breaking news New

বিজেপির যোগী আদিত্যনাথকে লাঞ্চিত নির্বাচন কমিশনের, ক্ষমা চাইতেই হবে কংগ্রেস নেত্রী পিয়ঙ্কার দাবি

অনুপম ব্যানার্জী,কোচবিহার,কলকাতাঃ ভারতের সেনাবাহিনীকে ‘মোদীজি কা সেনা’ বলেছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি ওই মন্তব্য করার পাঁচ দিন পর, শুক্রবার তাঁকে কঠোর তিরস্কার করল নির্বাচন কমিশন। তাঁকে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এই ধরনের কথা বলবেন না।

গত রবিবার উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে এক জনসভায় যোগী আদিত্যনাথ মন্তব্য করেন, কংগ্রেসের লোকেরা সন্ত্রাসবাদীদের বিরিয়ানি খাওয়াত। কিন্তু মোদীজির সেনা তাদের বোমা আর বুলেট খাইয়েছে। এই হল কংগ্রেসের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য।

কংগ্রেসের আরও সমালোচনা করে যোগী বলেন, তারা মাসুদ আজহারের মতো জঙ্গিকে সম্মান দেখিয়ে ‘জি’ বলে সম্বোধন করে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার জঙ্গিদের ঘাঁটিতে বোমা বর্ষণ করেছে। তাদের মেরুদণ্ড ভেঙে গিয়েছে।

বিরোধী দলগুলি তো বটেই, এমনকী প্রাক্তন সেনা অফিসাররাও যোগীর ওই মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, সেনাবাহিনী অরাজনৈতিক সংগঠন। তাকে রাজনীতির মধ্যে টেনে আনা ঠিক নয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেন, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে ইন্ডিয়ান আর্মিকে ‘মোদী সেনা’ বলেছেন, তা খুবই আপত্তিকর। আমাদের প্রিয় সেনাবাহিনীকে তিনি অপমান করেছেন।

কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা চতুর্বেদি মন্তব্য করেন, ভারতের সেনাবাহিনীকে ‘মোদীজি কি সেনা’ বলার জন্য যোগী আদিত্যনাথকে ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি টুইট করেন, ইন্ডিয়ান আর্মি কোনও প্রচার মন্ত্রীর প্রাইভেট আর্মি নয়।

প্রিয়ঙ্কা চতুর্বেদী যোগীকে মনে করিয়ে দেন, ১৯৯৯ সালে জঙ্গিরা আই সি ৮১৪ নম্বরের একটি বিমান ছিনতাই করে। সেই বিমানের যাত্রীদের উদ্ধার করার জন্য জঙ্গি নেতা মাসুদ আজহারকে জেল থেকে ছেড়ে কন্দহরে পৌঁছে দিয়ে আসা হয়েছিল।

প্রিয়ঙ্কার প্রশ্ন, এখন যিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সেই অজিত দোভাল ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা করেছিলেন যাতে মাসুদকে মুক্তি দেওয়া হয়। আমরা সেকথা কীভাবে ভুলে যাব?

এমনকী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা প্রাক্তন সেনা কর্তা ভি কে সিং সুদ্ধু বলেছিলেন, ভারতীয় সেনা কোনও ব্যক্তি বিশেষের সম্পত্তি নয়। তা পুরো জাতির সম্পত্তি। নৌবাহিনীর প্রাক্তন কর্তা এল রামদাস নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেন তারা যেন খতিয়ে দেখে যোগীর মন্তব্যে আদর্শ আচরণ বিধি ভাঙা হয়েছে কিনা। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন যোগীর কাছে ওই মন্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যা চায়।

গত মাসে নির্বাচন কমিশন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিল, আধুনিক গণতন্ত্রে সেনাবাহিনী অরাজনৈতিক ও নিরপেক্ষ শক্তি হিসাবে কাজ করে। তার কথা কোনওভাবেই নির্বাচনের প্রচারে টেনে আনা যাবে না।

মতামত দিন

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register