breaking news New

দাবি মাদ্রাসা ছাত্রদের পার্কের সম্পত্তি লুট, তাজমহল রোডে ব্যাপক সংঘর্ষ, এলাকা রণক্ষেত্র,

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মোহাম্মদপুরে তাজমহল রোড পার্কে অবৈধভাবে গড়ে তোলা স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে তোপের মুখে পড়ে সিটি করপোরেশনের অভিযানকারী দল। এ সময় মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, স্থানীয় লোকজন এবং সিটি করপোরেশন কর্মীদের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

গতকাল রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাজমহল রোডের সি-ব্লকের খেলার মাঠ ও পার্কের দক্ষিণ পশ্চিম কোনায় ডিএনসিসির দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট একটি টিনশেড উচ্ছেদ করতে গেলে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাজমহল রোড মাঠের একাংশে গড়ে তোলা টিনশেড ঘরটি জামি’আ বাইতুল আমান মিনার মসজিদ ও ইসলামী কেন্দ্রের রান্নাঘর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। ঐ ঘর ভাঙতে গেলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সিটি করপোরেশন কর্মীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। খবর পেয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হয়। এসময় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা সিটি করপোরেশনের কর্মী এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে গরম পানি, মরিচের গুঁড়া ও ইটপাটকেল ছুড়ে মারে। এরপর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও লাঠিসোঁটা নিয়ে মাদ্রাসা ছাত্রদের ধাওয়া দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ইটের আঘাতে এক মাদ্রাসা ছাত্র আহত হয়। প্রায় আধাঘণ্টা ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার পর ডিএনসিসির কর্মকর্তা, পুলিশ ও স্থানীয়রা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। পরে আধাপাকা ঐ ঘরটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চলে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ মাদ্রাসা ছাত্ররা আবারও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ধাওয়া দেয়। এ সময় মাঠে থাকা নির্মাণসামগ্রী ভাঙচুর ও উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারের অস্থায়ী কার্যালয়ও ভেঙে ফেলে শিক্ষার্থীরা।

নাজমুল ইসলাম নামে এক মাদরাসা ছাত্র সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ওই ঘরটিতে প্রায় ৬০০ ছাত্রের রান্নার কাজে ব্যবহৃত হতো। ঘরটির বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলেছিলাম ডিএনসিসিকর্মীদের। কিন্তু তারা আমাদের কথা শুনেনি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাজিদ আনোয়ার সাংবাদিকদের জানান, রাজধানীর মাঠ ও পার্ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তাজমহল রোড মাঠেরও সৌন্দর্যবর্ধন ও সংস্কার কাজ চলছে। আমরা ছয় মাস আগে থেকেই মাদ্রাসা কমিটির লোকজনকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। আলাদা জায়গায় রান্নাঘর তৈরি করে দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, তারা কথা শুনেনি। উচ্ছেদ করতে এলে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম রতন জানান, মাদ্রাসা ছাত্ররা পার্কের নির্মাণ সামগ্রী লুট করে নিয়ে গেছে। ‘ইগো প্রবলেমে‘ মকবুল সাহেব এই কাজে বাধা দিচ্ছে। তিনি মসজিদ কমিটির সভাপতি। আমরা তাদের বলেছি, ঘরটা যেহেতু অবৈধ এটা সরিয়ে নিন। আমরা বিকল্প জায়গায় ভবন করে দিই। উনি নিজেও মেয়রের সঙ্গে কয়েকবার কথা বলেছেন। কিন্তু তারা কোন কথাই শুনছেন না। উনি (মকবুল সাহেব) সেখানে ছিলেন বলে মাদ্রাসার ছাত্ররা হামলা করার সাহস পেয়েছে। আজ যে ওরা ঘটনা ঘটিয়েছে, এরপরে কী হবে আমি জানি না।

অন্যদিকে মসজিদ ও মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি সাবেক সাংসদ মকবুল হোসেন দাবি করেন, ওই মাঠের মালিক সিটি কর্পোরেশন নয়। আমরা এত বেকুব নই যে, কর্পোরেশনের মাঠ দখল করে সেখানে মাদ্রাসা বানাব। এটা গণপূর্তের জায়গা, আমরা ৭২ সাল থেকে এটা ব্যবহার করছি। এটা কমিশনার রতন ও মেয়র আতিককে বলা হয়েছে। আতিক আমাকে জানিয়েছিল এটা ভাঙ্গা হবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও তারা ভুল বুঝিয়েছে, তারা নাকি রাস্তা উচ্ছেদ করতে এসেছে।

সাবেক এমপি মকবুল জানান, মাদ্রাসার ছেলেদের ঘর অন্যায়ভাবে ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, খাওয়ার ঘর ভেঙ্গে দেয়া কি উচিত হয়েছে?

মতামত দিন

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register