পর্যটন রস এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর হিমা

রুস্তম আলী পঞ্চগড় প্রতিনিধিপর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় অঞ্চল দেশের সর্বোত্তরের জেলা পঞ্চগড় সবুজ ও নির্মল প্রকৃতির নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের পসরা সাজিয়েছে ‘হিমালয়কন্যা।জেলায় ছড়িয়ে আছে নানান ইতিহাস-ঐতিহ্যিক স্থাপত্য। এসব ইতিহাস-ঐতিহ্য আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের জোগবে নানা কৌতূহলের রসদ নেপালকে বলা হয় হিমালয়কন্যা।সেই নেপালের কাছের জনপদ বলে পঞ্চগড়কেও ‘বাংলাদেশের হিমালয়কন্যা’ হিসেবে ধরা হয়।এখানে রয়েছেপর্যটকদের আকৃষ্ট করার মতো নানান দর্শনীয় স্থান।বাংলাদেশ থেকে স্পষ্ট ভাবে হিমালয়ের অপরূপ সৌন্দর্য্য উপভোগ করার একমাত্র স্থান

পঞ্চগড় জেলার অভ্যন্তরে ভিতরগড়ে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার সর্বৃবহৎ প্রত্নতাত্ত্বিক দূর্গনগরীমহারাজা দীঘি, মহিলা কলেজে পাথরের জাদুঘর তথা রক্স মিউজিয়াম, আটোয়ারীর মির্জাপুরে বার আউলিয়া মাজার, শাহী মসজিদ (ইমাম বাড়া), দেবীগঞ্জের গোলকধাম মন্দির এবং তেঁতুলিয়ার চতুর্দেশীয় ব্যবসা বাণিজ্যেরসংযোগ বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর, জেলা পরিষদ ডকবাংলো, পিকনিক কর্নার, রওশনপুর জেমকন গ্রুপের নয়নাভিরাম শিশুপার্ক ও আনন্দধারা পার্ক,সীমান্তবেষ্টিত ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার সার্চলাইট, নদী মহানন্দা।এ ছাড়া পাথর ও চা শিল্প, সবজিগ্রাম- এসব পঞ্চগড়কে সমৃদ্ধ করেছে পর্যটন নগরীহিসেবে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এবং নিবিড় শান্তিময় পরিবেশের পঞ্চগড় জেলা আয়তনের দিকদিয়ে ক্ষুদ্র হলেও প্রাচীন ও প্রাগৈতিহাসিক ইতিহাসে সমৃদ্ধ প্রাচীন এ জনপদের রয়েছে চমকপ্রদ নামকরণ।যে ‘পাঁচ গড়ের’ সমাহারে এই পঞ্চগড়, সেগুলো হলো ভিতরগড়, মিরগড়, রাজনগড়, হোসেনগড় ওদেবনগড়।তবে পাঁচ গড়ের বাইরেও রয়েছে আরও বেশ কিছু পাঁচ এর সমাহার- পঞ্চনদ, পঞ্চবটী, পঞ্চনগরী, পঞ্চগৌড় ইত্যাদি।

পঞ্চগড়ের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, দক্ষিণে ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলা, পূর্বে নীলফামারী জেলা এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। তিন দিক দিয়েঘিরে রয়েছে ভারতীয় সীমান্ত।করতোয়া, মহানন্দা, গবরা, আত্রাই, তিস্তা, টাঙ্গন, ডাহুক, পাথরাজ, ভুল্লী, তালমা, নাগর, চাওয়াই, কুরুম, ভেরসা, তিরনই ওচিলকা ইত্যাদি ছোট-বড় নদ-নদী বয়ে চলেছে এর ওপর দিয়ে।

১৯৪৭ সালের পূর্ব পর্যন্ত ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার অন্তর্গত এবং বর্তমানে পূর্ণিয়া, পশ্চিম দিনাজপুর, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলাপরিবেষ্টিত পঞ্চগড়ের জনগোষ্ঠীর নৃতাত্তিক বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের সামগ্রিক রূপের সঙ্গে অভিন্ন হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে রয়েছে স্বাতন্ত্র্য ও বৈচিত্র্য। এজেলার জনপ্রবাহের মধ্যে রয়েছে- হিন্দু ও মুসলিম প্রধান জনধারা, রাজবংশী, কোচ, পলিয়া, সাঁওতাল, ওঁরাও, হাড়ি, ভূইমাল, কামার-কুমার, বেহারা, কাহার, সুনরী প্রভৃতি। এই বিচিত্র জনধারার মিশ্র রূপায়ণে গড়ে উঠেছে পঞ্চগড়ের নৃতাত্ত্বিক ভিত্তি। ইতিহাস-ঐতিহ্য, জীবনধারা আর প্রাকৃতিকরূপবৈচিত্রের নিরিখে পর্যটন নগরী বা অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যেসব উপাদান প্রয়োজন তার সবই রয়েছে পঞ্চগড়ে।

Print Friendly, PDF & Email
 

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

%d bloggers like this: