টাকা দিয়ে মৃত্যু কেনা : রাউজানের হাটবাজারে চিংড়ীর মাথায় জেলি ডুকিয়ে বিক্রি

এম বেলাল উদ্দিন,রাউজান (চট্টগ্রাম) থেকে :-
রাউজানরে বাজারগুলোতে এখন বড় গলদা চিংড়ী বেশ চোখে পড়ার মতো। দামও তুলনামুলকভাবে কম। তাই স্বল্প ও নিম্ব আয়ের মানুষ তাদরে সাধ মেটাতে এ মাছ কিনে থাকেন। কিছু অসৎ ব্যবসায়ী ওসব চিংড়ী মাছে বিষাক্ত উপাদান মিশাচ্ছে। প্রতারণায় এবার যুক্ত হয়েছে চিংড়ী মাছে জেলি ইনজেক্ট করা। গ্রামীণ হাটবাজার থেকে এসব চিংড়ী কিনে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
বিশেষজ্ঞদের মতে পঁচা মাছ টাটকা দেখাতে ও ওজন বাড়ানোর কৌশল নিয়ে এসব কাজ করছে প্রতারক শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা। এধরণের প্রতারণায় লিপ্তদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না গেলে প্রতিদিন প্রতারণার জাল বিস্তার হতে থাকবে। জেলি দেয়া পঁচা চিংড়ী মাছ খেয়ে মানুষের শরীরে বিভিন্ন ধরণের রোগের সংক্রামন হতে পারে বলে বিভিন্ন চিকিৎসকরা অভিমত দিয়েছে। তারা বলেছেন খাদ্যের মধ্যে থাকা যে কোনোর ধরণের রাসায়নিক পদার্থ মানব শরীরের জন্য কমবেশি ক্ষতিকারক। তাছাড়া মাছের ভিতর কি ধরণের জেলি প্রবেশ করাচ্ছে তা পরীক্ষা না করে কতটুকু ক্ষতিকারক বিষয়টি নির্ণয় করা কঠিন। ক্যান্সারের মতো রোগও এ কারণে হতে পারে। তাদের অভিমত এ যেন টাকা দিয়ে মৃত্যু কেনা।
রাউজানের বেশি চিংড়ী বিক্রি হয় পৌরসভার ফকিরহাট, নোয়াপাড়া পথেরহাট, পাহাড়তলী ও গহিরা চৌমুহনীর বাজারে। ভোর সকালে অন্যান্য মাছের সাথে হাটবাজারের খুচরা চিংড়ী সংগ্রহ করে নোয়াপাড়া ও রাঙ্গুনিয়ার মরিয়মনগর আড়ত সমূহ থেকে। হাটবাজারের খুচরা বিক্রেতাদের দাবি তারা আড়ত থেকে চিংড়ী কিনে এনে খুচরা বিক্রি করে থাকে। এ ধরণের কোনো কাজের সাথে তারা জড়িত নয়। রাউজান পাহাড়তলী চৌমুহনীতে ভাড়া বাসায় থাকেন নোয়াপাড়ার রহমানয়িা এন্টারপ্রাইজের মালকি ব্যবসায়ী ছাদেকুর রহমান। তিনি বলেছেন গত শনবিার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজার থেকে কিনে নিয়েছিলেন এক কেজি ছোট আকারের চিংড়ী। দাম নেয়া হয়েছে ৬’শ টাকা। বাড়ীতে নিয়ে চিংড়ী গুলো রান্নার উপযোগি করতে গিয়ে দেখেন প্রতিটি চিংড়ীর মাথার ভিতর জেলি ঢুকানো। পিচ্ছিল এসব পদার্থ এমন ভাবে লাগানো হয়েছে যা বাইর থেকে দেখলে বুঝা খুবই দুরহ। এমন দশ্য নজরে এলে তিনি ওই বিক্রেতার কাছে এই নিয়ে কথা বলতে যায়। তাকে জবাব দেয়া হয় তারা ওই চিংড়ী গুলো বিক্রির জন্য আনেন রাঙ্গুনিয়ার মরিয়মনগর মাছের আড়ত থেকে। মাছের ভিতর কি দিচ্ছে সরবরাহকারীরা ভাল জানে। এই বিষয়ে কারো ধারণা নেই। বিষয়টি নিয়ে কথা বললে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণি বিদ্যা বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ড.মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন মাছের মধ্যে জেলি ডুকিয়ে দেয়া হয় ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা করতে। জেলি দিলে পঁচা মাছও সতেজ চকচকে দেখায় ওজনেও ভারি হয়। একারণে বিভিন্ন ব্যবসায়ী এই কৌশলে ক্রেতার সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছে।

মতামত দিন

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register