breaking news New

প্রথম প্রেম, প্ররোচনায় দ্বিতীয় প্রেম, নারীদের জন্য ভয়ংকর ফাঁদ, যেভাবে এড়াবেনঃ ড. সুশান্ত অধিকারী (পিএইচডি)

লেখকের কলম থেকে: কিছু সম্পর্ক আমরা জন্মসুত্রেই পেয়ে যাই। আবার জীবনে চলার পথে আমাদের সম্পর্কে গড়ে ওঠে অসংখ্য মানুষের সঙ্গে। আর এই সম্পর্কগুলোর মধ্যে হয়ত সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ হল প্রেমের সম্পর্ক। বিশেষত আপনি নারী হলে বিভিন্ন দূর্বলতার শিকারে বিভিন্ন পূরুষের হাতে বন্দী হবেন। কাজেই ভূলেও নিজের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, দূর্বলতা প্রকাশ করবেন না। আপনার মুখ থেকে একবার কথা প্রকাশ হলে তা পরে বিপদ হয়ে দাড়াবে। কারণ ওই মানুষটির সঙ্গেই সারাটা জীবন এক ছাদের নিচে পার করার স্বপ্ন দেখি আমরা।

দীর্ঘায়িত প্রেমঃ নারী-পূরুষ দীর্ঘ প্রেমে বন্দী হতেই পারে। আপনার প্রেম যত গভীর হবে তত আপনাদের মধ্যে বিভিন্ন মত সৃষ্টি হতে পারে। কোন নারী বা পূরুষ চাই না তার প্রিয়জন কোথাও বিপদে বা কথার মধ্যে বন্দী হোক। এমনও হতে পারে রাগারাগি। এতে নিজেকে শান্ত রাখবেন। চিন্তা করবেন আপনাদের প্রেমের শুরুতে কত না মিলন ছিল! হঠাৎ রাগ কেন? হতাশ হবেন না। কাউকে বুঝাবেন না যে যন্ত্রণা কেমন। এতে কোন লাভ হবে না বরং আপনার দূর্বলতাকে হাতিয়ারে পরিণত করে আপনার মস্তিস্ককে বিভিন্ন যুক্তি স্থাপন করে আপনার ব্রেণকে ড্যামেজ করবেন। স্বাভাবিক দীর্ঘ প্রেমে রাগ, অভিমান, ঝগড়া থাকবে, বাধা থাকবে। আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকা যা পছন্দ করেন না, তা পরিহার করুন। কারণ প্রেমে নিজেদের কিছুটা ত্যাগী হতে হয়। আপনি ইচ্ছে করলে আকাশের তারা পাবেন না। মনোবিজ্ঞানী প্লেটোতত্ত্বে বলা হয়েছে, য়ে প্রেমে প্রেমিক-প্রেমিকার একজনের উপর অন্যজন রাগ করবেন, এতে মনে করবেন একজনের প্রতি একজন গভীর প্রেমে মগ্ন। যা তার লাইফ পার্টনার একটি বিপদে পড়ুক সে চাইবেই না। উদাহরণে বলতে পারি, আপনার প্রেমিকা বা প্রেমিক হঠাৎ রোড এ্যাক্সিডেন্ট হলো, তখন আপনার শত রাগের মধ্যেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন না। দৌড়ে চলে যাবেন, একবার দেখার জন্য। কে কি বলল তাও তখন মাথায় আসবে না। তাই শত রাগের মধ্যেও প্রেম মিশ্রিত থাকে। এটা চিরন্তন সত্য। আর হ্যাঁ আপনার প্রেমিক-প্রেমিকাকে অন্যজনের প্রেম, মিলন, এসব কখনো বলবেন না। কারণ এতে একটি সমালোচনাকারী হিসেবে প্রকাশ পায়। আপনি ভেবে নিবেন, আপনাদের প্রথম দেখা, ভ্রমণ, প্রেমালাপ শুরুতেই কত সুন্দর ছিল, তা বিয়ের পর আর তেমনটা সুন্দর থাকেনা। তা পেরানোর চেষ্টা করবেন। বিয়ের পর পরিবারের সদস্যদের কাছে আপনার ভাল গুণগুলো দেখাবেন, দেখবেন আপনার আনন্দ ফিরে এসেছে। দুজন কখনো একসাথে রাগবেন না। একজন রাগ করলে অন্যজন বুঝে নিবেন রাগের উৎপত্তি কোথায়। আর ভূল হলে সত্য প্রকাশ করে নিজের প্রেমিক বা প্রেমিকাকে “সরি” বলবেন। একটা “সরি” শব্দে যা পারেন তা আদালতের কাটগড়ায় সংশোধনেও পারে না। পরিবারের ছোট ছোট বিষয়, প্রেমিক- প্রেমিকা একে অপরকে দিবেন। যেমন, হঠাৎ সারপ্রাইজ, গিফট, বার্থ ডে, এসবে নিজেকে উপস্থাপন করবেন। মনে রাখবেন আপনার প্রেমিকা যা পছন্দ করেনা, তা আপনি বিরত রাখার চেষ্টা করবেন। ঠিক আপনার প্রেমিক আরেকজন মেয়ে নিয়ে ঘুরাফেরা, আড্ডা এসব আপনি মোটেই পছন্দ করবেন না। কারণ আপনি শুধু তাকেই নিজের করে েপেতে চান। ঠিক আপনার প্রেমিক আপনার কাছ থেকেও আশা করবেন না। কারণ আপনাদের প্রেম অনেক গভীরে চলে গিয়েছে। যা ছাড়া সম্ভব না, তা পরিহার করার বিষয় মাথায় আনবেন না। কারণ সে যেই হোক আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকা, এটা মাথায় রাখতে হবে। হাজার দুঃখের মধ্যেও তাকে নিয়ে জীবন কাটাতে হবে।

