বাংলাদেশের মানুষের শিক্ষা হওয়া উচিৎ ছিল, এখন হচ্ছে : এরশাদ

বাংলাদেশের মানুষের শিক্ষা হওয়া উচিৎ ছিল, সেটা হচ্ছে, যারা প্রটেকশন চান তাদের জনপ্রতিনিধি হওয়া উচিৎ হয়নি এবং নির্বাচন কমিশন গঠন বিষয়ে বিএনপির মানা না মানা কোন বিষয় নয় দাবী করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, বিএনপির অস্তিত্ব নিয়ে টিকে থাকাই কঠিন। অতএব নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে তাদের মানা না মানায় কোন যায় আসে না। সরকার যেটা করবে। আমরা যদি সমর্থন দেই। সেটিই হবে। আসলে প্রধানমন্ত্রী যেটা বলবেন সেটাই রাষ্ট্রপতিকে করতে হবে। তিনি বলেন, আমার সময় মানুষ ভালো ছিল। তখন তারা আমার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। দেশের মানুষের শিক্ষা হওয়া উচিৎ ছিল, সেটা এখন হচ্ছে। যেসব জনপ্রতিনিধি প্রটেকশন চান, তাদের জনপ্রতিনিধি হওয়াই উচিৎ হয়নি।

তিনি আজ সোমবার দুপুরে রংপুর পল্লীনিবাসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব মন্তব্য করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজর (অব.) খালেদ, রংপুর জেলা আহবায়ক সাবেক এমপি মোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, মহানগর অহবায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সদস্য সচিব এসএম ইয়াসির, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য শাফিউল ইসলাম শাফী প্রমুখ।

সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদ বলেন, আমার সময় তো লোকজন ভালো ছিল। আমাদের সময় কেউ গুমও হয়নি। কেউ মরেও নাই। কিন্তু তখন আমার প্রতি আন্দোলন করেছিল। এই মানুষের শিক্ষা হওয়া উচিৎ না? মানুষের শিক্ষা হচ্ছে এখন। তারা বুঝুক আমার সরকার কি। এখনকার সরকার কি। বাংলাদেশের মানুষের শিক্ষা হওয়া উচিৎ ছিল। শিক্ষা হচ্ছে তাদের।

নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন বিষয়ে এরশাদ স্পষ্ট করে বলেন, রাষ্্রপতির কাছে আমরাও গেছিলাম। এখন পর্যন্ত আমরা কোন সমাধান পায় নি। তবে সবাই আশা করছি। কিছুটা হয়তো পরিবর্তন হতে পারে। তবে যেহেতু আইন নাই। তাই প্রধানমন্ত্রী যেটা বলবেন সেটাই রাষ্ট্রপতিকে করতে হবে। আমরা আইন চাচ্ছি। কিন্তু আইন হয় নাই। আমাদের দেশেও আইন নাই। ভারতেও আইন নাই। আমি কথা শুনতেছি নাকি আওয়ামীলীগ আইন করতে পারে। করলে ভালো কথা।

নির্বাচন কমিশন গঠন বিষয়ে বিএনপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির অবস্থা ভালো না। তারা আন্দোলনও করতে পারছে না, সমাবেশও করতে পারছে না। বিএনপির অবস্থা খুব খারাপ। করুণ অবস্থা তাদের। তারা তো তাদের অস্তিত্ব নিয়ে টিকে থাকাই কঠিন। অতএব তাদের মানা না মানায় কোন যায় আসে না। সরকার যেটা করবে। আমরা যদি সমর্থন দেই। সেটিই হবে।

মামলা প্রসঙ্গে এরশাদ বলেন, মামলা প্রত্যাহার হোক আর না হোক। আমাদের কোনো যায় আসে না। সব মামলা বেজলেস মামলা। বিএনপির সময়ে জোর করে শাস্তি দেয়া হয়েছে। এমনও হয়েছে জাজ সাহেব শাস্তি দিতে চান নাই। তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। অনেক অবিচার করা হয়েছে। অন্যায় করা হয়েছে। মিথ্যা মামলায় শাস্তি দেয়া হয়েছে। এরশাদ বলেন, মামলাগুলো তো কোর্টে যাবে। বিচার হবে। যে মামলায় কোনো অপরাধ নাই। মঞ্জুর হত্যা মামলা দেয়া হয়েছে ৯ বছর ৬ মাস পর। মঞ্জুর হত্যা হয়েছে ৮২ সালে। মামলা দেয়া হয়েছে ৯৫ সালে। আমি আর্মির চীফ ছিলাম। একটা বিপ্লব হয়েছিল। দমন করেছি। মাননীয় রাষ্ট্রপতি আমাকে কমিটেশন লেটার দিয়েছেন। আমি সম্মানিত হয়েছি। আর্মি সম্মানিত হয়েছে। সে জায়গায় আমি কিভাবে ইনভলব থাকবো। এগুলো মিথ্যা মামলা। প্রমাণিত হচ্ছে। যারা জজ আছেন। তাদের যদি সঠিকভাবে বিচার করতে দেয়া হয়, তবে সবটাতেই আমি নির্দোষ প্রমানিত হবো।

