ঝুঁকি এড়াতে ছাদ ভেঙ্গে বাঁশ টিনের ছাউনি

মোঃ সাইফুল উদ্দীন, রাঙামাটি: রাঙামাটি শহরের পৌরসভার নিকটে মৎস্যজীবী সমিতি একটি বরফ কল রয়েছে। যা নির্মাণ করা হয়েছিলো বহু বছর আগে। ২০১৩ সালে ঢাকার সাভারের রানা প্লাজা নামে একটি বহুতল ভবন ধসে পরার পরে রাঙামাটিতে প্রশাসনিক ভাবে আলোচনা করে দেখা যায় রাঙামাটি শহরে এই বরফ কলটি ঝুঁকিপূর্ণ।

এই বিষয়ে জানা যায় ২০/০৬/২০১৩ইং তারিখে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের ততকালিন চেয়ারম্যানের সভা কক্ষে তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মৎস্য সপ্তাহ’১৩ উদযাপন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভায় প্রাসঙ্গিকক্রমে রাঙামাটির সমবায় বরফকলের স্থাপনাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বলে মত প্রকাশ করা হয়। এটা যে মুহুর্তে যেকোন মারাতœক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করা হয়।

এই নিয়ে সে সময়ের রাঙামাটি জেলা ভারপ্রাপ্ত সমবায় কর্মকর্তা মঙ্গল কুমার চাকমা তরিগরি করে সেই দিনই বাংলাদেশ জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ এর উপ-মহাব্যবস্থাপক এর নিকট একটি দরখাস্ত লিখেন। যার স্মারক নং-৭৩৮ তারিখ- ২০/০৬/২০১৩।

এতে তিনি বলেন, ঝুঁকি এড়ানোর লক্ষ্যে রাঙামাটি সমবায় বরফকলের স্থাপনাটি ভেঙ্গে ফেলা অথবা বরফকলটি বন্ধ করে দেয়ার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করার জন্য জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ এর মহাব্যবস্থাপক এর নিকট অনুরোধ করেন।

যার পরিপেক্ষিতে মৎস্যজীবী সমিতির মহাব্যবস্থাপক এর স্বাক্ষররিত ১৭/০৭/২০১৩ সালে স্মারক লিপি নং- বাজামস/ ১৫৮২ (সি)/৪০৮ মোতাবেক সমিতির রাঙামাটির দায়িত্ব প্রাপ্ত ইলেকট্রিশিয়ান আবু তাহের এর নিকট একটা চিঠি পাঠানো হয় এত বলা হয় রাঙামাটি ১০ টন বরফকল ভবন এর ঝুঁকিপূর্ণ ছাদ ভেঙ্গে তদস্থলে ষ্ট্রীল-ট্রাসযুক্ত টিনের ছাউনি দ্বারা সংস্কার কাজের জন্য ইষ্টিমেট দাখিল করতে এবং এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করতে। এই চিঠির একটা অনুলিপি জেলা সমবায় কর্মকর্তার নিকটও দেওয়া হয়।

কিন্তু র্দীঘ দিন হবার পরেও এটা কোন প্রকার ভেঙ্গে ফেলা বা বন্ধ করা হয় নি। পরে তা এই বছরেই দেখা গেছে ঝুঁকি এড়াতে ভবনের ছাদ ভেঙ্গে বাঁশ আর টিন দিয়ে ছাউনি দেওয়া হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে বর্তমান বরফকলের স্বতাধিকারী মোঃ হাসান বলেন, আমি এখানে ভাড়াটিয়ে, আমি বরফ কলটি ভাড়া নিয়ে বরফ কল পরিচালনা করছি। ঝুঁকি সম্পর্কে আমি ভালো ভাবে না জানলেও আমার কাছে নিদের্শ এসেছে ভবনের ছাদ ভেঙ্গে সংস্কর করতে, তাই আমরা বাঁশ আর টিন দিয়ে ছাউনি দিয়েছি।

সমবায় সমিতির জেলা সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঙ্গল কুমার চাকমা বলেন, আমরা সে সময়ে এটা ঝুঁকিপূর্ণ বলে জাতীয় মৎসজীবী সমিতির কাছে দরখাস্ত লিখেছিলাম পরে তারা আবার বলেছে এটাকে ষ্ট্রীল ও টিন দিয়ে ছাউনি দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা গ্রহন করতে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে এটি বাঁশ ও টিন দিয়ে ছাউনি দেওয়া হচ্ছে। যা ঝুঁকি কমাই নি বরং আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

বর্তমান জেলা সমবায় কর্মকর্তা ইউছুফ হাসান চৌধুরী বলেন, আমরাও মৎস্যজীবী সমিতির ভাড়াটিয়ে। আমরা বরফকলের পাশের ভবনটি ভাড়া নিয়ে আমাদের অফিস’র কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকি। কিন্তু বরফ কলটি আমাদের পাশে বলে এবং এটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমার আগের কর্মকর্তাও আবেদন করেছে। কিন্তু এর কোন পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহন করা হয় নি। আমিও আবেদন করবো এটার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহন করতে, কারণ এটার জন্য মারাতœক কোন দূঘটনা যে কোন মুহুতে ঘটতে পারে।

 জাতীয় মৎসজীবী সমিতি লিঃ এর জেনারেল ম্যানেজার ফকরুল ইসলাম এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি এখনো সরে জমিনে এটা দেখি নি। আসলে আমি সবে মাত্র দায়িত্ব গ্রহন করেছি, তাই যাওয়া সম্ভব হয় নি। তবে রাঙামাটি এলে ভবনটি পরিদর্শন করবে বলেও তিনি জানান।

এই বিষয়ে রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তানভির আজম সিদ্দিকী বলেন, এই বিষয়ে আমার সঠিক জানা নেই। তবে এমটি হলে আমরা প্রশাসন থেকে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

তিনি আরো বলেন, মানুষের জান-মালের ক্ষতি হয় এমন কিছু হলে প্রশাসন বসে থাকবে না। যে কোন পর্যাপ্ত প্রদক্ষেপ গ্রহন করবে বলেও তিনি জানান।

Print Friendly, PDF & Email
 

0 Comments

Leave a Reply

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

%d bloggers like this: