র“য়ারি রাউজান উপজেলার মহামুনি গ্রামে মহানন্দ সংঘরাজ বিহার সংলগ্ন মাঠে এই উপলক্ষে উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন বড়–য়া ও বিপ্লব বড়–য়ার পরিচালনায় তিন পর্বের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রথম দিবসে কুমিল্লা কনকস্তুপ বিহারের অধ্যক্ষ অধ্যপক ধর্মরক্ষিত মহাথেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার সভাপতি ভদন্ত অজিতানন্দ মহাথের। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন চবি’র প্রাচ্যভাষা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিনবোধি ভিক্ষু। মূখ্য আলোচক ছিলেন চবি’র রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. বেণীপ্রসাদ বড়–য়া। বিশেষ আলোচক ছিলেন ভদন্ত মৈত্রীপ্রিয় মহাথের, ড. জিনপ্রিয় মহাথের, রাম্য লেখক সত্যব্রত বড়–য়া প্রমুখ। সমাপনি দিবসে দুই পর্বের ধর্মীয় সভায় সভাপতিত্ব করেন যথাক্রমে একুশে পদক প্রাপ্ত উপ সংঘরাজ সত্যপ্রিয় মহাথের ও বাংলাদেশী বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু সংঘরাজ ড. ধর্মসেন মহাথের। প্রথম পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ উপ সংঘরাজ ড. জ্ঞানশ্রী মহাথের। আশির্বাদক ও মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বলক ছিলেন ভারতীয় সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার উপ-সংঘরাজ ভদন্ত রতনজ্যোতি মহাথের। সদ্ধর্ম দেশক ভদন্ত শাসন বংশ মহাথের, ভদন্ত সুমঙ্গল মহাথের, ড. কাচ্চায়ন মহাথের (ভারত) প্রমুখ। শেষপর্বের উদ্বোধক ছিলেন চবি’র অধ্যাপক ড. জিনবোধি ভিক্ষু। আশির্বাদক ও মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বলক ছিলেন উপ-সংঘরাজ স্মৃতিধর শীলানন্দ মহাথের। অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন জয়ন্তীনায়ক উপ সংঘরাজ ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের। আলোচক ছিলেন অধ্যাপক ধর্মরক্ষিত মহাথের, চবি’র অধ্যাপক ড. জ্ঞানরতœ মহাথেরড. সংঘপ্রিয় মহাথের,ভদন্ত এস লোকজিৎ স্থবির প্রমুখ। এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভদন্ত বুদ্ধরক্ষিত মহাস্থবির, সরজিত বড়–য়া রুরু, পবন কুমার বড়–য়া, অঞ্জন বড়–য়া, মলয় মুৎসুদ্দি প্রমুখ ।
সভায় বক্তারা বলেন, মূর্খের সেবাদাস হয়ে নয়, গুণীর প্রতি নিমগ্ন নৈবেদ্য গুণীর জন্ম দেয়। প্রজ্ঞার আশ্রিত হলেই মঙ্গলের আবির্ভব ঘটে। ধর্মপ্রিয় মহাথেরো’র হীরক জয়ন্তী অনুষ্ঠান প্রকৃত পক্ষে এই সময়ের পূণ্যময় ঘটনা প্রবাহ। বর্তমান এই ক্রান্তিকালে সুবচন নির্বসিত। এই সময়ে এমন একজন পূণ্যপুরুষের প্রতি গৌরব প্রদর্শন সমাজের সকল ক্ষেত্রে মঙ্গলের বাতাবরণ সৃষ্টি করবে।

মতামত দিন

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register