যে বাক্যটি পুরোপুরি বলা শেষ করলেন না প্রধান বিচারপতি

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদের দ্বারা বিচারপতিদের অপসারণে আনা সংশোধনীটি বাতিলে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি (যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন) চলছে। শুনানি চলাকালে বিচার বিভাগের ওপর বিচারপ্রার্থীদের ৯০ পার্সেন্ট প্লাস আস্থা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

তবে অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশ্যে বলতে গিয়ে ‘‘আপনারাতো প্রধান বিচারপতিকে পঙ্গু করে রাখার…’’ বক্তব্যটি অসমাপ্ত রাখেন তিনি।

বুধবার সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর ওপর রাষ্ট্রপক্ষের ষষ্ঠ দিনের শুনানি চলাকালে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম লিখিত যুক্তিতর্কের ওপর আদালতে শুনানি করেন।

প্রধান বিচারপতির আদালতের প্রশংসার বক্তব্য টেনে শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, কোর্ট সম্পর্কে গণশুনানি নেন। বিচারপ্রার্থী ও জনগণের। কোর্টে যা হচ্ছে তা নিয়ে!

এসময় প্রধান বিচারপতি বলেন, মিস্টার অ্যাটর্নি জেনারেল, বর্তমানে জুডিশিয়ারির (বিচার বিভাগ) ওপর মানুষের আস্থা ৯০ পার্সেন্ট প্লাস। চৌকি আদালত (গ্রাম্য সালিশ আদালত) থেকে উচ্চ আদালত পর্যন্ত, আমি বাঁশখালীর চৌকি আদালতে গিয়েছি। সেখানে যতো বিচারপ্রার্থী আসেন ডিসি অফিসেও এতো (বিচারপ্রার্থী) আসেনা। বাংলাদেশের যেকোনো প্রতিষ্ঠানের চেয়ে জুডিশিয়ারি একশগুণ বেটার। আপনারাতো (নির্বাহী ও আইন বিভাগ) প্রধান বিচারপতিকে পঙ্গু করে রাখার…।

পরে অ্যাটর্নি তার বক্তব্যে বলেন, আই অ্যাম নট টোটালি হ্যাপি…।

এর আগে গত ৮ মে পেপার বুক থেকে রায় পড়ার মাধ্যমে এই মামলার আপিল শুনানি শুরু হয়। এরপর ৯ মে দ্বিতীয় দিনের মতো শুনানি হয়। এ দুদিন রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা হাইকোর্টের রায়েরর ওপর আদালতে শুনানি করেন।

এরপর ওইদিনই আদালতে চারজন অ্যামিকাস কিউরি তাদের লিখিত মতামত জমা দেন। এই চারজন হলেন- সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার এম. আমীর-উল ইসলাম, এম আই ফারুকী ও আবদুল ওয়াদুদ ভূইয়া। সেদিনই আদালত ২১ মে শুনানির পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেছিলেন।

এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় আপিল শুনানিতে সহায়তার জন্য ১২ জন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ দেন আপিল বিভাগ।

অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ১২ আইনজীবী হচ্ছেন- বিচারপতি টিএইচ খান, ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, এ এফ হাসান আরিফ, ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, ফিদা এম কামাল, ব্যারিস্টার আজমালুল কিউসি, আবদুল ওয়াদুদ ভূইয়া, এম আই ফারুকী।

বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা ফের সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস করা হয়। এরপর তা ওই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর গেজেট আকারে প্রকাশ পায়। এ অবস্থায় সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।

এ আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট ওই সংশোধনী কেন অবৈধ, বাতিল ও সংবিধান পরিপন্থি ঘোষণা করা হবে না-তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। এ রুলের ওপর শুনানি শেষে গত ৫মে আদালত সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকের মতামতের ভিত্তিতে ১৬তম সংশোধনী অবৈধ বলে রায় দেন। তিন বিচারকের মধ্যে একজন রিট আবেদনটি খারিজ করেন।

এর মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠদের রায় প্রকাশিত হয় গত ১১ আগস্ট এবং রিট খারিজ করে দেওয়া বিচারকের রায় প্রকাশিত হয় ৮ সেপ্টেম্বর। দুটি মিলে মোট ২৯০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে পরে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে।

মতামত দিন

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register