breaking news New

মমতার তৃণমূলকে মিছিল বন্ধের নির্দেশ প্রশাসনের, উত্তেজিত জনতা

অনুপম চ্যাটার্জী, কলকাতা: নতুন করে উত্তেজনা ছড়াতে পারে, সেই আশঙ্কা থেকেই ভাটপাড়ায় তৃণমূলের মিছিলে অনুমতি দিল না স্থানীয় প্রশাসন।

সোমবার দুপুরেই তৃণমূল কংগ্রেস ঠিক করে ফেলেছিল সন্ধে বেলা অর্জুন সিং-এর নাকের ডগায় মিছিল করবে। এমন জমায়েত করবে যে, তাক লেগে যাবে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের ‘স্ট্রং ম্যান’-এর। সেই মতো খবরাখবর দিয়ে কাঁকিনাড়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় জমায়েতও করেছিল শাসক দলের কর্মীরা। কিন্তু প্রশাসন অনুমতি দিল না ওই মিছিলের। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৃণমূল নেতৃত্বকে জানিয়ে দেওয়া হয়, ভোটের সময় যখন তখন মিছিল করা যায় না। যে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য আগাম অনুমতি নিতে হয়। শাসক দলের নেতারাও আর বিশেষ বিতণ্ডায় যাননি। ফলে ভেস্তেই যায় মিছিল।

তবে জগদ্দলের এক তৃণমূল নেতা বলেন, প্রশাসনের থেকে অনুমতি নিয়েই মিছিল হবে। বুধবার বিকেলে মিছিল হতে পারে বলে তৃণমূল সূত্রের খবর। ব্যারাকপুর লোকসভার তৃণমূল প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদী—সহ জেলার একাধিক নেতাদের নিয়ে ভাটপাড়ায় ওই মিছিল করতে চাইছে তৃণমূল।

সোমবার ভাটপাড়া পুরসভার আস্থা ভোটে অর্জুন সিং হারতেই অশান্তি শুরু হয় ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে। ভাটপাড়া, নৈহাটি, জগদ্দল, কাঁকিনাড়া—সহ একাধিক জায়গায় বিজেপি পার্টি অফিস ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। শাসক দলের পাল্টা অভিযোগ, হেরে যাওয়ার পর অর্জুনের অনুগামীরা তৃণমূলকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মারধর শুরু করে। এর পরই জনরোষ আছড়ে পড়ে বিজেপি-র একাধিক পার্টি অফিসে।

রবিবার রাত থেকেই এই অঞ্চলে উত্তাপ বাড়ছিল। বিজেপি নেত্রী ফাল্গুনী পাত্রর গাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। কয়েকশ অর্জুন-অনুগামী থানা ঘেরাও করে রাখে দীর্ঘক্ষণ। তারপর এ দিন ‘বাহুবলী নেতা’ হারতেই, উত্তেজনার পারদ চড়ে যায়। রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, “কেন্দ্রীয়বাহিনীকে ব্যবহার করে তৃণমূলকর্মীদের বাড়িবাড়ি হামলা চালানো হচ্ছে। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে।” বালুবাবুর আরও অভিযোগ, কেন্দ্রীয়বাহিনী মহিলাদের গায়ে হাত তুলতেও রেয়াত করছে না। কমিশনে এ নিয়ে অভিযোগ জানানো হবে বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, “অর্জুনবাবুর নেতৃত্বেই এই হামলা হয়েছে। আমরা কমিশনে জানাব, কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হবে না।”

আস্থা ভোটে অর্জুনের হারের পর উচ্ছ্বসিত তৃণমূল। জেলা সভাপতি বালুবাবু তো বলেই দিয়েছেন, “দীনেশ ত্রিবেদী আজকেই জয়ের দিকে পাঁচ ধাপ এগিয়ে গেলেন।” সবুজ আবিরে ছয়লাপ হয়ে যায় এলাকা। পুরসভা থেকে বেরিয়ে জগদ্দলের দিকে হাঁটতে শুরু করেন অর্জুন। অনুগামীরাও ভিড় জমান দাদার পিছনে। হারার পরও কার্যত মিছিলের চেহারা দিয়ে দিয়েছিলেন অর্জুন। তখনই শাসক দল পরিকল্পনা করেছিল পাল্টা মিছিল করার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হল না।

গোটা এলাকার পরিস্থিতি থমথমে। কখন কী হবে কেউই প্রায় বলতে পারছেন না। বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন রয়েছে এলাকায়। টহল চলছে কেন্দ্রীয়বাহিনীরও। ৬ মে ভোট হবে ব্যারাকপুরে। কিন্তু এক মাস এগেই যদি উত্তেজনা এই জায়গায় যায়, তাহলে ভোট এগিয়ে এলে আর কী কী হবে সে তা নিয়েই আতঙ্কে এলাকার সাধারণ মানুষ।

মতামত দিন

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register