দিল্লিতে সংঘর্ষ বন্ধে সব মানুষের মিলিত প্রতিরোধ প্রয়োজন : কৃষক-শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন

0
213

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় অর্ধ শতাধিক মানুষ নিহত ও কয়েকশ মানুষের আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা প্রকাশ করে জাতীয় কৃষক-শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন দিল্লির মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর এই হামলা-অগ্নিসংযোগ অবিলম্বে বন্ধ করার কার্যকর উদ্যোগ নিতে ভারত সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগে বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘকে তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান। একইসাথে ধর্ম-বর্ণ-জাতিগত বিদ্বেষের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ-ভারতের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন সব মানুষের মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানায়।

বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে সংগঠনের আহ্বায়ক এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা ও সমন্বয়ক মো. মহসিন ভুইয়া উদ্বেগ প্রকাশ করে এ আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, গত কয়েকদিনে ভারতের বিভিন্ন স্থানে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে ব্যাপক সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোপূর্বে এ আইনটি নিয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় এবং সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আইনটিকে চ্যালেঞ্জ করে প্রায় ১০০ আবেদন জমা পড়ে। ঘটনার গভীরতায় জাতিসংঘ, ওআইসি, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ইউরোপীয় পার্লামেন্টসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানায়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, দিল্লিতে এই আইনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা চালিয়ে মুসলমানদের হত্যা করা হচ্ছে। তাদের ঘর-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদে আগুন দেয়া হচ্ছে। নিরুপায় মজলুম মুসলিম ভাই-বোনদের আহাজারিতে আজ দিল্লির আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত। রাষ্ট্রীয় মদতে ভারতীয় মুসলমানদের উপর ইতিহাসের জঘণ্যতম হামলার নিন্দা-প্রতিবাদ জানানো ভাষা কারো জানা নাই। ক্ষমতাসীন সরকারের ব্যর্থতার কারণে গত এক দশকের মধ্যে চলমান সহিংসতাকে ভারতে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা বলছে গণমাধ্যমগুলো।

তারা আরো বলেন, দিল্লির এই বর্বর ঘটনার বিরুদ্ধে প্রত্যেকেরই যার যার অবস্থান থেকে বলিষ্ঠ প্রতিবাদ করা প্রয়োজন। তবে পাশাপাশি সকলকে সচেতন থাকতে হবে যে, কোন অশুভ শক্তি যেন আবার এ ঘঁনাকে ব্যবহার করে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির ঐহিত্যকে কোনভাবেই বিনষ্ট করতে না পারে।

নেতৃত্রয় বাংলাদেশ সরকারকে অবিলম্বে ভারতের মুসলমানদের রক্ষায় যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করার আহবান জানান এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মানবিক মানুষকে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ সহিংস ঘটনায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়-স্বজনের প্রতি গভীর সমবেদান জানিয়ে এবং আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে বলে আশা করেন।