কোন বন্ধু বা বান্ধবীর প্রভাবে প্রভাবিত হবেন নাঃ

স্কুল, কলেজ, কর্মজীবনে অনেক বন্ধু বান্ধবী আসতেই পারে। তাদেরকে প্রেমিক-প্রেমিকার দোষ, গুণ এসব সমালোচনা করবেন না। কারণ আপনি যখন প্রেম করছিলেন তাদের সাহায্যে করেন নি। অনেকেই আপনার মনের অবস্থা বুঝতে গিয়ে ভূল পরামর্শ দিতে পারেন। বা বলেতে পারেন, তোমার প্রেমিকা বা প্রেমিক মোটেই তোমার সাথে মিলে নি। তুমি আরেকজনকে পছন্দ করো। আসলে প্লেটোর মতে, এটা চরম অপরাধ। কারণ আপনি একজনকে ভালবেসেছেন। অন্যজনকে ইচ্ছে করলে গ্রহণ করতে পারবেন। কিন্তু তার অানন্দ প্রথম অবস্থায় ভালো দেখা যাবে। পরে আপনাকে কথায় কথায় দেখিয়ে দিতে পারেন, তোমার চরিত্র নিয়েও কথা বলতে সংকোচ করবেন না। রাগের মাথায় এই ভূল কখনো করবেন না। অনেক বন্ধু-বান্ধবী বলতেই পারেন, এখন তথ্য প্রযুক্তির যুগ। বিভিন্ন সিম, মোবাইল, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, বিভার, স্কাইফ ইত্যাদি সাইটে গোপনে কথা বলা যায়, সুতরাং জীবনকে উপভোগ কর। তাহলে কেউ জানবে না। এটা মোটেই ভূল ধারণা। এটা আপনাকে বিপদে পেলার অপকৌশল। সুতরাং সাবধান। তথ্য প্রযুক্তির যুগে আপনার গোপন তথ্য পাওয়া আরো সহজ। এমনকি আপনার কোন বান্ধবীর ফোনেও কথা বলবেন না। কারণ কথাটি সিম কোম্পানির মালিকের কাছে সেভ থাকে। পরে ট্র্যাকিং দিলে আপনার সব তথ্য চলে আসবে। সুতরাং ভালো বন্ধু না হলে তার পরামর্শকে ধন্যবাদ জানাবেন কিন্তু গ্রহণ করবেন না।

