breaking news New

মোদীকে ভারত ছাড়ার হুমকী মমতার

প্রতিবেশী ডেস্কঃ এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দেশছাড়া করার হুমকি দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মোদীর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কার, ‘মোদীবাবু আপনি যেদিন ক্ষমতায় থাকবেন না, সেদিন ভারতের মানুষ আপনাকে কী করবে, আপনি সেটা নজরে রাখবেন।’ প্রধানমন্ত্রীকে ‘চুনোপুটি’ নেতা বলে সম্বোধন করে তাকে কার্যত দেশছাড়া করার হুমকি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

সোমবার দুপুরে বর্ধমানে মাটি উৎসবের মঞ্চ থেকে তিনি এসব কথা বলেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষ এদের একদিন ঘাড় ধরে ক্ষমতা থেকে টেনে নামাবে। তখন ওরা কেউ লন্ডনে পালাবে, কেউ আমেরিকায় পালাবে।’

এদিন সাউথ অ্যাভিনিউয়ের সার্ভিস লেনের পাশে চেয়ারে বসে মোদী-বিরোধী স্লোগান দেন তৃণমূল সংসদ সদস্যরা। সেটাও করলেন দিল্লি পুলিশকে আগাম চিঠি দিয়ে।

বর্ধমানের কালনা রোডে মাটিতীর্থ কৃষিকথা প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘মাটি উৎসব’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠান মঞ্চে মমতা আরো একবার আশঙ্ক প্রকাশ করে বলেন, নোট বাতিলের জেরে আগামী দিনে রাজ্যে দুর্ভিক্ষ আসতে চলেছে। গত দু’মাসে রাজ্য সরকারের প্রায় ২৫ শতাংশ রাজস্ব আদায় কমেছে। ফলে আগামী দিনে সরকারি কর্মচারীরা মাস পয়লার বেতন পাবেন কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন।

নোট ভোগান্তির মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে সরকারি কর্মচারীদের কপালের ভাঁজ যে চওড়া হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

মমতার এই লড়াইয়ের শরিক হওয়ার জন্য সরাসরি শিল্পপতিদের আহ্বান জানান। মঞ্চে বসে থাকা বণিকসভার প্রতিনিধিদের অস্বস্তি বাড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চেম্বাররা চুপচাপ বসে আছে কেন? শিল্পকর্তারা কিছু বলছেন না কেন? সিবআই করবে? আইটি করবে। আমাদের করছে না। তাতে কী যায় আসে? মোদীবাবু ভারতবর্ষে কত জেল তৈরি করতে পারে, একবার দেখতে চাই।’

নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর এই গরমাগরম ভাষণ অবশ্য এই প্রথম নয়। ঠিক আড়াই বছর আগে লোকসভা ভোটের মুখে মোদীকে কোমরে দড়ি পরিয়ে রাস্তায় ঘোরানোর হুমকি দিয়েছিলেন মমতা। সেই সময় মোদী ছিলেন প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী।

নোট বাতিলের ইস্যুতে তৃণমূল সরব হওয়াতেই যে, কেন্দ্রীয় সরকার সিবিআইকে দিয়ে তার দলের নেতা-মন্ত্রীদের গ্রেপ্তার করছে, সে কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী কিংবা তার দল নোট বাতিলের বিরোধিতার রাস্তা থেকে সরছে না বলে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন।

মমতা বলেন, ‘প্রতিবাদ করলেই সন্ত্রাস। চক্রান্তকারী দল। ‘কনস্পিরেসি ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন’ (সিবিআই) তৈরি করেছে। একটা ব্যাক অফিস তৈরি করেছে। কোনো তথ্য-প্রমাণ নেই। কিন্তু জোর করে লিখিয়ে নিচ্ছে।’

দিল্লিতে প্রথম দু’দিন প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি ও অফিসে বিক্ষোভ দেখানোর পর এখন তো ছোটখাট কোনো জায়গায় প্রতিবাদ দেখাতে যেতে পারেন না তৃণমূল সাংসদরা। সাধারণত, বিক্ষোভ ছোট থেকে ক্রমশ বড় আকার নেয়। কিন্তু এখানে অন্তিম সিদ্ধান্তটা আগে নিয়ে নিয়েছেন তারা। তাই আপাতত পুলিশি প্রহরায় সাউথ অ্যাভিনিউয়ের একপাশে বসে বিক্ষোভ দেখালেন তৃণমূল সংসদ সদস্যরা।

পরপর দু-বার বোকা হয়ে যাওয়ার পর দিল্লি পুলিশ এ দিন আগাগোড়া সতর্ক ছিল। তৃণমূল সংসদ সদস্যদের এক মূহূর্তের জন্যও নজরছাড়া করেনি পুলিশ। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

মতামত দিন

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register