breaking news New

ভয়াবহ আফগান-যুদ্ধে কর্ণেল মার্টিনকে বাচিয়েছেন মহাদেব শিব

সিমলা চ্যাটার্জী, বিশেষ প্রতিবেদক, নয়াদিল্লী, ভারত: কে বলে দেবতা ধর্ম মেনে বিচার করেন? জানেন, একসময় এক ব্রিটিশ কর্নেলকে নাকি প্রাণে বাঁচিয়েছিলেন স্বয়ং মহাদেব। আর তার কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তিনি পুনর্নির্মাণ করে দেন এক জাগ্রত মন্দিরেরও। হ্যাঁ, শুনতে অদ্ভুত লাগলেও ইতিহাস এমনটাই বলছে। সে ইতিহাস জানতে ফিরে যেতে হবে ব্রিটিশ ভারতে।

১৮৭৯ সাল। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মার্টিনকে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী পাঠিয়েছিল আফগানিস্তান যুদ্ধে। তাঁর স্ত্রী এবং পরিবার থাকত হিমাচল প্রদেশে। স্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত চিঠিতে যোগাযোগ রাখতেন মার্টিন। কিন্তু একসময় বন্ধ হয়ে গেল চিঠি। দীর্ঘদিন স্বামীর কোনও খবর না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন মার্টিনের স্ত্রী। স্থানীয়দের পরামর্শে তিনি গেলেন বৈজনাথে মহাকালের মন্দিরে। ধর্মশালা থেকে প্রায় ৫০ কিমি দূরে কাংড়া উপত্যকায় এই তীর্থস্থান ভক্তদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় ছিল।

পুরাণে কথিত আছে‚ এই মন্দিরের শিবলিঙ্গ নাকি রাবণের সঙ্গে জড়িত। বলা হয়, রাবণ কৈলাস পর্বতে তপস্যা করার সময় মহাদেবের উদ্দেশে তাঁর দশটি মাথাই উৎসর্গ করেন। সন্তুষ্ট শিব আবার তাঁকে ফিরিয়ে দেন দশানন। রাবণ শিবকে নিয়ে যেতে চান লঙ্কায়। শিব বলেন‚ রাবণ তা পারবেন। কিন্তু তিনি যে শিবলিঙ্গের রূপ ধারণ করবেন সেটিকে একবারও মাটিতে নামানো যাবে না। সেই শর্তে রাবণ নিয়ে যান মহাদেবকে। পথে হিমাচলের বৈজনাথে এসে তিনি বাধ্য হন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে। সামনেই এক রাখাল বালককে দেখে তাকে ধরতে দেন শিবলিঙ্গ। কিন্তু ওই ভার সহ্য করতে না পেরে সে তা মাটি নামিয়ে ফেলে। অনেকের মতে, ওই রাখাল আসলে ছিল গণেশের এক রূপ। এভাবেই দেবতারা ছল করে মহাদেবের লঙ্কায় যাওয়া আটকে দেন। সেই থেকে মহাদেব বৈজনাথে অধিষ্ঠিত। তিনি পূজিত হন অর্ধনারীশ্বর রূপে। তবে ঐতিহাসিক তথ্য বলে‚ এই মন্দির নির্মিত হয়েছিল ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে শক শাসকদের আমলে।

এই জাগ্রত মন্দিরে এসে ১১ দিন ধরে শিবের উপাসনা করেন মার্টিনের স্ত্রী। এরপরে একদিন এল তাঁর স্বামীর বহু প্রতীক্ষিত চিঠি আসে। কর্নেল লিখেছেন‚ পাঠানদের হানায় একেবারে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন তাঁরা। পালানোর কোনও পথই ছিল না। কিন্তু এর পরেই আশ্চর্য ঘটনা ! আবির্ভূত হন এক রহস্যময় যোগীমূর্তি। বাঘছাল পরা ত্রিশূলধারী সেই যোগীর তাণ্ডবে পাঠানরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। রক্ষা পান ব্রিটিশ কর্নেল এবং তাঁর বাহিনী। হিমাচলে ফিরে স্ত্রীর সঙ্গে বৈজনাথ মন্দিরে যান কর্নেল। সেখানে গিয়ে তিনি হতভম্ব হয়ে পড়েন। এই তো সেই যোগী যিনি উদ্ধারকর্তা হয়ে এসেছিলেন তাঁর কাছে ! তবে কি মহাদেব স্বয়ং আবির্ভূত হয়েছিলেন আর্তকে রক্ষা করতে ? এই ঘটনায় অভিভূত হয়ে কৃতজ্ঞ কর্নেল মন্দিরে প্রচুর অনুদান দেন। পুনর্নির্মাণ করে দেন মন্দিরের। এটাই ভারতের একমাত্র মন্দির যেটির পুনর্নির্মাণ করেছিলেন কোনও ব্রিটিশ কর্নেল। মন্দিরটিতে পাথরে এখনও খোদাই করা আছে সেই কাহিনী। (Kolkata24)

মতামত দিন

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register