রাগি প্রেমিক-প্রেমিকাঃ

প্রেমে রাগ থাকতেই পারে, হঠাৎ আপনার প্রেমিক কোনো নারীসঙ্গ, আপনি দেখছেন, ঐ সময় নিজেকে মেনে নিতে কষ্ট হয়। এটা স্বাভাবিক গভীর প্রেমিক প্রেমিকার ক্ষেত্রে। তখন রাগটি অন্তত সংযত রাখুন। আপনার প্রেমিক-প্রেমিকাকে সময় দিন। সব শেয়ার করুন। আপনার প্রেমিক-প্রেমিকা হঠাৎ রাগতে পারেন। তবে আপনার সত্যবাদিতার জন্য আপনাকে সাহায্য করবেন। তবে দুজনে যেটি মেনে নিতে পারবেন না সেটি বিরত রাখুন। কারণ দুজনের এই ছোট্ট ত্যাগের মধ্যে সুখ পেতে পারেন। আর প্রেমিক-প্রেমিকার একান্ত বিষয়ে অন্যকে জড়াবন না। কারণ আপনাদের দুজনের সমস্যা সমাধানের তৃতীয় ব্যক্তি আসা মানেই, এক ধরনের বিচার বা সংসোধন। যেটা আপনার দুজনে সংশোধন করতে পারবেন। রাগ-অভিমানে কোথাও ঘুরতে যাবেন। রাগের মাথায় ঘুরতে গেলে দেখবেন, ছোট্ট একটা “সরি” বলাতেই সমাধান। যা বন্ধু-বান্ধবীদের সাহায্যে সম্ভব হয় না।

নারীরা ঘুছালো, পুরুষরা অগোছালো হয়ঃ

সাধারণত বাংলাদেশের নারীরা যতেষ্ট সহ্যশীল, ধৈর্যশীল হয় যার বিপরীত পুরুষরা। আপনার ঘুছালো সংসার দেখে একজন পূরুষের জীবন বদলাতে পারে। মনে রাখবেন, অসুস্থ রোগীর জন্য ডাক্তার প্রয়োজন, সুস্থের জন্য না। আপনার প্রেমিককে বুঝার চেষ্টা করুন। তার পছন্দ বা ছোট থেকে শখ থাকতে পারেন। পুরুষদের শখ সাধারণত নারীদের মত নই। তাদের অনেক কিছু আপনার পছন্দ নাও হতে পারে, তবু ভাববেন সে কি পজিটিভ কাজ করছেন নাকি নেগেটিভ। পজেটিভটা অনেকক্ষেত্রে আর্থিকভাবে পরিমাপ করা যায় না। বলা যায় আপেক্ষিক। আপনার পছন্দ না হলেও তার কাজে প্রেরণা দিন। তার কাজে ছোটখাট ভূল হলে আস্তে করে বলুন। দেখবেন সে আপনাকেই সবচেয়ে বেশী প্রেরণাদায়ী মনে করবেন। যেমন ধরুণ, লিওনেল মেসি বিশ্বকাপে ভালো খেলতে পারেনি, হঠাৎ স্টেডিয়াম তার স্ত্রীকে দেখে অবাক। সে আবার প্রেরণা পেল। সে নিজ থেকেই বলল, আজকের গোল টা করতে পেরেছি একজনের প্রেরণার কারণে, সে হল আমার স্ত্রী। কাজেই আপনার প্রেমিকের কাজকে আঘাত করবেন না, প্রেরণা দিবেন। আপনার ছোট আঘাতে তার ভালো পারফরমেন্স নষ্ট হতে পারেন। এতেও আপনিও কষ্ট পাবেন। সুতরাং অগোছালো প্রেমিককে ঘুছাতে আপনার ধৈর্য়, মনোবল, নিজের সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনায় অটল থাকবেন। অন্যের বুদ্ধি বা কৌশলে নিজেকে পরিচালিত করবেন না। কারণ আপনার সুখের সময় সবাইকে কাছে পাবেন। যখন আপনারা দাম্পত্যজীবন শুরু করবেন, অভাবে থাকলে কাউকেই পাবেন না। সুতরাং শান্তভাবে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যান। আপনি এটা ভাবতে পারেন, আপনার মত মোটেই আপনার প্রেমিক নই। এটা ভূল ধারণা। আপনার জীবনের একটু অতীতে টানুন, দেখবেন আপনার সবচেয়ে পাশে ছিলেন আপনার প্রেমিক। আমি আগেই বলেছিলাম, শত রাগের মধ্যেও আপনার প্রেমিক আপনার ভালটা চাই। সাধারণত পুরুষরা তাদের আবেগটা নারীদের মত শেয়ার করতে পারেনা। কিন্তু আপনার যেমন গুছালো স্বপ্ন রিচার্চ করলে দেখবেন প্রায় পুরুষরা অগোছালো। তাদের জীবন তখনই গুছালো হয় যখন প্রিয়জন, প্রেমিকা, স্ত্রীর সাহায্য ও সহযোগিতা পায়। সুতরাং প্রেম করেছেন আপনি, ঘুছাতে হবে আপনাকেই। কেউ আসবে না আপনাদের এসব ব্যক্তিগত সমস্যাতে। সুতরাং নিজেকে ধৈর্যশীল ও প্রেমিককে সময় দিন। তার সাথে সব শেয়ার করুন। কোথাও ঘুরে আসুন, দেখবেন সব রাগ-অভিমান চলে গিয়েছে।

