দুর্নীতি-লুটপাট পাটশিল্পকে ধ্বংসের পথে নিয়ে এসেছে : কৃষক-শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন

0
36

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে জাতীয় কৃষক-শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন নেতৃবৃন্দ বলেন, পাটকল নয়, পাটকলে দুর্নীতি-লুটপাট বন্ধ করুন। দেশের শাসকগোষ্টির অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, লুটপাট আজ পাটশিল্পকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। অথচ কয়েক দশক ধরে এই শিল্পই বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ ছিল।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে সংগঠনের আহ্বায় এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা ও সমন্বয়ক মো. মহসিন ভুইয়া এসব কথা বলেন।

তারা বলেন, করোনা সংক্রমণের এই দুর্যোগকালে এমনিতেই বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। বিদেশ থেকেও অনেক শ্রমিক কাজ হারিয়ে দেশে ফিরছে। এমনই এক সঙ্কটকালিন পরিস্থিতিতে সরকার সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী পদক্ষেপ নিয়ে ২৫টি রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলে প্রায় ৫৫-৬০ হাজার শ্রমিক কাজ হারাবে। তাদের পরিবার এবং ৪০ লাখ পাটচাষি ও তাদের পরিবার, পাট ব্যবসায়ী মিলে মোট সাড়ে ৩ কোটি মানুষ চরম বিপাকে পড়বে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বন্ধের কারন হিসাবে সরকার বলছে পাটকল লোকসান দিচ্ছে। দেশবাসীর প্রশ্ন লোকসানের জন্য দায়ী কে? সরকারের দুর্নীতি, লুটপাট, ভুলনীতি ও মাথাভারী-অদক্ষ প্রশাসন লোকসানের জন্য দায়ী- শ্রমিকরা নয়। বিদেশে বাজার খোঁজা, পণ্যের বহুমুখীকরণ এসবই মন্ত্রণালয় ও বিজেএমসিসহ প্রশাসনের কাজ। ফলে লোকসানের দায় কোনোভাবেই শ্রমিকেরা নেবে না।

তারা আরো বলেন, করোনা মহামারিতে যেখানে সরকারের পাটকল শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর কথা, সেখানে এ রকম একটি সিদ্ধান্ত সরকারের জনবিচ্ছিন্নতাকেই প্রমান করছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত গণবিরোধী ও জনস্বার্থ পরিপন্থি। সুতরাং পাটকল শ্রমিকদের বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই।

মতামত