breaking news New

‘মিন্নির পরকীয়া ও ষড়যন্ত্রের শিকারে স্বামী রিফাত খুন, মিন্নির জবানবন্দী’

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বরগুনায় সড়কে প্রকাশ্যে কুপিয়ে রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্র তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিই করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ। তিনি মিন্নির বাবা-মাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের দাবিও জানিয়েছেন।
শুক্রবার দুপুরে বরগুনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। এ সময় নিহত রিফাত শরীফের চাচা আবদুল আজিজ শরীফসহ পরিবারের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
দুলাল শরীফ বলেন, আমার ছেলেকে হত্যার পেছনে মিন্নিই ষড়যন্ত্র করেছে। এর আগে এসআই আসাদ, ওবায়দুল ও এএসআই সোহেল খান, নয়ন বন্ড ও মিন্নি চলতি বছরের ১১ মে আমার ছেলেকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে জেলহাজতে পাঠায়।
রিফাত হত্যা মামলার তদন্ত পিবিআইয়ে স্থানান্তরের দাবির প্রতিবাদ জানান দুলাল শরীফ। বলেন, রিফাত হত্যাকাণ্ডের তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির বাবা পিবিআই ও সিআইডির তদন্ত দাবি করছেন।
লিখিত বক্তব্যে দুলাল শরীফ বলেন, ‘আমার ছেলে শাহনেওয়ার রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ১৫ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ১৫ আসামিই হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মামলার সামগ্রিক কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে এগিয়ে চললেও প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে মামলাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে এক পক্ষ।’
দুলাল শরীফ বলেন, ‘মামলার বাদী হিসেবে আমি মনে করি তদন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে হচ্ছে। কিন্তু আসামিরা মামলাকে ভিন্ন খাতে নিতে পিবিআই ও সিআইডির তদন্তের দাবি জানাচ্ছে। এটি কোনোভাবেই মানা যায় না যে মামলার আসামি হয়ে মামলার তদন্ত পরিবর্তনের দাবি জানায়। এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো ষড়যন্ত্র আছে। আমি পুলিশের তদন্তে সন্তুষ্ট।’
প্রসঙ্গত এর আগে গত ২৪ জুলাই মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশের কাছ থেকে মামলাটিকে পিবিআই তদন্তের দাবি জানান।
তিনি বলেন, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে পুলিশ মিন্নির জবানবন্দি নিয়েছে। প্রভাবশালী মহলকে বাঁচাতে পুলিশ এ ঘটনায় মিন্নিকে ফাঁসাচ্ছে। তাই এ মামলার তদন্ত পিবিআইতে স্থানান্তরের দাবি জানাচ্ছি।
মিন্নি স্বামী রিফাতকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছে দাবি করে মোজাম্মেল হক বলেন, আপনারা সবাই ভিডিও ফুটেজে দেখেছেন রিফাতকে বাঁচাতে মিন্নি জীবনবাজি রেখেছে। শত চেষ্টা করেও তাকে রক্ষা করতে পারেনি।
উল্লেখ্য, বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় ২৬ জুন সকাল ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। বিকাল ৪টায় বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
এ হত্যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। হত্যাকাণ্ডের পরের দিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম শরীফ বরগুনা থানায় ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ ছাড়া সন্দেহভাজন অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়। এ মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। মামলার এজাহারভুক্ত ছয় আসামিসহ এ পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জনই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
রিফাত হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী ও রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতার এবং রিমান্ডে গিয়ে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর থেকে মামলা ভিন্ন দিকে মোড় নেয়।
১৬ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরগুনার মাইঠা এলাকার বাবার বাসা থেকে মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার বক্তব্য রেকর্ড করতে বরগুনা পুলিশলাইনসে নিয়ে যায় পুলিশ। এর পর দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৯টায় মিন্নিকে রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
পর দিন মিন্নিকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে তার পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। আদালত মিন্নির পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন আদালতের বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজী।
পর দিন বৃহস্পতিবার বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে জানান, মিন্নি তার স্বামী রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
গত শুক্রবার বিকালে মিন্নি একই আদালতে তার স্বামী রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মতামত দিন

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register