breaking news New

বাংলাদেশে প্রকৃত বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৭৭ হাজার: পরিসংখ্যান ব্যুরো জরিফ

অর্থনীতি ডেস্ক: শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান বলেছেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো সম্প্রতি প্রকাশিত শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সারাদেশে প্রকৃত বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৭৭ হাজার। এর মধ্যে ১০ লাখ ৪৩ হাজার শিক্ষিত তরুণ-তরুণী যারা উচ্চ মাধ্যমিক/স্নাতক/স্নাতকোত্তর পাস অর্থাৎ শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রুস্তম আলী ফরাজীর (পিরোজপুর-৩) এর প্রশ্নের জবাবে একথা জানান তিনি।
এ সময় মন্ত্রী দেশের বেকার সমস্যা দূর করার জন্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বেকার যুবসমাজকে বেকারত্ব থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে কর্মসংস্থান ও অন্যান্য সুবিধার মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিগত ১০ বছরের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। বর্তমান সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর অধিদপ্তর সমূহের ১২৫৩ থেকে বৃদ্ধি করে ২১৩৭ উন্নীত করা হয়েছে। এরমধ্যে ৫৬৯ জনকে রাজস্ব খাতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ও কর্মমুখী জনশক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ন্যাশনাল স্কিল ডেভলপমেন্ট কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কাউন্সিল সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কমিটি অফ ন্যাশনাল স্কিল ডেভলপমেন্ট কাউন্সিল গঠন করেছে। সব পর্যায়ে দক্ষ মানব সম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ পদ্ধতি উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শ্রমিকদের মানোন্নয়ন করা হচ্ছে।
গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী দেশে ১৫ বছরের বেশি বয়সী কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ১০ কোটি ৯১ লাখ।

জরিপে দেখা যায়, জাতীয় বেকারত্বের গড় হার অপরিবর্তিত রয়েছে। এ হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ। উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি। অর্থাৎ মোট বেকারত্বের ১১ দশমিক ২ শতাংশ উচ্চ শিক্ষিত।
বেকার জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারী ও পুরুষের সংখ্যা প্রায় সমান। এছাড়া অর্থনীতির রূপান্তরের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেশের কৃষি খাতে কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা কমেছে, বিপরীতে বাড়ছে শিল্প ও সেবা খাতের শ্রম শক্তির সংখ্যা।
দেশের মোট শ্রমশক্তির ৫৬ শতাংশ কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে নিয়োজিত রয়েছে, যা সংখ্যায় ৬ কোটি ৮০ লাখ। শ্রম শক্তির বাইরে রয়েছে ৪ কোটি ৫৫ লাখ মানুষ। জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গত এক বছরে দেশে নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে ৩৭ লাখ।
এর মধ্যে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে ১৩ লাখ। মজুরি ছাড়াই কাজ করতেন (আনপেইড) এমন ১৪ লাখ মানুষ মজুরিভিত্তিক (পেইড) কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছেন। আর প্রবাসের শ্রমবাজারে যোগ দিয়েছেন ১০ লাখ মানুষ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘দেশে মোট কর্মসংস্থানের ৮৫ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতের। প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের সংখ্যা মাত্র ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ। মোট কর্মসংস্থানের এক-তৃতীয়াংশ মানুষের আনুষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা নেই।
প্রায় ১ কোটি ৫৭ লাখ কর্মজীবী মানুষের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত। ১ কোটি ৮৭ লাখ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরুনো মানুষ। বাকিটা উচ্চ শিক্ষিত।

মতামত দিন

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register