breaking news New

পরকীয়ায় ধরা পড়ে নিজের পুত্রকে হত্যা করলেন কাকলী রায়

প্রতিবেশী ডেস্ক : প্রেমের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ছেলে। নিজের গর্ভজাত সেই সন্তানকে সরিয়ে দিল জননী মা। এমনই ঘটনা ঘটেছে হাওড়ার চ্যটার্জিহাট এলাকায়। মায়ের প্রেমিকের হাতেই খুন হতে হয়েছে কিশোর ছেলেকে।

বৃহস্পতিবার রাতে বিধাননগর ও কাঁকুড়গাছি স্টেশনের মাঝখান থেকে স্কুল ছাত্র শুভম রায়ের(১৪) দেহ উদ্ধার করে রেল পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান রঞ্জিত ভড় নামে প্রেমিক যুবকই শুভমকে খুন করে। ফুলবাগান থানায় জেরার মুখে খুনের কথা স্বীকার করে রঞ্জিত।

প্রসঙ্গত মৃত শুভম হাওড়ার কেদারনাথ স্কুলের অষ্টম শ্রেনীর ছাত্র। শুভম রায়ের বাবা তাপস রায় তিন বছর আগে মারা গিয়েছেন। মা কাকলি রায় আয়ার কাজ করেন। রঞ্জিত ভড় নামে এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় কাকলির। রঞ্জিত বাস ড্রাইভার। ছয় মাস ধরে তাঁদের সম্পর্ক।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান বিবাহ বহির্ভূত এই সম্পর্কে বাধা হয়ে দাড়াচ্ছিল শুভম। তাপসের পরিবারের লোকেরা এমনটাই মনে করছেন। মৃত শুভমের পিসি নিরূপা দাসের অভিযোগ, ওই যুবকই শুভমকে ডেকে নিয়ে খুন করেছে। তাঁর কথায় কাকলির সঙ্গে ওই যুবকের দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক ছিল।

শুভমের পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে জামা প্যান্ট ছেড়ে কিছু না খেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় সে। প্রতিবেশীরা শুভমকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, তাঁর মা অসুস্থ। হাওড়া হাসপাতালে ভর্তি। কাকু তাকে সেখানে নিয়ে যাবে বলে যাচ্ছে। আয়ার কাজ সেরে রাতে কাকলি বাড়ি ফিরে তাঁর ছেলের খোঁজ করেন। কিন্তু তাঁর ছেলেকে খোঁজ পাননি।

তারপর রাতে শুভমের পরিবারের পক্ষ থেকে চ্যাটার্জীহাট থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। নিরূপাদেবী জানান, বৃহস্পতিবার রাতে রঞ্জিতের বোন কাকলিকে ফোন করেন। ওই মহিলা কাকলিকে জানান তাঁর দাদা কাঁকুড়গাছিতে একটি বাচ্ছা ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন। তিনি তাঁর দাদাকে ঘরে তালা দিয়ে আটকে রেখেছেন। কাকলিদেবী যেন সেখানে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে কোনও বাচ্চার দেখা পাননি শুভমের পরিবার।

এরপরেই তাঁরা ফুলবাগান থানায় বিষয়টি জানান। ফুলবাগান থানায় রঞ্জিতকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও সে প্রথমে কিছুই স্বীকার করেনি। এরপরে রেল পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে একটি দেহ দেখে শনাক্ত করে তার পরিবার। তারপরেই রঞ্জিতকে গ্রেফতার করে চ্যাট্টার্জিহাট থানার পুলিশ।

ইতিমধ্যেই শুভমের মা কাকলি রায় শুক্রবার সকালে থানায় একটি অপহরণের অভিযোগ করেন। রঞ্জিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এদিন দুপরে দুজনকেই চ্যাটার্জীহাট থানায় নিয়ে আসা হয়। জেরা করে হাওড়া সিটি পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করে।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে রঞ্জিত স্বীকার করে যে শুভমকে চলন্ত ট্রেনের সামনে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে সে। হাওড়া ডিসি সাউথ সুনীল কুমার যাদব বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে হাওড়া চ্যাটার্জিহাট থানায় একটি মিসিং ডায়েরি হয়। শুরু হয় অনুসন্ধান। শুক্রবার ভোরে জিআরপির তরফে এক কিশোরের দেহ উদ্ধার হওয়ার খবর আসে। সেই সূত্র ধরে রঞ্জিত ভড়কে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে জেরা করে প্রাথমিকভাবে এই ঘটনার সঙ্গে কাকলির যুক্ত থাকার সম্ভবনা পাওয়া যাচ্ছে।

এদিনই দু’জনকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নিতে চাইছে পুলিশ। আগামী দিনে অভিযুক্তদের দিয়ে ঘটনার পুননির্মাণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

মতামত দিন

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register