প্রেমের পড়ার সঠিক বয়স নির্ধারণ করা বেশ শক্ত ব্যাপার। আবার এতে সফল হয়ে বৈবাহিক জীবনে রূপ দেওয়াও সহজ কথা নয়। তাই মধুর এই সম্পর্কটাকে মধুরভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কিছু বিষয় মাথায় রাখা দরকার।

সম্পর্ক-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে এই বিষয়ের উপর প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে প্রেমের ক্ষেত্রে যেসব বিষয় মাথায় রাখা উচিত তা এখানে দেওয়া হল।

মনরক্ষা করে চলা যাবে না:

নতুন সম্পর্কে জড়ানোর আগে নিজের মস্তিষ্কে খোদাই করে নিন যে প্রিয়জনের মনরক্ষার জন্য নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করবেন না। আপনি যেমন, আপনার মন মানসিকতা, ব্যক্তিত্ব যেমন ঠিক তেমনভাবেই প্রিয়জনের সামনে তুলে ধরবেন। সবাইকে আনন্দে রাখার চেষ্টা করবেন। যদি প্রিয়জনের সাথে মিথ্যা বা অতি-আধুনিকতা দেখানোর চেষ্টা করেন বা এমনটা করলে আপনার প্রিয়জনকে আপনি জেনে বুঝেই আপনার সম্পর্কে ভুল ধারণা দিচ্ছেন। আর ওই ভুল ধারণার উপর ভিত্তি করেই তৈরি হবে আপনার প্রতি তার প্রত্যাশা, যা আপনি কখনই পূরণ করতে পারবেন না। ফলে, একদিন সে সম্পর্ক ভেঙেই যাবে। আর হ্যাঁ, সত্য কখনো গোপন থাকবে না। আপনার প্রিয়জনকে শেয়ার করুন। না হয় দুজনের ভূল বুঝাবুঝি হতে পারে। এমনকি বিচ্ছেদ হতে পারে। এরপরে আপনি দ্বিতীয় বিয়ে করলেও সমাজ, ধর্মের বিভিন্ন কৌশলে আপনাকে খোঁচা দিবেন। যা অতীতের চেয়ে ভয়ংকর রূপ ধারণ করবেন। এমনকি মানসিক রোগীও হয়ে পারেন।(সাইকোলজিক্যাল জরিফঃ ২০১৮) তে দেখা যায় দ্বিতীয় বিয়ে বা প্রথম প্রেমিকের রাগে বিয়ে, বন্ধু-বান্ধবীদের প্ররোচনায় বিয়ের ৭৫% বিচ্ছেদ। যার দুই তৃতীয়াংশ মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী।