যেসব জনপ্রতিনিধি প্রটেকশন চান তাদের জনপ্রতিনিধি হওয়া উচিৎ হয়নি মন্তব্য করে এরশাদ বলেছেন, আনফরচুনেট, এমপি হত্যা ভালো কথা নয়। আজকে দেখলাম। লিটন এমপি হত্যার ঘটনায় যুবলীগের ছেলেরা ধরা পড়েছে। বিষয়টি আমি অত ভালো জানি না। তিনি বলেন, সমস্ত এমপিরা বলছেন, আমাদের নিরাপত্তা দেয়া হোক। এটা কেমন কথা। আমি জনপ্রতিনিধি, যদি জনগন থেকে বিচ্ছিন্ন থাকি, প্রটেকশনের মধ্যে থাকি, পুলিশের নিরাপত্তার ভেতরে থাকি। তাহলে জনপ্রতিনিধি হলাম কেন আমি? এরশাদ বলেন, জনপ্রতিনিধি মানে আমি জনগনের কাছে যাবো। তাদের সাথে কথা বলবো। সুখ-দুঃখের কথা বলবো। তাদের বিপদে-আপদে পাশে থাকবো। তা না হলে কিসের জনপ্রতিনিধি আমি। জনপ্রতিনিধিরা যদি নিরাপত্তা চায়, তাহলে জনপ্রতিনিধি হওয়া উচিৎ নয় আমাদের।

খালেদা জিয়ার জেলে যাওয়ার অপেক্ষায় আছি উল্লেখ করে এরশাদ বলেন, আমি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দিলাম। এগ্রিমেন্ট ছিল যে আমি ইলেকশন করতে পারবো। ইলেকশন করলে আমি জিততামও। সিওর ছিলাম। আমাকে ইলেকশন করতে দেয়া হলো না। ৬ দিনের মাথায় আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো জেলে। শুধু আমি নই আমার স্ত্রী আমার ছেলে আমার মেয়ে সবাইকে জেলে নেয়া হলো। অন্যায়-অবিচার করা হয়েছে আমাদেরও ওপরে। যদি ইলেকশন করতে পারতাম, তাহলে আমরা ক্ষমতায় আসতে পারতাম। এই যে অবিচার করা হয়েছে, আল্লাহ আছেন। তার প্রমাণ এখন পাচ্ছি আমরা। তিনিও (খালেদা জিয়া) কোর্টে যাচ্ছেন। এবং শুনছি যে উনিও জেলে যাবেন। আমিও সেদিনের অপেক্ষায় আছি। তিনি বলেন, আল্লাহ যে আছেন। সেটার প্রমাণ পাচ্ছি। অন্যায়-অবিচার করলে যে আল্লাহ বিচার করেন, সেটা দেখছি। তাদের বিচার হচ্ছে এখন।

দল প্রসঙ্গে এরশাদ বলেন, আমাদের কোনো বড় নেতা পদত্যাগ করে নাই। তবে লোয়ার লেবেলে হতাশা ছিল। হতাশা কেটে গেছে। ১ জানুয়ারি অনেক অনেক লোক রংপুর থেকে গেছে। আমাদের সমাবেশ সার্থক করেছে। এবং আমরা খুবই আশাবাদি আমরা আগামি নির্বাচনে জয়ি হতে পারবো। আমরা রাজনীতি করি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। ক্ষমতায় ছিলাম। ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছি। ৩০০ আসনে প্রার্থী দিবো। আশা করি ভালো করবো আমরা।

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত। সেকারনণ আমি ভালো আছি। আমাদের সাংগঠনিক অবস্থা ভালো এবং আমি কয়েকদিন পরে সমস্ত ডিভিশনাল হেড কোয়ার্টারে মিটিং করবো। জনসমর্থনের জন্য জনগনকে কাছে আনার চেষ্টা করবো। দেশের রাজনীতির কি অবস্থা তা আমি বলতে পারবো না। তবে আমার দলের কথা আমি বলতে পারি। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তাহলে আমার দল ক্ষমতায় যাবে। সেই সুযোগ আছে। আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন।

তিনি তিন দিনের সফরে আজ সোমবার ঢাকা থেকে বিমানযোগে রংপুর আসেন। তিনি আগামীকাল মঙ্গলবার রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডের উদ্বোধন কববেন।

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register