দিলদারের মার্সিডিজ গাড়িতেই সিলেটে পালিয়েছিল সাফাতরা

আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের একটি বিলাসবহুল মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি সিলেট থেকে জব্দ করেছেন শুল্ক গোয়েন্দারা। বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হওয়ার পর ওই গাড়িতে করেই সিলেটে পালিয়েছিলেন সাফাত আহমেদসহ চার আসামি। শুল্ক গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে।গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গাড়িটি সিলেটের সাফাতের মামা খলিলুর রহমান মাসুমের বাড়ি সিম্ফনি হাইট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বনানীর ঘটনায় মামলা হওয়ার পর ওই গাড়িতে করেই ঢাকা থেকে সিলেটে গিয়েছিল সাফাতরা।

প্রাথমিক তথ্যে দেখা গেছে, গাড়িটির মালিক দিলদার আহমেদ আর ব্যবহারকারী সাফাত আহমেদ। এটি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চট্রগ্রাম বন্দর থেকে খালাস হয়েছিল। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস থেকে গাড়িটির শুল্ক ফাঁকির দায়ে দাবিনামা জারি করা হয়েছে আগেই।

শুধু তাই নয়, ওই গাড়িতে করেই বনানীর ধর্ষিতা দুই তরুণীকে ঘটনার দিন রেইনট্রি হোটেলে নেয়া হয়েছিল বলেও সন্দেহ করছেন শুল্ক গোয়েন্দারা। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে এর সত্যতা পাওয়া গেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবেন শুল্ক গোয়েন্দারা।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. মঈনুল খান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আমরা সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আপন জুয়েলার্সের বিভিন্ন শাখায় অভিযান চালিয়ে আড়াইশো কোটি টাকার স্বর্ণ উদ্ধার করেছিলাম, যার কোনো বৈধতা নেই। তেমনি সুনির্দিষ্ট আরেকটি তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় সিলেট থেকে একটি মার্সিডিজ গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তীতে জানা যায় এটি আপন জুয়েলার্সের মালিকের গাড়ি। আমরা গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন ও এ্যাকচ্যুয়াল মেনুফেকচারিং ডেটে একটা গ্যাপ পেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, চেসিস নম্বর অনুযায়ী গাড়িটি তৈরি ২০০২ সালে। কিন্তু রেজিস্ট্রেশন কাগজপত্রে এই সাল উল্লেখ আছে ২০১১। বিদ্যমান আমদানি নীতি আদেশ অনুযায়ী ৫ বছরের পুরনো গাড়ি আমদানি নিষিদ্ধ। এছাড়া চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায় বিল অব এন্ট্রি নং ৬৭৪৬৮ (২৫/০৫/২০১১) এর মাধ্যমে খালাসকৃত ৭টি গাড়িতে মোট ৯৩.৫ লাখ টাকা ফাঁকি দেয়া হয়েছে। আটক গাড়িটি ওই ৭টির একটি। গাড়িটিতে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ফাঁকি দেয়া হয়েছে।’

শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, গাড়িটির আনুমানিক মূল্য এক কোটি পঞ্চাশ লাখ টাকা। এটির রেজিষ্ট্রেশন নম্বর: ঢাকা-মেট্রো গ ৩১-৮৮৫৬, চেসিস নম্বর: WDD2120472A444396, ইঞ্জিন নম্বর: 27186030241669, সিসি: 1796, মডেল-2011 (ফিটনেস সনদ অনুযায়ী)।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ মার্চ বনানীর রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে। পুলিশ প্রথমে মামলা নিতে না চাইলেও পরে ৬ মে মামলা গ্রহণ করে। এরপর বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে সারাদেশ। ধর্ষকদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বিবৃতি ও কর্মসূচি পালন করা হয়।

মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদ আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে। আরেক আসামি সাদমান সাকিফ রেগনাম গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- নাঈম আশরাফ (৩০), সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল (২৬) ও দেহরক্ষী রহমত। তাদের প্রত্যেককেই গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত করছে পুলিশের উইমেন সাপোর্ট এন্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ।

মামলা হওয়ার পরই সাফাতসহ চারজন সিলেটে পালিয়েছিল। পরে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হতে পুলিশ সদর দফতর থেকে প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করে পুলিশ। এক পর্যায়ে জানা যায়, তারা সিলেটের মদিনা মার্কেট এলাকার একটি বাসায় অবস্থান করছে। এরপরই তাদের গ্রেফতার করতে ঢাকা থেকে পুলিশের একটি বিশেষ দল সিলেটে যায়। তারা সেখানে গিয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে।

বৈঠকের পর পুলিশ সদর দফতরের গোয়েন্দা দল বৃহস্পতিবার (১১ মে) রাত ৯টায় স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় মদিনা মার্কেট এলাকার রশীদ ভিলা নামের বাড়িটি ঘিরে ফেলে। এরপর সেখানে অভিযান চালিয়ে সাফাত আহামেদ ও সাদমান সাকিফকে গ্রেফতার করা হয়। রাতেই তাদের ঢাকায় ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। তবে আসামিদের আরো দুইজন ওই সময় সিলেটের ভিন্ন ভিন্ন রিসোর্ট আত্মগোপন করে ছিল বলে পরবর্তীতে জানা যায়। ১৫ মে সোমবার রাতে মামলার অপর আসামি সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী রহমত গ্রেফতার হয়। আর সর্বশেষ ১৭ মে মামলার দ্বিতীয় আসামি নাঈম আশরাফকে মুন্সিগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মতামত দিন

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register