breaking news New

দেশজুড়ে প্রক্সি সার্ভারে চলছে অনলাইন জুয়া, ব্যর্থ বিটিআরসি প্রশাসন

স্পোর্টস ডেস্কঃ ক্রিকেট নিয়ে জুয়া খেলার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার হয় এমন ১২টি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশন (বিটিআরসি)। তবে প্রক্সি সার্ভার দিয়ে এখনও ওই সাইটগুলোতে ঢোকা যাচ্ছে এবং জুয়া খেলাও অবাধে চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এর আগে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ওই সাইটগুলো শনাক্ত করে। এরপর সেগুলো বন্ধ করে দেওয়ার জন্য বিটিআরসিকে লিখিতভাবে জানায় ডিএমপি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১২টি সাইট বন্ধ করে দেয়া হয়।

কালো তালিকাভুক্তির পর বন্ধ করে দেওয়া ওয়েবসাইটগুলো হচ্ছে—৮৮৮স্পোর্ট ডটকম, বেটওয়ে ডটকম, বেট ৩৬৫ ডটকম, বেটফ্রেড ডটকম, ডাফাবেট ডটকম, বেটফেয়ার ডটকম, ইউনিবেট ডটকম, বেটভিক্টর ডটকম, নেটবেট ডটকম, টাইটান বেট ডটকম, উইনার ডটকম এবং পেডিপাওয়ার ডটকম।

বিটিআরসির সচিব সারোয়ার আলম সমকালকে বলেন, ‘বিপিএল শুরুর আগে প্রথমে বিসিবির পক্ষ থেকে এমন একটি তালিকা পাঠানো হয়েছিল। ওই সব সাইট ব্যবহার করে জুয়া খেলা হয় বলে তারা জানায়। এর পরপরই পুলিশের পক্ষ থেকে একই রকম আরেকটি তালিকা আসে। তখন ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে বাংলাদেশ থেকে সেগুলোতে ঢোকার সুযোগ নেই।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক হোম সিরিজ ও সদ্যসমাপ্ত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) চলাকালে এসব সাইট ব্যবহার করে রমরমা জুয়ার আসর সাজানো হয়।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, ‘ক্রিকেট জুয়া বন্ধে কঠোর নজরদারি রয়েছে পুলিশের। সম্প্রতি জুয়ার সঙ্গে জড়িত কিছু ওয়েবসাইট শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তালিকাটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে।’

এদিকে, ওয়েবসাইট বন্ধ হলেও থেমে নেই অনলাইনে ক্রিকেট জুয়া। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিটিআরসি সাইটগুলো বন্ধ করার ফলে প্রথমে অনলাইনকেন্দ্রিক জুয়াড়িরা কিছুটা সমস্যায় পড়েছিল। তবে দ্রুতই বিকল্প হিসেবে প্রক্সি সার্ভারের ব্যবহার শুরু হয়। এর ফলে দেশে থেকেও অন্য কোনো অবস্থান দেখিয়ে এসব সাইটে ঢোকা গেছে। জুয়াও চলেছে সমানতালে।

পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওয়েবসাইট ছাড়াও বিভিন্ন মাধ্যমে ক্রিকেট নিয়ে জুয়া খেলা হয়। তদন্তে সব মাধ্যমের ওপরই নজর দেওয়া হয়েছে। বিকল্প ক্ষেত্র ও জুয়ায় ব্যবহৃত হয় এমন ওয়েবসাইট শনাক্ত করে সেগুলোর ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এ নিয়ে জুয়া খেলার হারও দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। শুধু বাংলাদেশ দলের খেলা নয়, অন্যান্য আন্তর্জাতিক ম্যাচ ঘিরেও জুয়া চলছে। আর এতে শিক্ষিত ও ধনাঢ্য তরুণ থেকে শুরু করে সাধারণ পেশাজীবীরাও অংশ নিচ্ছেন। সঙ্গত কারণেই তাদের বড় একটি অংশ বিপুল অঙ্কের অর্থ হারাচ্ছেন।

এ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনটি ‘যথোপযুক্ত’ না হওয়ায় সহজেই জুয়ার বিস্তার ঘটছে বলেও অনেকে মনে করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দেশের অনেক স্থানেই চলছে ক্রিকেট জুয়া। তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মধ্যে পুরান ঢাকায় তার প্রকোপ বেশি। দেশে বা বিদেশে খেলা যেখানেই হোক, টিভিতে সম্প্রচার হলেই তা নিয়ে চলে জুয়া। ওয়ানডে ম্যাচে প্রচুর বাজি হয়, আর টি২০ হলে কথাই নেই! টি২০ বিশ্বকাপ ও আইপিএল চলার সময় পুরান ঢাকার অলিগলিতে চলেছে জুয়া।

পুলিশ জানায়, ক্রিকেট নিয়ে জুয়া ঠেকাতে বেশ কয়েক বছর ধরেই কাজ করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত অনেককেই আটক বা গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে চক্রের হোতাদের আইনের আওতায় আনা যায়নি। বন্ধ হয়নি তাদের তৎপরতা। সর্বশেষ বিপিএল ম্যাচের সময় স্টেডিয়ামের বাইরে থেকে জুয়াড়ি সন্দেহে অন্তত ৬০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে তিনজন ভারতীয় ও চারজন পাকিস্তানি নাগরিক ছিলেন। কিন্তু তারা পরে আইন অনুযায়ী ১০০ টাকা জরিমানার বিনিময়ে ছাড়া পেয়ে যান।

মতামত দিন

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register