রাউজানের দুর্ঘম সুলতান নগরে স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর বিদ্যুত পেলেন ৪২ পরিবার, এলাকায় আনন্দ

এম বেলাল উদ্দিন,রাউজান থেকে ঃ-

রাউজান সদর থেকে ২২ কিলোমিটার উত্তরে পূর্বে দুর্ঘম সুলতান নগর নামক জায়গায় ২/৩শ জন মানুষের বসবাস সে আদিকাল থেকে। একটি খর¯্রােত সর্তখাল ঐ এলাকার বসবাসরত কৃষি নির্ভর ঐ মানুষগুলোকে অবহেলিত করে রেখেছে দীর্ঘ ৪৬ বছর। তারা শিক্ষা ,চিকিৎসা ,যাতায়েত,বিদ্যুত সকল সরকারী সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। জানাগেছে উপজেলার ১নং হলদিয়া ইউনিয়নের একটি এলাকার নাম সুলতান নগর প্রকাশ ওয়াহেদের খীল। সেটি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের অংশ বিশেষ। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সুলতান নগরের দুরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। আকাঁ বাকাঁ পথ বেয়ে যেতে হয় এই এলাকায়।ইউনিয়ন পরিষদ কিংবা রাউজান সদরে আসতে হলে পায়ে হেঁটে দুইবার পার হতে হয় খর¯্রােত সর্তখাল।বর্তমান মৌসুমে পায়েহেটে পারাপার হওয়া গেলেও বর্ষাকালে তাদের নৌকায় একমাত্র ভরসা। একেবারেই দুর্ঘম ঐ এলাকায় যাওয়াই কঠিন। গাড়ী যাওয়ার সে ব্যবস্থা এখনো হয়ে উটেনি। সে ব্রিটিশ আমল থেকে সে পাহাড় বেষ্ঠিত টিলায় টিলায় মানুষের বসবাস। যোগাযোগ শিক্ষা সহ সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল ঐ এলাকার মানুষ। খালের পূর্বপাড়ে রাউজানের সিমান্ত, আর পশ্চিম পাড়ে ফটিকছড়ি সিমান্ত,। সুলতান নগরের পূর্ব প্রান্তে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির কাউখালি উপজেলা, আর উত্তরে খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষিছড়ি উপজেলার বর্মাছড়ি এলাকা অবস্থিত। মধ্যখানে রাউজানের একদম উত্তর পূর্ব প্রান্তের সহজ সরল খেটে খাওয়া এই মানুষগুলো ছিল একদম সুবিধা বঞ্চিত। সে আদিযুগে চেয়ারম্যান মেম্বার নেতা নেত্রী নাম শুনত কিন্তু এদের কাজ কি এরা এসব কিছু বুঝত না। ওদের কাজ ছিল সারাদিন পরিশ্রম করে তিন বেলা খেয়ে ঘুমানো আবার দৈনন্দিন কাজে যোগ দেওয়া। এর বাইরে তাদের আর কোন কিছুর আগ্রহ থাকত না। তারা রাউজানের হলেও তাদের কেনাকেটা ও যোগাযোগ ফটিকছড়ির সাথেই। যাথায়াত,শিক্ষা,চিকিৎসা,বিদ্যুত সব কিছুতেই স্বাধীনতার পর থেকে তারা অবহেলিত ছিল। আওয়ামীলীগ ছাড়া অনেক সরকার এসেছে কিন্তু তাদের এলাকার কথা কেউ চিন্তা করেনি। কিন্তু যখন রাউজানের উন্নয়নের রুপকার এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি সমগ্র রাউজানের প্রতিটি গ্রামে পাড়া মহল্লায় উন্নয়নের ছোয়া লাগিয়ে দিচ্ছেন সে মুহুর্তে এই সুলতান নগরের অবহেলিত অনুন্নয়নের কথা ওনার দৃষ্টিতে পেলেন রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এহছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল আর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুক্তিযুদ্ধা শফিকুল ইসলাম। তখনই এমপি সাহেব নির্দেশ দেন এই সুলতান নগর অবহেলিত থাকতে পারবে না। বিদ্যুত,শিক্ষা,যোগাযোগ সব কিছু এই এলাকায় হতে হবে। এমপি সাহেব বলেছিলেন রাউজানের প্রতিটি এলাকা সরকারের উন্নয়নের আওতায় যেভাবে আসতেছে সেভাবে অবহেলিত সুলতান নগর কে নিয়ে আসতে হবে। এর ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ স্বাধীনতা পরবর্তী গতকাল ১৮ই ফেব্রুয়ারী শনিবার দুপুরে সে এলাকার প্রথম চাহিদা ৪২ পরিবারের মধ্যে নতুন বিদ্যুতায়ন উদ্বোধন করা হয়েছে। সরেজমিন গিয়ে দেখাযায় ঐ এলাকার নতুন বিদ্যুত সংযোগ পাওয়া ঐ এলাকার বাসিন্দারা আনন্দে আতœহারা। তারা বলেন আমরা ভাবতেও পারিনি আমাদের এখানে কারেন্ট আসবে। সত্যি হল আজকে রাউজানের এমপি সাহেব যেটি বলেন ওনি সেটা করেন। এমপির বদৌলতে ও উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ইউপি চেয়ারম্যানের আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় আমাদের এলাকায় আজ আমরা বিদ্যুত সুবিধা পেলাম। গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুত সমিতি -২ এর অধীনে (আজাদী বাজারের লাইনে) প্রায় ৪২ পরিবারের সরকারী এই নতুন বিদ্যুাতায়নের উদ্বোধন করেন রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এহেছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল।এই সময় উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম ,পল্লী বিদ্যুতের এজিএম বাবুল হিমেল কুমার শাহা,ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাহাবুদ্দিন,ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মুহাম্মদ মুনছুর আলম,সমাজ সেবক লতিফ মেম্বার,স্থানীয় ইউপি সদস্য সবুজ বড়–য়া,মেম্বার মোহাম্মদ আলী,মেম্বার শাহজাহান,যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ জসীম,হাছান মুরাদ রাজু,সাব্বির,বাবর,খোকন,ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি মোহাম্মদ তৌহিদুল আলম প্রমুখ।

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register