ধারণার চেয়েও দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে সমুদ্রের পানি

ধারণার চেয়েও দ্রুত গতিতে উষ্ণ হচ্ছে সমুদ্রের জলরাশি। গত বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে সমুদ্রের পানির উষ্ণতা বৃদ্ধি আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ফলে সামুদ্রিক প্রাণীরা হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ ত্য জানানো হয়। আল-জাজিরার প্রতিবেদন। গবেষকদের দাবি, সমুদ্র উষ্ণ হওয়ার কারণে সেখানকার পানির থার্মাল এক্সপানশন হবে। এতে পানির আকার-আয়তন বেড়ে যাবে। ফলে এ শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠে উচ্চতা ৩০ সেন্টিমিটার বেড়ে যেতে পারে। গবেষক জেকে হাউসফাদার বলেন, পৃথিবীর পৃষ্ঠে উষ্ণতার মাত্রার রেকর্ড অনুযায়ী ২০১৮ সাল ছিল চতুর্থ উষ্ণতম বছর। আর সমুদ্রের উষ্ণতার রেকর্ড বিবেচনা করলে এটি নিশ্চিতভাবে উষ্ণতম বছর। এর আগে, সমুদ্রের উষ্ণতার দিক দিয়ে ২০১৬ সাল ও ২০১৭ সালও উষ্ণতম বছর বিবেচিত হয়েছিল। ভূপৃষ্ঠ বেশি উষ্ণ হচ্ছে নাকি সমুদ্র বেশি উষ্ণ হচ্ছে তা বৈশ্বিক উষ্ণতা দিয়ে সহজে শনাক্ত করা যায়।

শুধু তাই নয়, সমুদ্রগুলো এত বেশি পরিমাণ উষ্ণতা শুষে নিতে পারে, সেগুলো ঠান্ডা হতে কয়েক দশক লেগে যেতে পারে। তা ছাড়া উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন শিগগির বন্ধ হওয়ারও কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

নতুন প্রতিবেদনটি তৈরি করার ক্ষেত্রে ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হওয়া চারটি গবেষণা প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে সামুদ্রিক তাপমাত্রাজনিত বিভিন্ন পরিমাপ ও এগুলোর মধ্যকার তারতম্যজনিত গোলযোগগুলো সংশোধন করা হয়েছে। সমুদ্রের ওপর জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত প্রভাব নির্ণয়ের জন্য অতীতের গবেষণাগুলোতে স্যাটেলাইট মনিটরিং, পানিতে ব্যবহারযোগ্য রোবট ও জাহাজের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। গত দশকে আরগো নামে ৪০০০ রোবটের একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সমুদ্রের তাপমাত্রা, লবণাক্ততা ও অম্লকরণের নজিরবিহীন তথ্য পাওয়া গেছে। ভিন্ন ভিন্ন মেথডলজি ব্যবহার করে করা চারটি গবেষণা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেছেন গবেষকরা। নতুন বিশ্লেষণে সামুদ্রিক উষ্ণতার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

মতামত দিন

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register