নির্বাচনে সাঈদীকে দরকার

সিরাজী এম আর মোস্তাক, ঢাকাঃ বাংলাদেশে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে একাদশ নির্বাচনে দরকার। তিনি বাংলাদেশের নন্দিত ব্যক্তিত্ব। তাঁর ডাকে লাখো জনতা জীবন বিসর্জনে প্রস্তুত। তিনি মুক্তি পেলে, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মিথ্যাচার ও বিকৃতি বন্ধ হবে। মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও তাঁর ঘোষিত ৩০লাখ শহীদের স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশে মুক্তিযোদ্ধা-অমুক্তিযোদ্ধা পার্থক্য দূর হবে। বাংলাদেশে ঘাতক, রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধী প্রভূতি জঘন্য কলঙ্ক থেকে মুক্ত হবে। আওয়ামীলীগ বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করে এ কলঙ্ক আমদানি করেছেন। ট্রাইব্যুনালটি শুধু নামেই আন্তর্জাতিক, বাস্তবে বিপরীত। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বিচারক ও অপরাধী সকলেই বাংলাদেশি। বাংলাদেশের তথাকথিত বিচারকগণ এ ট্রাইব্যুনালে বসে ১৯৭১ এর সকল অপরাধের দায়ে পাকবাহিনীর পরিবর্তে শুধু নিজের দেশের অসহায় যুদ্ধাক্রান্ত নাগরিকদের অভিযুক্ত করেছেন। তারা পাকবাহিনীর অপরাধ খুঁজে পাননি। এতে বিশ্বজুড়ে সুস্পষ্ট হয়েছে, যেহেতু বাংলাদেশের বিচারকগণ আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বসে শুধু নিজের দেশের নাগরিকদের অপরাধী সাব্যস্ত করেছেন, সুতরাং ১৯৭১ এর সকল হত্যাকান্ড বাংলাদেশীরাই করেছে। পাকবাহিনী অপরাধী হলে, বাংলাদেশের বিচারকগণ আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে অবশ্যই তা প্রমাণ করতেন। যেহেতু তা করেননি, সুতরাং ১৯৭১ এর হত্যাকান্ডে পাকবাহিনী জড়িত নয়। বাংলাদেশীরাই ৩০লাখ শহীদের ঘাতক এবং বর্তমান প্রজন্ম তাদেরই সন্তান। দেলোয়ার হোসেন সাঈদী তেমনি ঘাতক ও সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী। তিনিসহ কয়েকজন ১৯৭১ এর সকল ঘাতকের প্রতীক হিসেবে অভিযুক্ত হয়েছেন। এটি তথাকথিত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী প্রহসনের কলঙ্কিত বিচার। সাঈদী এ কলঙ্কের প্রত্যক্ষ শিকার। দেশবাসীও এ কলঙ্কের অসহায় শিকার। এটি বাংলাদেশের জাতীয় কলঙ্ক, যা বিশ্বজুড়ে প্রচার হয়েছে। এ কলঙ্ক থেকে বাঁচতে, সাঈদীকে মুক্ত করতে হবে। তবেই দেশ কলঙ্কমুক্ত হবে। দেশে মুক্তিযোদ্ধা-অমুক্তিযোদ্ধা বিভাজন দূর হবে। প্রচলিত ২লাখ মুক্তিযোদ্ধা তালিকা, প্রদত্ত ভাতা ও কোটাসুবিধা বাতিল হবে। দেশের সকল নাগরিক মুক্তিযোদ্ধা ও ৩০লাখ বীর শহীদের স্বজন বিবেচিত হবে। বাংলাদেশের কলঙ্কিত জাতি মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ প্রজন্ম হিসেবে বিশ্বে সম্মানিত হবে। মুক্তিযুদ্ধের হারানো ঐতিহ্য ফিরে আসবে।
মুক্তিযুদ্ধ হলো, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭১ এর সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালির জীবনপণ লড়াই ও ৩০লাখ শহীদের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত মহান স্বাধীনতা। এ মহান চেতনায় ১৯৭১ এর সবাই বীর মুক্তিযোদ্ধা। এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চারনেতা, ৩০লাখ বীর শহীদ, যুদ্ধকালে ভুক্তভোগী, আত্মত্যাগী, সাহায্য-সহযোগীতাকারী নির্বিশেষে তালিকাবঞ্চিত সবাই মুক্তিযোদ্ধা। প্রচলিত ২লাখ মুক্তিযোদ্ধা তালিকা অবৈধ। কারণ, যুদ্ধকালে দেশে অবস্থানকারী অসহায় নাগরিকগণ সুসজ্জিত পাকবাহিনীর নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার ছিলেন। এমতাবস্থায় তারা যেভাবেই প্রাণরক্ষা করুক, তারা মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদান, যুদ্ধকালে ভারতে পলায়নকারীদের চেয়ে মূল্যবান। যেমন, যুদ্ধকালে পরমাণু কমিশনে কর্মরত বঙ্গবন্ধুর জামাতা মরহুম ড. ওয়াজেদ মিয়া এবং মহকুমা প্রশাসক ম খা আলমগীরের মতো পাকবাহিনীর বেতনভুক্ত ও অনুগত অসংখ্য ব্যক্তিবর্গ নিঃসন্দেহে মুক্তিযোদ্ধা। তারা যুদ্ধকালে দেশেই ছিলেন। নিজেরা আত্মরক্ষা করেছেন এবং দেশবাসীকে পাকবাহিনীর হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে মাওলানা সাঈদী একই ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি পাকবাহিনীর বেতনভুক্ত না হলেও, যুদ্ধকালে দেশেই ছিলেন। তিনি যুদ্ধকালে ভারতে অবস্থানকারী তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের চেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। অথচ তিনি আন্তর্জাতিক নামসর্বস্ব ট্রাইব্যুনালে অপরাধী হিসেবে সাজা ভোগ করছেন আর ভারতে অবস্থানকারী ও সেখানের লালবইয়ে তালিকাভুক্তগণ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নানা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। এটিই মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব অনুশীলন। এভাবে অবৈধ স্বার্থের জন্যই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি ও অবমাননা হয়েছে। বাংলাদেশের কলঙ্ক ও লান্থণা বিশ্বজুড়ে প্রচার হয়েছে। এ নিকৃষ্ট কলঙ্ক থেকে বাঁচতে, সাঈদীকে দরকার।
সাঈদীর বক্তব্য বঙ্গবন্ধুর ভাষণের সাথে তুল্য। সাঈদীর বক্তব্যে লাখ লাখ জনতা সুশৃঙ্খল থাকেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োজন হয়না। তাঁর সাজার প্রতিবাদে শত শত নাগরিক গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন। পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, আরো শত-সহস্র ব্যক্তি। সাঈদী জাতীয় সংসদে একাধিকবারের নির্বাচিত প্রতিনিধি। বাংলাদেশে অবস্থিত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে সাজাপ্রাপ্ত না হলে, তিনি একাদশ নির্বাচনেও হতেন সবচেয়ে যোগ্যপ্রার্থী। বাংলাদেশকে যুদ্ধাপরাধের কলঙ্কমুক্ত করতে তিনিই যোগ্য ব্যক্তি। অতএব, এদেশের সংগ্রামী জনতা ব্রিটিশ ও পাকবাহিনীকে তাড়িয়ে যেভাবে স্বাধীনতা এনেছেন, একইভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা ও যুদ্ধাপরাধের কলঙ্ক মোচনে সাঈদীকেও কারামুক্ত ও নির্বাচিত করবেন।

মতামত দিন

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register