ভাড়াটেদের পরিচয়পত্র জমা দিতে সিলেটে মাইকিং

সিলেটের আতিয়া মহলে জঙ্গি আস্তানা ও বাইরে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে সিলেটের প্রশাসন। সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় ভাড়াটেদের নিজ নিজ জাতীয় পরিচয়পত্র উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসনে জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করা হচ্ছে।

প্রশাসন বলছে, প্রত্যেক বাড়িওয়ালা তাদের ভাড়াটেদের তালিকা পুলিশ প্রশাসনে জমা দিয়েছেন অনেক আগে। বর্তমানে সিলেটের আতিয়া মহলে জঙ্গি আস্তানা আবিষ্কৃত হওয়ায় ও বাইরে বোমা বিস্ফোরণে ৬ জন নিহতের ঘটনায় তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে। ভাড়াটেদের জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিতে প্রসাশনের পক্ষে সোমবার থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। ভাড়াটে ও বাড়িওয়ালাদের যত দ্রুত সম্ভব জমা ভাড়াটেদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার জন্য মাইকিং করে জাননো হয়।

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন বলেন, ‘সম্প্রতি সিলেটের জঙ্গিদের অবস্থান এবং জঙ্গিদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় সতর্কতামূলক এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য বাসা বাড়িতে যেসব ভাড়াটেরা অবস্থান করছেন তাদের ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়া হচ্ছে।’

সিলেটের ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আউয়াল চৌধুরী বলেন, ‘ভাড়াটেদের হালনাগাদ তথ্য থানায় জমা দেওয়ার জন্য থানা কর্তৃপক্ষ মাইকিং করেছে। অনেক বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটেরা নিজ উদ্যোগে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবিসহ তথ্য জমা দিচ্ছেন।’

শিবববাড়ির উস্তার মিয়ার মালিকানাধীন আতিয়া মহল নামের বাড়িটি গত বৃহস্পতিবার রাত ৩টা থেকে ঘিরে রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরদিন শুক্রবার দিনভর দফায় দফায় পুলিশের ফাঁকা গুলি ও বাড়ির ভেতর থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে বিস্ফোরণের শব্দ গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। বিকেলে ঢাকা থেকে সিলেটে পৌঁছায় সোয়াট টিমের সদস্যরা। তারা জঙ্গি আস্তানা রেকি করে ভেতরে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক রয়েছে বলে ধারণা করেন।

এদিকে মাইকে বার বার জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানায় পুলিশ। মর্জিনা নামে সন্দেহভাজন এক নারী জঙ্গির নাম ধরে মাইকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। ভেতর থেকে আল্লাহু আকবর বলে শ্লোগান দেয় জঙ্গিরা। তারা বলে, আমরা আল্লাহর পথে আছি। ওই দিন রাত ৮টায় সিদ্ধান্ত হয়, পুলিশ, র‌্যাব কিংবা সোয়াট নয়, অভিযান চালাবে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডোরা।

গত শনিবার সকাল থেকে আতিয়া মহলে জিম্মি ৭৮ জনকে উদ্ধার করে সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো ইউনিট। দুপুর ২টা থেকে অ্যাকশনে যায় ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ সদস্যরা। সন্ধ্যায় দিনভর অভিযানে ব্যাপারে প্রেস ব্রিফিং করে সেনাবাহিনী। ওই প্রেস ব্রিফিং শেষে ফেরার পথে গোটাটিকর পাঠানপাড়া মাদ্রাসার সামনে ও জৈনপুর রাস্তার মুখে দু’দফা বিস্ফোরণে ২ পুলিশ কর্মকর্তা, ছাত্রলীগের ২ কর্মীসহ ৬ জন নিহত হন। নিহতরা হলেন ইন্সপেক্টর আবু কয়ছর, ইন্সপেক্টর মনিরুল ইসলাম, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রলীগের উপ-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম অপু, ছাত্রলীগ কর্মী জান্নাতুল ফাহিম, ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম ও মাসুক মিয়া। আহত হন দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি, র‌্যাবের গোয়েন্দা প্রধানসহ ৪৫ জন। এর পর শনিবার রাতেই শিববাড়ি এলাকার ১ কিলোমিটারে চলাচলে সীমাবদ্ধতা জারি করে প্রশাসন।

Print Friendly, PDF & Email
 

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

%d bloggers like this: