প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন খালেদা জিয়ার ভাই-বোন

0
238

দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে তাকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাজা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার পর খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকেও ধন্যবাদ জানান।

এর আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন তার ভাই-বোনসহ পরিবারের সদস্যরা। সাক্ষাতে তারা খালেদা জিয়াকে নির্বাহী আদেশে মুক্তি দেওয়ার আবেদন করেন।

আজ গুলশানের নিজ বাস ভবনে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।

আনিসুল হক বলেন, ‘কিছুদিন আগে খালেদা জিয়ার ভাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একটি দরখাস্ত এবং আমার কাছে একটি দরখাস্ত করেছিলেন, খালেদা জিয়াকে নির্বাহী আদেশে মুক্তি দেওয়ার জন্য। সেখানে তিনি লন্ডনে উন্নত চিকিৎসা করানোর কথা বলেছিলেন। এর পর বেগম খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার, তার বোন সেলিমা ইসলাম, বোনের স্বামী রফিকুল ইসলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একই বিষয়ে সাক্ষাৎ করেছিলেন। সেখানেও এই আবেদনটির ব্যাপারে তারা কথা বলেন। তারা প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, নির্বাহী আদেশে তাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন।’

সংবাদ সম্মেলনে দুই শর্তে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। শর্ত দুটি হলো, ঢাকাস্থ নিজ বাসায় থেকে তার চিকিৎসা গ্রহণ করা এবং দেশের বাইরে গমন না করা।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার উপধারা-১-এ বেগম খালেদা জিয়ার সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত রেখে তাকে ঢাকাস্থ নিজ বাসায় থেকে তার চিকিৎসা গ্রহণ করার শর্তে, এই সময় দেশের বাইরে গমন না করার শর্তে মুক্তি দেওয়া জন্য আমি মতামত দিয়েছি।’

আনিসুল হক জানান, সেই মতামত এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ হচ্ছে, আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে এই দুই শর্ত সাপেক্ষে তার দণ্ডাদেশ স্থগিত রেখে তাকে মুক্তি দেওয়া।

খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি তার কন্ডিশনের ওপর জানিয়ে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বয়স বিবেচনায় মানবিক কারণে দণ্ডাদেশ স্থগিত করা হয়েছে। এখানে কিন্তু বলা হচ্ছে না, তিনি হাসপাতালে গিয়ে তার চিকিৎসা নিতে পারবেন না। হাসপাতালে ভর্তির ব্যাপারে তার কন্ডিশনের ওপরে দেখা যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উল্লেখ করা হয়েছে, বাসায় থেকে তার চিকিৎসা করানোর। এই কারণে বেগম খালেদা জিয়ার বয়স বিবেচনায় মানবিক কারণে সরকার সদয় হয়ে তার দণ্ডাদেশ স্থগিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। হাসপাতালে নিশ্চয়ই যেতে পারবেন। হাসপাতালে যদি ভর্তি হতে হয়, তাহলে বাংলাদেশের সবচেয়ে মানসম্পন্ন হাসপাতালে তিনি আছেনই। সেখানে তো তার চিকিৎসা চলছেই। হাসপাতালে তাকে ভর্তি হতে হবে, সেটা অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বোঝা যাবে। কিন্তু শর্ত হচ্ছে তিনি ঢাকায় তার নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। ওই সময় তিনি দেশের বাইরে গমন করতে পারবেন না। যখন থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে মুক্তি দেবে, তখন থেকে দণ্ডাদেশ স্থগিত কার্যকর হবে।’

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলেই কারাবন্দী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. শহীদুজ্জামান।

বিকেলে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘এরই মধ্যে আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তির ফাইল হাতে পেয়েছি। এখন আমরা এ বিষয়ে একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করব। মন্ত্রীর অনুমোদনের পর সেই ফাইল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমোদনের পর তাকে মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। এরপরই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন।’

মো. শহীদুজ্জামান আরও বলেন, ‘মুক্তির ফাইলের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা আজ সম্ভব হবে না। তবে আশা করি আগামীকালের (বুধবার) মধ্যেই সেই প্রক্রিয়া শেষ করা যাবে।’