তুলনা নয়:
অন্যের সম্পর্কের সুখের দিনগুলোর সঙ্গে নিজের সম্পর্কের দিনগুলোকে তুলনা করা মারাত্বক ভুল। আপনার বন্ধু বা বান্ধবী তার প্রিয়জনকে নিয়ে বেড়াতে গেছে, আর আপনারা যেতে পারেননি তার মানে এই নয় যে আপনি বঞ্চিত রয়ে গেলেন। সুখ আপনার সম্পর্কেও আছে, হয়ত অন্য রূপে।

সিদ্ধান্ত নিন বুঝেশুনে:

ভালোলাগা আর ভালোবাসার মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক। তাই কাউকে ভালো লাগছে বলেই সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার আগে আগপাছ চিন্তা করতে হবে। আগের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিতে হবে। ভালোলাগার মানুষটিকে প্রিয়জন বানানোর আগে আপনার প্রত্যাশাগুলো সম্পর্কে জানাতে হবে(এটা শুধু নতুন প্রেমিক-প্রেমিকার ক্ষেত্রে)। আবেগে গা ভাসিয়ে দিলে চলবে না। বন্ধু-বান্ধবীদের প্ররোচনার শিকার হবেন না। যেহেতু, আপনার যদি প্রথম প্রেমিককে ভূলে ২য় প্রেমিককে বিয়ে করেন। কিছুদিন পর দেখবেন সেই আপনার দূর্বল পয়েন্টগুলো দেখিয়ে দিবেই। কাজেই সিদ্ধান্ত নিন নিজের মত করে।

​সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া মানেই সব শেষ নয়: মানুষ মরে গেলে পঁচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়। বদলাবেন আপনারাও। বিয়ের কিছুদিন না যেতেই আপনার অতীত নিয়ে রিচার্চ শুরু। হয়তো স্বামী না করলেও তার পরিবার, সামাজিক লোকরাই করবে। তখন নিজেকে অনুশোচনা করবেন। দুজনের পরিবর্তনকে দুজন মেনে নিতে না পারলে সম্পর্কে বিচ্ছেদ আসবে স্বভাবতই। তবে তার মানে এই নয় যে জীবন এখানেই শেষ। কষ্ট পাবেন ঠিক, তবে ভেঙে পড়লে চলবে না। মনে রাখতে হবে, যা হয় ভালোর জন্যই হয়। ধৈর্য, শান্ত মস্তিস্কে, সিদ্ধান্ত নিবেন। রাগের মাথায় সিদ্ধান্ত নই। কিছু বন্ধু-বান্ধবী আছে তারা আপনাকে বিপদে পেলা ও আপনার চরিত্র নষ্ট করতে বিভিন্ন পথ অনুসরণ করতে বলবেন। তথ্য প্রযুক্তির যুগে তা করবেন না। আপনার মুখ থেকে যেটা বের হবে সেটা আগামিতে আপনার দুঃখের কারণ হবে। সুতরাং চিন্তা, সুস্থ মনোভাব, শান্তিতে সিদ্ধান্ত নিবেন। কারণ আপনি বলতে পারবেন না পৃথিবীতে ইনি ভালো। যাকে ভালো বলে সব মনের কথা ফাঁস করবেন সেই একদিন দুঃখের কারণ হবে। কাজেই আপনার প্রেমকে কিভাবে ঘুছিয়ে নিবেন তা একান্ত আপনার সিদ্ধান্ত। সর্বশেষ বলব রাগের মাথায়, কারো পরোচনায়, কারো বুদ্ধিতে নিজের জীবনের দীর্ঘস্থায়ী সিদ্ধান্ত নিবেন না। কারণ আপনার জীবন টা দিয়ে অগোছালো প্রেমিক ঘুছাবেন, সুন্দর সংসার, বন্ধন, পরিবারগঠণ করবেন। প্রয়োজনে শত রাগের মধ্যেও প্রেমিককে কোথাও ঘুরতে নিয়ে গিয়ে আপনার একান্ত দূর্বলতা শেয়ার করবেন। কারণ আপনার সবচেয়ে বেশি কিছু জানেন আপনার প্রেমিক।

লেখকঃ ড. সুশান্ত অধিকারী(পিএইচডি), জেমসন ইউনিভার্সিটি, মনোবিজ্ঞানী বিভাগ, সুইজারল্যান্ড

মতামত দিন

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register